ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২১ নভেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

‘এত বড় পুরস্কার পেয়ে চোখে পানি চলে আসে’

জাকির হুসাইন : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-১১-১৩ ৬:৫২:৩৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১১-১৩ ১০:২৪:০৩ পিএম
সাইফুল ইসলাম এবং তার স্ত্রীর হাতে লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার এবং অন্যান্য পণ্য তুলে দেওয়া হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘ছোটবেলা থেকেই অনেক কষ্টের জীবন। কোনোদিন কোনো পুরস্কার বা উপহার পাইনি। আমার মতো অশিক্ষিত লোক এত বড় পুরস্কার পেয়েছি জেনে অজান্তেই চোখে পানি চলে আসে। এই খবর স্ত্রীকে জানালে সেও প্রথমে বিশ্বাস করেনি। পরে বাসায় গিয়ে মেসেজ দেখানোর পর বিশ্বাস করে। আমার বাবা-মা, ভাই-বোন ও স্ত্রী সবাই অনেক খুশি। তবে সবচেয়ে বেশি খুশি আমার মেয়ে। কারণ, তার পছন্দের ফ্রিজটি কিনেই এ পুরস্কার পেলাম।’

কথাগুলো ওয়ালটন ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের ১ লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার পাওয়া মো. সাইফুল ইসলামের। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর হাতিরঝিল ইলেকট্রনিক্স থেকে ২১ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে একটি ফ্রিজ কিনে এই লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার পান সাইফুল ইসলাম।

সাইফুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তার গ্রামের বাড়ি পিরোজপুর জেলার মটবাড়িয়ায়। জীবিকার তাগিদে ঢাকায় থাকেন। ট্রাকসহ বিভিন্ন পরিবহনের পণ্য লোড-আনলোডের কাজ করেন। তার স্ত্রী একটি পোশাক তৈরির কারখানায় কাজ করেন। দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া একটি মেয়ে রয়েছে এই দম্পতির। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সবার বড় সাইফুল ইসলাম। তার বাবা-মা, ভাই-বোন সবাই গ্রামের বাড়িতে থাকেন।

সাইফুল ইসলাম বলেন, ছোটবেলা থেকেই পরিবারের জন্য কাজ করেছি। বড় হয়ে ঢাকায় চলে আসি। আমার প্রতিদিন যা আয়-রোজগার হয়, তা দিয়ে আমাদের চলতে হয়। আবার বাড়িতে মা-বাবার জন্যও পাঠাতে হয়। এরপর আর টাকা জমানোর সুযোগ থাকে না।

তিনি আরো বলেন, পরিবার ছোট-বড় যাই হোক না কেন, বর্তমানে সব পরিবারের জন্য ফ্রিজ অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার তিন সদস্যের পরিবারেও একটি ফ্রিজের খুব দরকার ছিল। অনেক কষ্টে টাকা যোগাড় করে ফ্রিজ কেনার সিদ্ধান্ত নিই। ওয়ালটন ফ্রিজ কিনব, এটা মোটামুটি ফাইনাল ছিল। কিন্তু এর কালার কী হবে, দাম কত, সাইজ কত- ইত্যাদি নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলাম না। পরে গত বৃহস্পতিবার স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে ওয়ালটনের শোরুমে যাই। আমার ও স্ত্রীর দুজনেরই একটি ফ্রিজ খুব পছন্দ হয়। কিন্তু মেয়ের সেটি ভালো লাগে না। সে নিজে ঘুরে ঘুরে ১১ সিএফটির একটি ফ্রিজ পছন্দ করে। তার পছন্দের ফ্রিজটিই কিনি। আর এতেই লাখ টাকার পুরস্কার পেয়ে যাই।

ওয়ালটনের লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার এবং সেই টাকায় কেনা পণ্যসহ সাইফুল ইসলাম এবং তার স্ত্রী


ওয়ালটন ফ্রিজ কেনার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি লেখাপড়া কম জানি। ফলে ভালো-মন্দ কম বুঝি। বলতে পারেন, আমি একজন শ্রমিক। আমি যে কাজ করি, তাতে সব সময় রাস্তাঘাটে থাকতে হয়। ফলে বিভিন্ন ধরনের লোকের সঙ্গে আমার কথা হয়। তাই ফ্রিজ কেনার আগে যতজনের কাছে শুনেছি, সবাই ওয়ালটন ফ্রিজ কিনতে পরামর্শ দিয়েছেন। অনেকেই আমাকে এও বলেছেন যে, দেশে বর্তমানে ফ্রিজে ওয়ালটনই সেরা। এ কারণে আর কোনো চিন্তাভাবনা না করে ওয়ালটনের শোরুমে যাই।

১ লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার দিয়ে কী কী পণ্য কিনেছেন? জানতে চাইলে সাইফুল ইসলাম বলেন, লাখ টাকার গিফট ভাউচার দিয়ে আমি ও আমার স্ত্রী দুজনে পরামর্শ করে টিভি, ফ্রিজ, গ্যাস স্টোভ, ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার, রাইস কুকার, রুটি মেকার, ব্লেন্ডারসহ সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যই নিয়েছি।

ওয়ালটন পণ্যের দাম, মান ও গুণাগুণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওয়ালটন ভালো কোম্পানি। অন্যান্য কোম্পানির চেয়ে ওয়ালটন পণ্যের দাম অনেক সাশ্রয়ী। আমি ওয়ালটন কোম্পানির সাফল্য কামনা করছি।

এদিকে, গত রোববার ওয়ালটনের অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার শাহ শহীদ চৌধুরী এবং এরিয়া ম্যানেজার নেসার উদ্দিনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম এবং তার স্ত্রীর হাতে লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার এবং সেই টাকায় কেনা পণ্য তুলে দেন।

উল্লেখ্য, ক্রেতাদের দোরগোড়ায় অনলাইনে দ্রুত ও সর্বোত্তম বিক্রয়োত্তর সেবা দিতে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চালু করেছে ওয়ালটন। এই কার্যক্রমে ক্রেতাদের অংশগ্রহণকে উদ্বুদ্ধ করতে প্রতিদিন দেওয়া হচ্ছে নিশ্চিত ক্যাশ ভাউচার। ওয়ালটন প্লাজা এবং পরিবেশক শোরুম থেকে ১০ হাজার টাকা বা তার বেশি মূল্যের পণ্য কিনে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন করে সর্বনিম্ন ২০০ থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার পাচ্ছেন ক্রেতারা। ক্যাশ ভাউচার পাওয়ার এই সুযোগ থাকবে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৩ নভেম্বর ২০১৭/সুজন/রফিক

Walton
 
   
Marcel