ঢাকা, বুধবার, ৪ পৌষ ১৪২৫, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

ফ্লোরিডায় ব্র্যান্ড বাংলাদেশ

উদয় হাকিম : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৮-১১ ৫:২২:৫২ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৮-১১ ৫:২২:৫২ পিএম
আমেরিকার মাঠে ওয়ালটনের লোগো সম্বলিত পেরিমিটার বোর্ড, বাউন্ডারি রোপ। তামিম-সাকিব জুটির অনবদ্য ব্যাটিংয়ের মাঝে বিসিবির ফটোগ্রাফার রতন গোমেজের ক্লিক

উদয় হাকিম, ফ্লোরিডা (আমেরিকা) থেকে: আমেরিকার মাটিতে ক্রিকেট! বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফ্লোরিডার লাউডারডেলের আবহাওয়া ঠিক বাংলাদেশের মতোই। দর্শকরাও সব আমেরিকা প্রবাসী বাংলাদেশি। বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ধ্বনিতে মুখর ছিলো পুরো স্টেডিয়াম। মার্কিনীরাও দেখেছেন, আমেরিকান হয়েও কত ভালোবাসে এরা মাতৃভূমিকে। তবে সব ছাপিয়ে দর্শকদের দৃষ্টি কেড়েছে আরেকটি বিষয়। সেটি হচ্ছে মাঠের সব স্পন্সর বাংলাদেশি। সবগুলো ব্র্যান্ডই বাংলাদেশের। শুধু ক্রিকেট নয়, এর মাধ্যমে ব্র্যান্ডিং হলো দেশেরও। লাল সবুজ বাংলাদেশের।

একটা সময় ছিলো যখন ফুটবল ক্রিকেটের মতো বিশাল পরিসরের খেলাগুলো ছিলো বিদেশি স্পন্সরের দখলে। আমরা টেলিভিশনে খেলা দেখতাম; আর দেখতাম কোকাকোলা, পেপসি, নাইকি, এডিডাস, জিলেট, সনি, স্যামসাং, এলজি ইত্যাদি নানা আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের বোর্ড। তখন ভাবতাম এই কোম্পানিগুলো না জানি কত বড়। বছর কয়েক আগেও ‘মাল্টি ন্যাশনাল’ শব্দটি শোনাতো অনেক প্রেস্টিজিয়াস। কিন্তু সেখানে বাংলাদেশি কোনো ব্র্যান্ড ছিলো না। এমনকি গার্মেন্ট তৈরিতে আমরা বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশ হলেও আমাদের সেরকম কোনো ব্র্যান্ড নেই। অন্যদের পণ্য আমরা তৈরি করে দিই। নিজেদের নামে চালানোর মতো ব্র্যান্ড হয়নি এখনো।
 

ওপেনার তামিম ইকবালের ছক্কা বিনোদন দিয়েছে বাংলাদেশি দর্শকদের। আর ক্রিকেট ব্র্যান্ডিংয়ে তাদের গর্বিত করেছে দেশীয় স্পন্সররা


অথচ গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের কয়েকটি ব্র্যান্ড দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে চলে গেছে আন্তর্জাতিক পরিম-লে। যার মধ্যে সবার আগে আসে ওয়ালটনের কথা। ওয়ালটন এখন মাল্টি ন্যাশনাল ব্র্যান্ড। বিশ্বের ২০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি হচ্ছে ওয়ালটনের পণ্য। আর যাই হোক, বিশ্বের যেখানেই বাংলাদেশিরা থাকুন না কেন, সবাই ওয়ালটনের নাম জানেন। নামটিকে দেখেন সম্মানের চোখে। বলা চলে, ব্র্যান্ড বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছে ওয়ালটন। কয়েকটি ব্র্যান্ড আছে যারা ওয়ালটনের চেয়েও বেশি দেশে রপ্তানি করছে, কিন্তু ব্র্যান্ড ভ্যালু তৈরির ক্ষেত্রে তারা পিছিয়ে।

ক্রিকেটের সঙ্গে প্রায় বছর দশেক হলো ওয়ালটনের পথচলা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টানা ৮ বছর ধরে পৃষ্ঠপোষকতা করে যাচ্ছে তারা। ঘরোয়া ক্রিকেটের বড় সবগুলো টুর্নামেন্টের পৃষ্ঠপোষক ওয়ালটন। শুধু আন্তর্জাতিক পরিচিতির জন্য নয়, ক্রিকেটার তৈরির ক্ষেত্রগুলোতেও তাদের সদর্প উপস্থিতি। এরমধ্যে দেশের বাইরে বেশ কয়েকবার হয়েছে টাইটেল স্পন্সর। বাংলাদেশের ব্র্যান্ড বিদেশের মাটিতে প্রধান স্পন্সর হচ্ছে! বিষয়টি ভাবতেই গর্ববোধ হবে যে কোনো বাংলাদেশির। তবে শতভাগ বাংলাদেশি স্পন্সরের বেলায় প্রথমেই আসে জিম্বাবুয়ের কথা। এরপর আয়ারল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড এবং দেরাদুনে ভারতের মাটিতে দেখা গেছে।
 

মাঠে খেলা দেখতে আসা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে লেখক


এবার আমেরিকার মাটিতে দেখা গেলো সবগুলো বাংলাদেশি স্পন্সর। মাঠে দু একটা পেরিমিটার বোর্ড ছিলো অন্য ব্র্যান্ডের। কিন্তু সেগুলো আসলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের অফিসিয়াল স্পন্সর। এরকমটা থাকে প্রত্যেক বোর্ডেরই।

ফ্লোরিডার মাঠে দেখা গেলো ওয়ালটন, আইপে, মার্সেল, মিনিস্টার, বিবিএস ক্যাবল ইত্যাদি স্পন্সরকে। স্টেডিয়ামের সাইট স্ক্রিন, পেরিমিটার বোর্ড, বাউন্ডারি রোপ, মিড উইকেট ম্যাট, বোলিং ম্যাট, স্ট্যাম্প ব্র্যান্ডিং সবকিছুতেই ছিলো দেশি ব্র্যান্ড।

মাঠে বাংলাদেশি ব্র্যান্ডগুলোর উপস্থিতিতে গর্ববোধ করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। সিরিজ শেষে পোস্ট ম্যাচ প্রেজেন্টেশনের ঠিক আগে কথা হলো যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জিয়াউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে। ওয়ালটনের ভূয়সী প্রশংসা করলেন। বললেন, ‘আমি জানি ওয়ালটন খুবই ভালো করছে। আমি সবার মুখেই তাদের প্রশংসা শুনেছি। বাংলাদেশি ব্র্যান্ড হিসেবে ওয়ালটন খুবই ভালো করছে। ওয়ালটনের এগিয়ে চলা সত্যিই ইন্সপায়ারিং। আশা করি ওয়ালটন আরো ভালো করবে’। টি টোয়েন্টি সিরিজের শেষ দুটি ম্যাচ শুরুর আগেই তিনি খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিতে ওয়াশিংটন ডিসি থেকে ফ্লোরিডায় এসেছিলেন। ফ্লোরিডার প্রথম ম্যাচের আগের দিন অংশ নিয়েছেন স্থানীয় কমিউনিটি আয়োজিত মিট অ্যান্ড গ্রিট প্রোগ্রামে। যেখানে উপস্থিত ছিলেন সাকিব, তামিম, মুশফিক, মাহমুদুল্লাহ এবং মিরাজ।

শিবলী নোমানি। দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকায় থাকেন। ক্রিকেটের ভক্ত। বন্ধুবান্ধবসহ খেলা দেখেছেন গ্যালারিতে বসে। বললেন, মাঠে ওয়ালটনের উপস্থিতি দেখে ভীষণ ভালো লেগেছে। এটা অন্যরকম প্রাউডনেস। অন্য ব্র্যান্ডগুলোও বাংলাদেশের। দেশের এতোগুলো প্রোডাক্ট আসছে আন্তর্জাতিক পরিম-লে। এটা প্রমাণ করছে যে, বাংলাদেশের বিজনেসের আপডেট হয়েছে। অনেক এগিয়ে গেছি আমরা। আরও এগিয়ে যাক ব্র্যান্ড বাংলাদেশ।

ফুট লাইডারডেলের পাম বিচের বাসিন্দা জুয়েল। বলা চলে স্থানীয় বাংলাদেশিদের মধ্যে নাম করা বিজনেসম্যান। গ্যাস স্টেশন, রিয়েল এস্টেট ইত্যাদি ব্যবসা আছে তার। খেলা দেখেছেন স্ত্রী সন্তানসহ। তিনি প্রথমেই বাংলাদেশ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডকে ধন্যবাদ জানান। তার উপলব্ধি, এই দুই বোর্ডের উদ্যোগ না থাকলে আমেরিকার মাটিতে এরকম বাংলাদেশকে দেখার সুযোগ হতো না। তিনি বলেন, এক যুগ দেশে যাওয়া হয় না। কিন্তু মাঠের দর্শক, পরিবেশ এবং সব বাংলাদেশি ব্র্যান্ডের বোর্ড দেখে মনে হলো ঢাকার মাঠেই বসে আছি। তার মতে, সবচেয়ে বড় কথা হলো বাংলাদেশি ব্র্যান্ডগুলোর ইন্টারন্যাশনাল হাইট তৈরি হচ্ছে, হাইপ তৈরি হচ্ছে। নতুন প্রজন্ম দেখছে বাংলাদেশের উত্থান। তারা এই ব্র্যান্ড বাংলাদেশকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবে। 
 

আমেরিকার মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের পর মাঠ ছাড়ছে টাইগার বাহিনী। পেছনের পেরিমিটার বোর্ড, বাউন্ডারি রোপে ওয়ালটনের লোগে


পেনসিলভানিয়া থাকেন রুহুল আমিন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ দলের ক্রিকেট খেলা থাকলেই সেখানে ওয়ালটন দেখছি। দেশের ক্রিকেট এগিয়ে যাক, ওয়ালটন এগিয়ে যাক। সাঈদ নামে এক যুবক বললেন, এর মাধ্যমে শুধু ক্রিকেট বা ওয়ালটন লাভবান হচ্ছে না; বাংলাদেশেরও ব্র্যান্ডিং হচ্ছে। দেশের ইমেজও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

‘আসলে ক্রিকেট এবং ক্রিকেটাররা হচ্ছেন বাংলাদেশের দূত। তারা শুধু যে খেলছেন তাই নয়, দেশের ব্র্যান্ডিং করছেন। তাদের সঙ্গে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে যেসব দেশি ব্র্যান্ড তাদের অবদানও অনস্বীকার্য। প্রত্যাশা একটাই- ওয়ালটনের মতো দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো বিশ্বের সেরা ব্র্যান্ডগুলোকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাক।’ কথাগুলো বললেন, ফ্লোরিডা প্রবাসী বাংলাদেশি যুবক নিয়ামুল হুদা। আমেরিকার মাটিতে শেষ দুটি টি টুয়েন্টি ম্যাচ জিতে সিরিজ জয়ে বাংলাদেশ দল এবং স্পন্সরদের অভিনন্দন জানান তিনি।

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১১ আগস্ট ২০১৮/অগাস্টিন সুজন/শাহনেওয়াজ

Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC