ঢাকা, বুধবার, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৩ মে ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

‘এক ওয়ালটন ফ্রিজেই স্ত্রীর সব পণ্যের চাহিদা পূরণ’

জাকির হুসাইন : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৮-০১-২৮ ১২:২০:১৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০১-২৮ ৩:০১:৫৩ পিএম
ক্যাশ ভাউচারে কেনা পণ্য নিয়ে খাগড়াছড়ি ওয়ালটন প্লাজায় সাগর নারায়ন ত্রিপুরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘স্ত্রীর দীর্ঘদিনের দাবি কিছু ইলেকট্রনিক্স পণ্যের। সবার আগে ফ্রিজ। কিন্তু গড়িমসি করে কেনা হচ্ছিল না। স্ত্রীর খুশির জন্য শেষমেষ একটা ফ্রিজ কিনেই ফেললাম। কী আশ্চর্য! সেই ফ্রিজ কিনেই পূরণ হলো স্ত্রীর অন্য সব পণ্যের দাবি। কারণ ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে আমরা পেয়েছি ১ লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার। আর তা দিয়ে স্ত্রীর চাহিদা মতো পণ্য নিয়েছি। আধুনিক ও নতুন ইলেকট্রনিক্স পণ্যে আমাদের ঘর এখন ভরে গেছে।’

কথাগুলো সাগর নারায়ন ত্রিপুরার। বাড়ি খাগড়াছড়ির সদর থানার ঠাকুরছড়ায়। সরকারি খাদ্য অধিদপ্তরের চাকরি করেন তিনি। বর্তমান কর্মস্থল নোয়াখালী জেলা খাদ্য অধিদপ্তরে। ৫ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে তিনি ৫ম। স্ত্রী ও দুই মেয়ে নিয়ে ছোট ও সুখী পরিবার সাগর ত্রিপুরার।

সাগর নারায়ন ত্রিপুরা জানান, তিনি কর্মস্থল নোয়াখালীতেই থাকেন। দুই মেয়েকে নিয়ে স্ত্রী গ্রামের বাড়ি থাকেন। প্রতি সপ্তাহের শুক্র-শনিবার এ দুইদিন তিনি বাড়িতে যান। তার স্ত্রীও একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকতা করতেন। কিন্তু মেয়েদের পড়াশুনা ও দেখা-শোনার জন্য চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘বাড়িতে টিভিসহ কিছু কিছু ইলেকট্রনিক্স পণ্য ছিল ঠিকই, কিন্তু ফ্রিজসহ জরুরি কিছু পণ্য ছিল না। এতদিন প্রয়োজন অনুভব করলেও ইচ্ছা করেই ফ্রিজ কিনি নাই। কারণ সব সময় টাটকা জিনিস খেতে চেয়েছিলাম। তাছাড়া, কয়েক বছর আগেও ফ্রিজ এতটা সহজলভ্য ছিল না। সময়ের ব্যবধানে তা এখন প্রতিটি পরিবারের জন্য নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যে রূপান্তরিত হয়েছে। তাই আমাদের পরিবারেও একটি ফ্রিজ ছাড়া চলছিল না।’

সাগর নারায়ন ত্রিপুরা বলেন, ‘বিশেষ করে গত এক বছর ধরে আমার স্ত্রী ফ্রিজ কেনার ব্যাপারে জোরালো তাগাদা দিতে থাকে। তাছাড়া, আমার ভাই-বোনসহ সব আত্মীয়-স্বজনের বাসায় ফ্রিজ ব্যবহৃত হচ্ছে। অথচ সামর্থ থাকা সত্ত্বেও আমাদের ফ্রিজ নাই। ফলে স্ত্রীর সাথে সাথে আমারও একটু খারাপ লাগতে শুরু করে। এরপর মনে মনে ফ্রিজ কেনার পরিকল্পনা করি। এজন্য নতুন বছরের প্রথম মাসকে টার্গেট করে রাখি। তবে ব্র্যান্ড নিয়ে দ্বিতীয় চিন্তা করি নাই। ওয়ালটন ফ্রিজ কিনবো এটা শুরুতেই ঠিক করে রাখি।’

এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘আমাদের বাসায় আগে থেকেই ওয়ালটনের ছোট ছোট কয়েকটি পণ্য ব্যবহৃত হচ্ছে। সার্ভিসটা খুবই ভালো পেয়েছি। তাছাড়া আমার ভাই-বোন ও আত্মীয়-স্বজন সবার বাসায় ফ্রিজসহ বিভিন্ন ওয়ালটন পণ্য ব্যবহৃত হচ্ছে। সার্ভিস নিয়ে কারো কোনো অভিযোগ নাই। আমার সহকর্মীরাও ওয়ালটন সম্পর্কে ভালো বলে আসছে।’

ওয়ালটনের প্রতি এই আস্থার বিষয়ে তিনি নিজের মতামত জানিয়ে বলেন, ‘২০০৮ সালে আমার চাকরি জীবন শুরু হয়। প্রথমেই পোস্টিং হয় টাঙ্গাইল খাদ্য অধিদপ্তরে। সেখানেই ছিলাম কয়েক বছর। টাঙ্গাইল থাকার সুবাদে ওয়ালটন সম্পর্কে প্রথম সেখান থেকেই জানতে পারি। কারণ ওয়ালটন কোম্পানির মালিকদের বাড়িও ওই এলাকায়। তখন তাদের প্রচার-প্রচারণা গত ৫ বছরের মতো এমনটা ছিল না। খুব দ্রুত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ওয়ালটন কোম্পানি। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে দেশের আনাচে-কানাছে পৌঁছে গেছে তাদের পণ্য। প্রত্যন্ত খাগড়াছড়ি এলাকায়ও ইলেকট্রনিক্স পণ্যের ব্যবহার সহজলভ্য করেছে দেশীয় এ কোম্পানিটি।’
 

সাগর নারায়ন ত্রিপুরার হাতে ওয়ালটনের লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার এবং অন্যান্য পণ্য তুলে দেওয়া হচ্ছে

 

তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র সহজলভ্য নয়, আমি যতদূর জেনেছি মানের দিক থেকেও প্রথম সারিতে ওয়ালটন। দামের দিক থেকেও বেশ সাশ্রয়ী। এ কারণেই আমার পরিবারের জন্য ওয়ালটন ফ্রিজ কেনার পরিকল্পনা করি।’

সাগর নারায়ন ত্রিপুরা জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি মাসের ২১ তারিখে স্ত্রীকে সাথে নিয়ে খাগড়াছড়ি ওয়ালটন প্লাজায় যান তিনি। সেখান থেকে যাচাই-বাছাই করে সাড়ে ১১ সিএফটি আয়তনের একটি ফ্রিজ পছন্দ করেন তার স্ত্রী। ২৪ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে ফ্রিজটি কেনেন তারা।

তিনি বলেন, প্লাজায় গিয়ে জানতে পারি ওয়ালটন পণ্য কিনলে লাখ টাকার পাওয়ার সুযোগ আছে। অফারটি বেশ ভালো। কিন্তু তাতে আমার বেশি আগ্রহ ছিল না। আগ্রহ শুধুমাত্র স্ত্রীর পছন্দের ফ্রিজটি কেনা। যাহোক, ওয়ালটন কর্মকর্তাদের পরামর্শে আমার মোবাইল নাম্বার দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করি। তবে উপহার পাওয়ার আশা ছিল না। কিন্তু রেজিস্ট্রেশনের ৪ থেকে ৫ মিনিট পর আমার মোবাইলে একটি এসএমএস আসে। তাতে সত্যি সত্যি এক লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার লেখা। প্রথম অবস্থায় এটা আমার কাছে মিথ্যা মনে হয়েছেল। পরে কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করার পর বুঝলাম এটা আসলেই সত্য।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান যুগে কথার সাথে মিল রাখা কোম্পানি নাই বললেই চলে। সত্যি সত্যি ওয়ালটন তাদের কথার সাথে কাজের মিল রেখেছে। যার বাস্তব সাক্ষী আমি নিজেই। তখনই বুঝলাম সততার সাথে গ্রাহকের আস্থা অর্জন করে ওয়ালটন এত দ্রুত উঠে এসেছে। শহর ছাড়িয়ে গ্রামাঞ্চলের মানুষেরও মন জয় করেছে।’

সাগর নারায়ন ত্রিপুরা বলেন, ‘ওয়ালটনের এই উপহার আমার জীবনের সবচেয়ে বড় উপহার। আমার এ প্রাপ্তিতে বাবাসহ আমার সকল আত্মীয়-স্বজন খুব খুশি। তবে বেশি খুশি আমার স্ত্রী। কারণ প্রয়োজনীয় ফ্রিজটি কিনে তার মনের মতো অন্যান্য সব পণ্যও পাওয়া গেছে। ঘরভর্তি পণ্য পেয়ে খুশিতে আত্মহারা আমার স্ত্রী। তার চোখে-মুখে সন্তুষ্টির যে ছাপ দেখেছি, তা আগে কখনো দেখা যায়নি।’

খাগড়াছড়ি ওয়ালটন প্লাজার ম্যানেজার মো. মনির হোসেন জানান, লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার দিয়ে সাগর নারায়ন ত্রিপুরা আরো একটি ফ্রিজ, টিভি, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, রাইস কুকার, প্রেসার কুকার, ব্লেন্ডারসহ বেশ কয়েকটি পণ্য নিয়েছেন। তবে এগুলোর দাম এক লাখ টাকা ছাড়িয়ে আরো ৩৬০০ টাকা বেশি হয়। যা তিনি নগদ পরিশোধ করেছেন।

উল্লেখ্য, ক্রেতাদের দোরগোড়ায় অনলাইনে দ্রুত ও সর্বোত্তম বিক্রয়োত্তর সেবা দিতে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চালু করেছে ওয়ালটন। এই কার্যক্রমে ক্রেতাদের অংশগ্রহণকে উদ্বুদ্ধ করতে প্রতিদিন দেওয়া হচ্ছে নিশ্চিত ক্যাশ ভাউচার। ওয়ালটন প্লাজা এবং পরিবেশক শোরুম থেকে ১০ হাজার টাকা বা তার বেশি মূল্যের পণ্য কিনে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন করে সর্বনিম্ন ২০০ থেকে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার পাচ্ছেন ক্রেতারা। ক্যাশ ভাউচার পাওয়ার এই সুযোগ থাকবে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৮ জানুয়ারি ২০১৮/অগাস্টিন সুজন/সাইফ

Walton Laptop
 
   
Walton AC