ঢাকা, বুধবার, ১২ বৈশাখ ১৪২৫, ২৫ এপ্রিল ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

শীতে ঘুরে এলাম চায়ের দেশে

তাইফুর রহমান তমাল : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-১২-২৮ ২:১৩:০২ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১২-২৮ ২:৫৫:৫৫ পিএম

তাইফুর রহমান তমাল : শীতে একটু উষ্ণতা পেতে চা-পান করেন না এমন মানুষ খুব কম। চা-পান যদি হয় চায়ের দেশে তাহলে তো কথাই নেই। সব মিলিয়ে সেটি হয়ে ওঠে এক অসাধারণ মুহূর্ত। সেই মুহূর্তের স্বাদ নিয়ে এলাম কয়েকদিন আগে।

৭ জনের টিম নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। উদ্দেশ্য জাফলং। মাঝে বোনাস হিসেবে চা বাগানে ঢুঁ মারব। পান করব গরম চা। পূর্ব নির্ধারিত দিনে আমরা প্রয়োজনীয় সব গুছিয়ে নিয়ে রওনা হলাম। মতিঝিল থেকে হানিফ পরিবহনের গাড়ি আমাদের নিয়ে শা শা বেগে ধেয়ে চলল সিলেটের পানে। ঢাকায় শীত একটু কম থাকায় বুঝতে পারিনি ঢাকার বাইরে অবস্থা কেমন হতে পারে! তবে দ্রুত এটা আমাদের বোধগম্য হলো যখন বাস শীতলক্ষ্ম্যা ব্রিজ অতিক্রম করল। সবাই শীতের পোশাক পরে নিলাম। মাঝে জগন্নাথপুরে যাত্রা বিরতী। এরপর পুনরায় বাস চলতে লাগল সিলেটের পথে।

পরদিন সকালে আমরা যাত্রা করলাম জাফলংয়ের উদ্দেশ্যে। ঘণ্টাদেড়েকের মধ্যে আমরা পৌঁছলাম কাঙ্খিত জায়গায়। জাফলং সিলেট শহর থেকে ৬৬ কি.মি. দূরে অবস্থিত। বাস অথবা সি.এন.জি. অথবা মাইক্রোবাস ভাড়া করে যেতে পারেন। ভাড়া গাড়িতে সুবিধা-অসুবিধা দুই-ই আছে। এক্ষেত্রে আপনি বেড়ানোর জন্য কম সময় পাবেন এবং ড্রাইভার আপনাকে কম জায়গা দেখানোর চেষ্টা করবে। যদি বাসে যেতে চান তাহলে সিলেটের সোবানিঘাট ও কদম তলা বাসস্ট্যান্ড থেকে সরাসরি জাফলংয়ের বাস পাবেন। আমরা যে সময় গিয়েছিলাম তখন রাস্তার কাজ চলছিল। ফলে বেশি সময় লেগেছিল। সাথে ভাড়াটাও একটু বেশি। তবে স্বাভাবিক বাস ভাড়া ৫০ টাকা।



আমরা মামার বাজারে নেমে গেলাম। সেখান থেকে মারি নদী অর্ধ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। আমরা হেঁটেই সেখানে গেলাম। নদীতে চোরা বালি থাকায় এখানে খুব সাবধানে থাকতে হবে বলে আমরা আগেই জেনেছিলাম। নরম বালি দেখলে সেখানে পা না দেয়াটাই ভালো। আপনি সেখানে পৌঁছামাত্র অনেক মাঝি নৌকা করে চা বাগান ও জিরো পয়েন্টে নিয়ে যাবার জন্য ডাকবে। কিন্তু আপনার হাতে সময় থাকলে এভাবে না ঘুরে আপনি পারাপারের নৌকায় করে নদী পাড় হয়ে ও-পাড় চলে যাবেন। সেখানে কিছুদূর হাটলেই রিকশা ও ভটভটি পাবেন ঘুরে বেড়ানোর জন্য। এখান থেকে চা বাগান, খাসিয়া রাজবাড়ি ও খাসিয়া পল্লী ঘুরিয়ে দেখানোর জন্য ১০০-১২০ টাকায় রিকশা পেয়ে যাবেন। খাসিয়াপল্লীতে ছবি ওঠানো নিষেধ। তবে সেখানে ঐতিহ্যবাহী কিছু কাপড় পাওয়া যায়। সেগুলো নিতে পারেন কম দামে। রাজার বাড়ির পাশেই একটি দোকানে তাদের ঐতিহ্যবাহী বেশ কিছু রান্নাও পাওয়া যায়। সেগুলোও খেয়ে দেখতে পারেন। পুঞ্জির শেষে একটি বড় আয়তনের চা-বাগান আছে। সেটিও দেখতে পারেন। শীতে চা বাগান সত্যি সুন্দর দেখায়।

যদিও জাফলংয়ে শীত ও বর্ষা মৌসুমের সৌন্দর্যের রূপ ভিন্ন। শীতের সময় পানি কম থাকায় স্বচ্ছ পানিতে তাকালেই দেখা যাবে নিজে রং বেরঙের পাথর। ট্রলার নিয়ে একটু ভিতরের দিকে গেলে পাওয়া যাবে বাংলাদেশ-ভারত বর্ডার। সীমান্তের ও-পাড়ে ভারতের পাহাড় টিলা, ডাউকি পাহাড় থেকে অবিরাম ধারায় প্রবাহমান জলপ্রপাত, ঝুলন্ত ডাউকি সেতু, পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ পানি, উঁচু পাহাড়ে গহীন অরণ্য ও নীরবতার কারণে এলাকাটি আমাদের দারুণ মোহাবিষ্ট করে দিয়েছিল। আর জাফলং গেলে সাথে একজোড়া শুকনো কাপড়ও নিয়ে যেতে হবে। কারণ ওখানকার শীতল পানিতে একটু গোসল করার ইচ্ছা দমিয়ে রাখা কষ্ট। এখানে আপনি কিছু পাথরের সামগ্রী কেনাকাটা করতে পারেন। দামাদামি করে কিনলে জিতবেন। সারাদিন জাফলাং-এ কাটিয়ে যখন শহরের দিকে ফিরছিলাম তখন রাস্তায় জৈন্তাপুর গৌর গোবিন্দ রাজপ্রাসাদ। এর সাথেই আছে জৈন্তা রানীর বাড়ি আর দিঘি। ১৮ শতকের জৈন্তা রাজবংশের রাজাদের বাসভবন ছিল এই প্রাসাদ৷ জৈন্তাপুর ছিল তখন রাজধানী। অল্প কিছু নিদর্শন এখনো আছে। এরপর হেঁটে ১০ মিনিটে আমরা টকফল গবেষণা কেন্দ্রে গেলাম। সেখানে কিছু সময় ব্যয় করে আমরা চলে এলাম হোটেলে।



যেভাবে যাবেন: ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে বাস ছেড়ে যায় মহাখালী, গাবতলী এবং সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে৷ ভাড়া এসি ৮০০, নন এসি ৪২০ টাকা। বাংলাদেশ রেলওয়ের সিলেটের ইন্টারসিটি ট্রেন আছে। কালনি এক্সপ্রেস (বিকেল ৩টা), পারাবত এক্সপ্রেস (সকাল ৬ টা ৪০ মি), উপবন এক্সপ্রেস (রাত ৯ টা ৫০ মি), জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস (দুপুর ১২ টা)৷ এর মধ্যে পারাবত মঙ্গলবার এবং উপবন বুধবার বন্ধ থাকে৷ অন্য দুইটি সপ্তাহে ৭ দিনই চলে৷ এ ছাড়াও একটি মেইল ট্রেন আছে সুরমা মেইল। ট্রেনে সময় লাগবে ৭-৮ ঘণ্টা। টিকেটের দাম: এসি বার্থ ৬৯৮ টাকা, এসি সিট ৪৬০ টাকা, ফার্স্ট ক্লাস বার্থ ৪২৫ টাকা, ফার্স্ট ক্লাস সিট ২৭০ টাকা, স্নিগ্ধা ৪৬০ টাকা, শোভন চেয়ার ১৮০ টাকা, শোভন ১৫০ টাকা, সুলভ ৯৫ টাকা।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৮ ডিসেম্বর ২০১৭/তারা

Walton Laptop
 
   
Walton AC