ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ আশ্বিন ১৪২৫, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

পাহাড় চূড়ায় শান্তির প্রতীক

গাজী মুনছুর আজিজ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৮-২৯ ৬:০৩:৩৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৮-২৯ ৬:০৮:১০ পিএম

গাজী মুনছুর আজিজ : বেশ কিছুটা পাহাড়ি পথের সিঁড়ি বেয়ে আসি ‘বিশ্ব শান্তি’ নামক প্যাগোডার আঙ্গিনায়। ‘শান্তি স্তুপা’ নামেও এটি পরিচিত। পোখারার ফেওয়া লেকের পাশের পাহাড় চূড়ায় এ প্যাগোডা। চারপাশে আরও অনেক পাহাড় আছে; সবজু গাছগাছালি ঘেরা এসব পাহাড়ের মাঝে সাদা রঙের এ প্যাগোডা যেনো শুভ্রতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ভ্রমণসঙ্গী সাইক্লিস্ট আবুল হোসেন আসাদসহ প্যাগোডার আঙ্গিনায় যখন আসি তখন দুপুর গড়িয়ে বিকেল। তাই পর্যটকের বেশ ভিড়ও আছে।

পাহাড়ের চূড়ায় লম্বাটে এক চিলতে সমতল জায়গা; তারই একপাশে প্যাগোডার অবস্থান। আর বাকি অংশটুকু সাজানো নানা রঙের নানা প্রজাতির ফুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ দিয়ে। গোলাকার এ প্যাগোডার দুইটি স্তর আছে। আমরা সিঁড়ি বেয়ে প্রথম স্তরে উঠি। রেলিং দেওয়া এ স্তরের চারপাশে হাঁটার জায়গা আছে। চারপাশ ঘুরে সিঁড়ি বেয়ে উঠি দ্বিতীয় স্তরে। প্রথম স্তর মাটি থেকে যতোটা উঁচু; প্রথম স্তর থেকে দ্বিতীয় স্তর তার চেয়ে কিছুটা কম উচুঁতে। মূলত দ্বিতীয় স্তরেই মূল প্যাগোডা। প্যাগোডা নির্মাণের ইতিহাস ঘেঁটে জানা গেল, জাপানি নিপনজান মায়োহোজি সংস্থা থেকে বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের দ্বারা নির্মিত এ প্যাগোডা লম্বায় ১১৫ ফুট। আর ব্যাস ৩৪৪ ফুট। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১,১০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এ প্যাগোডা। এটি খোলা হয় ১৯৯৯ সালে।

গম্বুজ আকৃতির প্যাগোডার একেবারে উঁচুতে সোনালি রঙের স্তম্ভ। এছাড়া প্যাগোডার গায়ে চার স্থানে বসানো আছে বৌদ্ধ মূর্তি। এসব মূর্তিও সোনালি রঙের। কিছুক্ষণ প্যাগোডার চারপাশ ঘুরে নিচে নেমে আসি। পাহাড় চূড়ার এ প্যাগোডার পুরো আঙ্গিনার চারপাশই রেলিং দেওয়া। যাতে কেউ অসাবধানতাবশত না পড়ে যায়; কারণ পড়ে গেলেই মহাবিপদ। আঙ্গিনাজুড়ে বেশ কয়েকটি পাকা করা বসার স্থান আছে। দর্শনার্থীদের কেউ কেউ এসব স্থানে বসে বিশ্রাম নিচ্ছেন। এছাড়া প্যাগোডা আঙ্গিনায় আরও আছে নিপনজান মায়োহোজি জাপানিজ বৌদ্ধ টেম্পল বা মন্দির। প্যাগোডার দিকে মুখ করে ডানপাশে তাকালে পাখির চোখে দেখা হয় ফেওয়া লেক ও পোখারা শহর। এছাড়া এ পাশ থেকে হিমালয় পর্বতমালা বিশেষ করে অন্নপূর্ণা পর্বতের প্যানারোমিক ভিউ ও ফিশটেইল বা মচ্ছপুচ্ছ পর্বতও দেখা যায় দারুণভাবে।

প্যাগোডা আঙ্গিনা থেকে বের হলেই আছে একাধিক রেস্টুরেন্ট। এ রেস্টুরেন্টগুলোও পাহাড় চূড়ার ভাঁজে ভাঁজে। প্যাগোডা দর্শন করে অনেক দর্শনার্থী এসব রেস্টুরেন্টে বসেছেন চা-কফি খেতে। আমরাও একটা রেস্টুরেন্টে বসি চা খেতে। রেস্টুরেন্টের পাশাপাশি আছে ছোট ছোট অনেক দোকান। এসব দোকানে সাজানো আছে নানা রঙের পাথর ও পুতির মালাসহ বিভিন্ন গহনা, রেশমি পোশাক, কাসা-পিতলের মূর্তি, নেপালের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পণ্যসহ বিভিন্ন পর্যটন স্মারক।



চা খেয়ে হাঁটতে হাঁটতে নিচে নেমে আসি। নিচ থেকে শুধু প্যাগোডাটির উপরের অংশটুকু দেখা যায়। নিচের এ অংশটুকু মূলত গাড়ি রাখার জায়গা। যারা প্যাগোডা দেখতে আসেন তারা এখানে গাড়ি রেখে তারপর হেঁটে উঠেন প্যাগোডা দেখতে। আমাদের ভাড়া করা গাড়িও এখানে ছিল। এ গাড়িতে করে অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা আসি ডেভিস ঝরনা। এটা পোখারা শহরের ভেতরেই। টিকিট প্রতিজন ৩০ রুপি। ১৯৬১ সালের ৩১ জুলাই সুইস তরুণী ডেভিস তার স্বামীকে নিয়ে এ ঝরনায় নামেন গোসল করতে। কিন্তু অসাবধানতাবশত ডেভিস ঝরনার পানির স্রোতে ভেসে যান। পরে তাকে মৃত উদ্ধার করা হয়। সেই থেকে এ ঝরনার নামকরণ ডেভিস করা হয়েছে। দুই পাহাড়ের ফাঁক গলে প্রবাহিত এ ঝরনার দৈর্ঘ্য প্রায় ৫০০ মিটার। আর এর গভীরতা প্রায় ১০০ ফুট। জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে এ ঝরনার প্রবাহ বেশি থাকে। যদিও আমরা এসেছি ফেব্রুয়ারি মাসে। তবে পানির প্রবাহ ঝরনায় এখন কিছুটা কম হলেও সৌন্দর্যের কোনো কমতি নেই।

ঝরনার আঙ্গিনায় বৈঠকখানা আছে। আরও আছে বৌদ্ধ মূর্তি। কিছুক্ষণ এখানে থেকে আসি গুপ্তেশ্বর মহাদেব গুহা। এটি ডেভিস ঝরনার ঠিক বিপরীতে পথের পাশেই। পাহাড়ি এ গুহার ভেতর মন্দির আছে। ভ্রমণসঙ্গী আসাদ ভাই এই গুহায় ঢুকতে নারাজ। তাই আমি একাই প্রবেশ করি। টিকিট ১০০ রুপি। গুহার প্রবেশ মুখের দেয়ালে আছে বিভিন্ন মূর্তির ম্যুরাল। সিঁড়ি বেয়ে গুহায় নামতে থাকি। আলো আছে, তারপরও গুহার ভেতর কেমন যেনো গা ছমছম করছে। মন্দির দেখে গুহা থেকে যখন বের হই, ততক্ষণে নেপালের উঁচু উঁচু পাহাড় চূড়া থেকে সূর্য বিদায় নিয়ে সন্ধ্যা এসেছে।

 

ছবি : লেখক



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৯ আগস্ট ২০১৮/তারা

Walton Laptop
 
     
Walton