ঢাকা     শনিবার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ৪ ১৪২৭ ||  ৩০ মহরম ১৪৪২

অবশেষে স্বীকার করলেন মিথিলা

আমিনুল ইসলাম শান্ত || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:২৬, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
অবশেষে স্বীকার করলেন মিথিলা

কমন বন্ধুর সূত্র ধরে পরিচয় সৃজিত-মিথিলার। তারপর মনের লেনাদেনা। ডুবে ডুবে জল খেয়েছেন দুজনেই। তরতর চলেছে প্রেমের তরী। কিন্তু এ জুটির প্রেমের খবর হঠাৎ প্রকাশ্যে আসে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত হতে থাকে একের পর এক প্রতিবেদন। যেন মৌচাকে ঢিল পড়েছে। তবে সবই গুঞ্জনের অক্টোপাসে আটকা। কারণ দুজনের কেউই মুখ খোলেননি- একেবারে স্পিকটি নট!

প্রেমের গুঞ্জন যখন দুই বাংলার বাতাসে উড়ছে, দুজনের ছবিও প্রকাশ পেতে শুরু করেছে, তখনো কচ্ছপের মতো মাথা টেনে খোলের ভিতরে নিয়েছেন সৃজিত-মিথিলা। চারপাশে তুলেছেন শক্ত দেয়াল। এরপর দুই বাংলার মিডিয়া সাময়িক স্মৃতিভ্রমের মতো সবকিছুই ভুলে যায়। গত আগস্ট মাসে ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’ সেই ভ্রম কাটিয়ে খবর প্রকাশ করে— ‘সৃজিত-মিথিলার প্রেমের সম্পর্কটা দারুণ চলছে!’

গত সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে এই গুঞ্জনের পালে হঠাৎ হাওয়া লাগে। এর সূত্রপাত হয় কয়েকটি স্থিরচিত্রকে কেন্দ্র করে। যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। সেসময় একটি স্থিরচিত্রে দেখা যায়, টেবিলের উপর কেক রাখা। সামনে বসে আছেন সৃজিত মুখার্জি। সৃজিতের পেছনে দাঁড়িয়ে মিথিলা। ছবিতে অভিনেতা রুদ্রনীলসহ বেশ কজনকে দেখা যায়। জানা যায়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর সৃজিতের জন্মদিন ছিল। বিশেষ এ দিন উপলক্ষে কেক কাটছিলেন তারা। সৃজিতের ঘরোয়া এই আয়োজনে হাজির হয়েছিলেন মিথিলা। এই গুঞ্জনের ডালপালা যখন লম্বা হচ্ছিল তখনো চুপ ছিলেন মিথিলা। তাকে একাধিকবার ফোন করেও সদুত্তর মেলেনি।

এর ১০ দিন না পেরুতেই আবারো আলোচনায় উঠে আসেন সৃজিত-মিথিলা। উপলক্ষ্য সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। মন্দিরে মন্দিরে যখন উলুধ্বনি, শঙ্খ, কাঁসর আর ঢাকের বাদ্যি বাজছিল তখন কালকাতা গিয়েছিলেন মিথিলা। আর অষ্টমীর দিন সাধারণ মানুষের সঙ্গে সৃজিত মুখার্জি, অভিনেতা প্রসেনজিৎ, অভিনেত্রী নুসরাত জাহান অঞ্জলি দিতে যান। সেদিনও পূজা মণ্ডপে হাজির হন মিথিলা। এসময় তোলা একটি সেলফিতে মিথিলাকে দেখা যায়।

সৃজিত মুখার্জি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দুটি ছবি পোস্ট করেন। এতে দেখা যায়— সৃজিত সেলফি তুলছেন। ফ্রেমে রয়েছেন মিথিলা, নুসরাত ও তার বর নিখিল জৈন। অন্য সেলফিতে সৃজিত-প্রসেনজিতের সঙ্গে মিথিলাকে দেখা যায়। ছবির ক্যাপশনে সৃজিত লিখেছিলেন— তারকাখচিত অষ্টমীর সকাল। ছবি ‍দুটি পোস্ট করার পরই সৃজিত-মিথিলার প্রেমের গুঞ্জন নিয়ে ফের আলোচনা শুরু করেন নেটিজেনরা। কিন্তু এবারো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি এই প্রেমিক যুগলের।

সৃজিত-মিথিলা যখন প্রেমের নদীতে হাবুডুবু খাচ্ছেন তখন পুরোনো প্রেমের স্মৃতি এসে বাগড়া দেয় মিথিলার জীবনে। নির্মাতা ফাহমির সঙ্গে মিথিলার অন্তরঙ্গ কিছু ছবি অন্তর্জালে ভাইরাল হয়। বিষয়টি যখন ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’-তে রূপ নেয় তখন এক ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে মিথিলা ফাহমির সঙ্গে তার প্রেম ছিল স্বীকার করেন। ওদিকে এ প্রসঙ্গে সৃজিতের মন্তব্যও মেলে। অর্থাৎ এই দুঃসময়ে মিথিলাকে ছেড়ে যাননি সৃজিত। বরং তাকে সমর্থন জানিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেছিলেন, ‘এটি গুরুতর অপরাধমূলক কাজ এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন। এই কাজ যে করেছে তাকে আটক করা উচিৎ। এই পরিস্থিতি মিথিলা যেভাবে সামাল দিচ্ছেন তা অনুকরণীয়। ফেসবুকে তার দীপ্তিমান বক্তব্য, আমাকে তার জন্য আরো বেশি গর্বিত করেছে।’

এ সময়ই মূলত পরিষ্কার হয়ে যায় দুজনের মধ্যে গভীর সম্পর্ক চলছে। গত নভেম্বরের মাঝামাঝি সৃজিতের ঘনিষ্ঠজনের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছেন সৃজিত-মিথিলা। বিয়ের সম্ভাব্য তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি। এ সময় ঢাকায় ফোক ফেস্ট চলছিল। সেখানেও মিথিলা-সৃজিতকে দেখা যায়। শুধু তাই নয়, মিথিলার পরিবারের কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন সৃজিত— এ কথাও জানায় সংবাদমাধ্যমটি। কিন্তু বরাবরের মতো আগের চরিত্রেই অভিনয় করেন এই প্রেমিক যুগল। সৃজিত বলেন, ‘এই খবর সত্য নয়। আমি মিথিলার পরিবারকে দীর্ঘদিন ধরে চিনি। তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার জন্য এই ভ্রমণের দরকার নেই। আর বিয়ের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারব না।’

সৃজিতের এই বক্তব্য অনেকের মনে তখন সন্দেহের জন্ম দিয়েছিল। ‘যা রটে তা কিছু তো বটে’— প্রচলিত এ কথাও দুই বাংলার বিনোদন সাংবাদিকদের মনে নাড়া দিয়েছিল। এজন্য তারাও এতদিন সন্দেহের বিষ মনে মনে পুষে রেখেছিলেন। অবশেষে সৃজিত-মিথিলা আজ এক হতে যাচ্ছেন। যে প্রেম নিয়ে এত মিথ্যাচার, নাটকীয়তা আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় তা সফল পরিণতি পাচ্ছে। আর মুখে আটা কুলুপ খুলে মিথিলা গণমাধ্যমে বলেছেন— ‘আজ সন্ধ্যায় সৃজিত আর আমার বিয়ে। একেবারেই ঘরোয়াভাবে। শুধু রেজিস্ট্রি হবে।’

এই স্বীকারোক্তির মাধ্যমে একদিকে মিথিলা যেমন অভিনন্দনের বন্যায় ভাসছেন, অন্যদিকে একথাও উঠেছে- সেই তো নথ খসালি, তবে কেন লোক হাসালি?  


ঢাকা/শান্ত/তারা

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়