ঢাকা, রবিবার, ২ আষাঢ় ১৪২৬, ১৬ জুন ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় সমন্বিত পদক্ষেপ নিন’

কেএমএ হাসনাত : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৪-১৬ ৬:৩০:৫৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৪-১৭ ১০:২২:৩৪ এএম
Walton AC 10% Discount

বিশেষ প্রতিবেদক : জলবায়ু পরিবর্তনের  বিরূপ প্রভাব থেকে পৃথিবী ও মানুষকে বাঁচাতে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন  অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

সোমবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ইকোসকের উন্নয়নের জন্য অর্থায়ন (এফএফডি) ফোরামে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরতে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।

জাতিসংঘ মহাসচিব, সাধারণ পরিষদের সভাপতি, সদস্য দেশগুলো থেকে আসা মন্ত্রীসহ উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা, উন্নয়ন সংস্থাগুলোর প্রতিনিধি, বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক, জাতিসংঘ ও এর সহযোগী সংস্থার কর্মকতা, অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, সিভিল সোসাইটি ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিসহ স্থানীয় প্রতিনিধিরা নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে  অংশ নেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের কোনো ভূমিকা না থাকলেও বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের শিকার হচ্ছে, যা বাংলাদেশের  উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্থ করছে।



বৈঠকে এলডিসি থেকে উত্তরণকারী দেশগুলোর টেকসই উত্তরণ নিশ্চিত করতে প্রাথমিক পর্যায়ে নীতিগত বিষয়গুলো পুনর্বিবেচনা করে সহযোগিতার পদক্ষেপসমূহ অবারিত রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।

‘টেকসই উত্তরণ’ অর্জনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণ আমাদের জাতীয় আকাঙ্খার অন্যতম লক্ষ্য। বাংলাদেশ দ্রুততার সঙ্গে টেকসই উন্নয়নের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আমরা রূপকল্প ২০২১ ও রূপকল্প ২০৪১ গ্রহণ করেছি এবং এতে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ২০১৪ সালে প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৫ ভাগ, যা বেড়ে ২০১৮ সালে ৮ দশমিক ১৩ ভাগে উন্নীত হয়েছে। মাথাপিছু গড় জাতীয় আয় ২০০৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ২৫০ শতাংশ  বৃদ্ধি পেয়েছে। সমন্বিত ও সমতাভিত্তিক উন্নয়ন নীতি গ্রহণ করে আমরা দারিদ্র্যের হার ২০০৬ সালের ৪০ শতাংশ  থেকে ২০১৮ সালে ২১ দশমিক ৪ শতাংশে  নামিয়ে এনেছি। ক্রমান্বয়ে দেশ থেকে দ্রারিদ্রতা শূন্যের কোটায় নিয়ে আসার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল বলেন, বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের অভিন্ন লক্ষ্য হল ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলায় পরিণত করা, যে স্বপ্ন দেখেছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।



মিয়ানমার থেকে বাস্ত্যুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের উন্নয়ন পদক্ষেপে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী তাদের টেকসই প্রত্যাবাসন এবং এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী ইউএনডিপির প্রশাসক আসিম স্টেইনার এবং গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডের নির্বাহী পরিচালক ইয়ানিক গ্লেমারেকের সঙ্গে বৈঠক করে পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।

ইকোসকের এফএফডি ফোরামের ফলোআপ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে একটি বৈশ্বিক আন্ত:সরকারি প্রক্রিয়া। ইকোসকের অর্থায়ন ফোরামের এই বৈঠক ১৫ এপ্রিল শুরু হয়েছে যা আগামী ১৮ এপ্রিল শেষ হবে।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৬ এপ্রিল ২০১৯/হাসনাত/শাহেদ

Walton AC
     
Walton AC
Marcel Fridge