ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১ ভাদ্র ১৪২৫, ১৬ আগস্ট ২০১৮
Risingbd
শোকাবহ অগাস্ট
সর্বশেষ:

ফ্লোরিডায় শুভেচ্ছা বৃষ্টি

উদয় হাকিম : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৮-০৮ ১১:০৯:২৩ এএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৮-০৮ ১:৪৮:৩৩ পিএম
আমেরিকার মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের পথে প্রতিপক্ষের উইকেট নিয়ে টাইগারদের উল্লাস

উদয় হাকিম, ফ্লোরিডা (আমেরিকা) থেকে : আমেরিকার মাটিতে সিরিজ জেতার পর শুভেচ্ছা বৃষ্টিতে ভিজেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। স্টেডিয়াম এবং হোটেলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। স্থানীয় বাংলাদেশিরা একে অপরকে মিষ্টি খাইয়েছেন। বিজয় উদযাপন করেছেন প্রিয়জনদের নিয়ে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজ জেতায় তারা খুবই খুশি।

ফ্লোরিডার মাটিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজে পরপর দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ জয় করে সাকিব বাহিনী। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে সেন্ট কিটসে হেরেছিল বাংলাদেশ। তাই সিরিজ জিতে পরের দুটি ম্যাচই জেতার তাড়না ছিল। প্রবাসী বাংলাদেশিরা কিছুটা শঙ্কায় ছিলেন। কারণ কিছুদিন আগেই আফগানিস্তানের কাছে ধবলধোলাই হয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সকলের প্রত্যাশা পূরণ করে টি-টোয়েন্টির বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের পরপর দুই ম্যাচে হারিয়ে দাপটের সঙ্গে সিরিজ নিজেদের করে  নেয় বাংলাদেশ।

রোববার শেষ ম্যাচটিতে অবশ্য দুইবার হানা দিয়েছিল বৃষ্টি। প্রথমবার বাংলাদেশের ইনিংসের শেষের দিকে। কিছুক্ষণ পর অবশ্য খেলা শুরু হয়েছিল। দ্বিতীয়বার ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংসের শেষের দিকে। বাকি ছিল মাত্র ১৭ বল। কিন্তু শেষবার বৃষ্টির কাছে হারিয়ে যায় ওই ১৭ বল। ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে জিতে যায় বাংলাদেশ।
 

লডারহিলের ম্যারিয়ট নর্থ হোটেল। এখানেই ছিল বাংলাদেশ দল

 

ফ্লোরিডার লডারহিল স্টেডিয়ামে তৃতীয় ম্যাচের শুরুটা করেছিল বাংলাদেশ স্বপ্নের মতো। প্রথম বলে লিটনের উইলো থেকে আসে চার। শুরু থেকেই ধুন্ধুমার মেরেছেন লিটন আর তামিম। স্কোরটা দুইশ ছাড়িয়ে যাবে বলেই মনে হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত তা না হলেও ১৮৪ রানের মজবুত ভিত পায় বাংলাদেশ।
পক্ষান্তরে শুরু থেকেই রান আর আস্কিং রান রেটের সঙ্গে কঠিন লড়াই করতে হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। সাকিবের চৌকস অধিনায়কত্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজের টুঁটি ভালো করেই চেপে ধরেছিল বাংলাদেশ। শেষ ১৭ বলে তাদের দরকার ছিল ৫০ রান। বলা চলে অসম্ভবই ছিল। কিন্তু বৃষ্টি সে হিসেবও সহজ করে দিল বাংলাদেশকে। জায়ান্ট স্ক্রিনে দেখাচ্ছিল ডিএল মেথড অনুযায়ী তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দরকার ১৫৪।

আগেরবার বৃষ্টি ছিল হালকা। পরেরবার ভারি। মিনিট পনেরো পরে ড্রেসিং রুমে খবর এলো খেলা আর হচ্ছে না। জিতে গেছে বাংলাদেশ। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খেলোয়াড়েরা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করেই উল্লাস করতে মাঠে ঢুকলেন। কেন? স্টাম্প নিতে। এমন একটা সিরিজে স্টাম্প তো অব্যশই স্মরণীয় কিছু। তারপর আবার আমেরিকার মাটিতে। এজনই সবাই বলছিল এই সিরিজ শুধু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয় নয়; এটা বাংলাদেশের আমেরিকা-জয়ও।
 

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটার আন্দ্রে রাসেলের হাতে ‘ওয়ালটন স্মার্ট প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ’ পুরস্কার তুলে দিচ্ছেন লেখক


মাঠভরা প্রবাসী বাংলাদেশিরা তখনো গ্যালারিতে। খেলোয়াড়েরা মাঠ প্রদক্ষিণ করে দর্শকদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। অনেকে হাত মেলান, কোলাকুলি করেন। স্টেডিয়ামের ভেতরে বাইরে তখন বাংলাদেশিদের আনন্দ, উল্লাস। নেচে গেয়ে যে যেভাবে পারেন বিজয় উদযাপন করছেন।

স্টেডিয়ামের প্রেসিডেন্ট বক্সে অন্যদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জিয়াউদ্দিন আহমেদ। কিছুক্ষণ পর আমরা নামছিলাম মাঠে। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের জন্য। ওয়ালটনের প্রতিনিধি হিসেবে এসেছি শুনে তিনি উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলেন। কিন্তু আবার বৃষ্টি। কী আর করা। পুরস্কার বিতরণীর ব্যাকড্রপ নিয়ে আসা হলো ভেতরে। ড্রেসিং রুমের সামনে।
 

ফ্লোরিডাবাসী নুরুল হকের পরিবারের সঙ্গে লেখক

 

ওদিকে ড্রেসিং রুম থেকে গানের শব্দ আসছে। আমরা করব জয়। বৈপরিত্য চোখে পড়ল। আফগানিস্তানের সাথে প্রতিটি ম্যাচ হারের পর বাংলাদেশের ড্রেসিং রুম ছিল নীরব নিথর। কিন্তু এখানে শব্দ করে কোরাস গাইছেন খেলোয়াড়েরা।

ছোট্ট জায়গায় হলো পোস্ট ম্যাচ প্রেজেন্টেশন। একগাদা পুরস্কার। অতিথিদের দীর্ঘ লাইন। লিটন, আন্দ্রে রাসেল, তামিম, সাকিব সবাই পুরস্কার পেলেন। ট্রফি নিয়ে মাঠে গিয়ে গ্রুপ ছবি তুললেন।

বাইরে বৃষ্টি হচ্ছিল। অনেকে তখনো দাঁড়িয়ে। খেলোয়াড়দের একনজর দেখার জন্য। আমি প্রেসিডেন্ট বক্সের বাইরে যেতেই পরিচিতরা জড়িয়ে ধরলেন। শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন।

মধ্যরাত পেরিয়ে গেলে খেলোয়াড়েরা হোটেলে ফেরেন। কিন্তু তাদের রুমে যাওয়া হলো না। সেখানে ফুল আর মিষ্টি নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। শুভেচ্ছা বৃষ্টি। তাতে ভিজে তবেই যেতে পারলেন ক্রিকেটাররা।
 
জ্যামাইকা থেকে আসা সাবেক ক্রিকেট কর্মকর্তা শিবলী ছিলেন ওই হোটেলেই। লডারহিলের ম্যারিয়ট নর্থে। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার কথা ভেবে তখন কাউকে ভেতরে যেতে দেওয়া হচ্ছিল না। হোটেল লবিতে ক্রিকেটারদের শুভেচ্ছা বিনিময় চলছিল। ছবি তোলার যেন ধূম পড়ে যায়। সেটা হবেই বা না কেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে এমন উপলক্ষ্য তো এবারই প্রথম।
 

প্রবাসী নিয়ামুল হুদার বাসায় লেখকসহ অন্যরা


পরের দিন ক্রিকেটারদের যাওয়ার সময়ও একই অবস্থা। সকাল থেকেই হোটেলে ছিল প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভিড়।

এদিকে ফ্লোরিডার ঘরে ঘরে ছিল অন্যরকম উৎসব। এই বিজয়ে সবাই ভীষণ খুশি। অনেকে বন্ধু-বান্ধব এবং আত্মীয়দের দাওয়াত করে খাইয়েছেন। বাংলাদেশিদের মুখে কেবল একই কথা- তারা খুবই হ্যাপি।

নুরুল হক নামে এক ভদ্রলোক আমাদের দাওয়াত করেছিলেন দুপুরে। বিকেলে দাওয়াত ছিল জামালপুরের যুবক নিয়ামুল হুদার বাসায়। নুরুল হকের পুরো পরিবার আনন্দিত। তারা দুদিনই মাঠে গিয়ে খেলা দেখেন। নুরুল হক জানালেন, এটা অফুরন্ত আনন্দের ব্যাপার। কেন? উত্তরে বললেন, প্রথমবারের মতো মাঠে বসে সরাসরি বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলা দেখলাম। আমেরিকার মাটিতে! আবার দুটি ম্যাচই জিতলাম। সিরিজও জিতলাম। এখন আমেরিকানদের কাছেও ইজ্জত পাচ্ছি। বাংলাদেশি হিসেবে এটা অনেক সম্মানের এবং আনন্দের। বললেন, বাংলাদেশ থেকে এসেছেন। আসেন সবাই মিলে একটা ছবি তুলি।

নিয়ামুল হুদার বাসায় গেলে আপ্যায়ন করা হয় আমাদের। সঙ্গে ছিলেন সময় টিভির নিউ ইয়র্কের বিশেষ প্রতিনিধি হাসানুজ্জামান সাকি আর বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অফিসিয়াল ফটোগ্রাফার রতন গোমেজ। আপ্যায়ন শেষে সেখানেও ফটো সেশন হলো।

নিয়ামুল হুদা বললেন, এটা কল্পনাও করি নাই বাংলাদেশ এভাবে দুই ম্যাচেই হারাবে ওদের। এটা আমার এবং আমার পরিবারের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি বললেন, প্রমাণ হলো আমেরিকার মাটি বাংলাদেশের জন্য পয়মন্ত।


 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/৮ আগস্ট ২০১৮/অগাস্টিন সুজন/পরাগ

Walton Laptop
 
     
Walton