ঢাকা     বুধবার   ০৫ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২১ ১৪২৭ ||  ১৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

আমি রান্না শিখেছি নাঈমের কাছ থেকে: শাবনাজ

রাহাত সাইফুল || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৪৭, ২ আগস্ট ২০২০  

শাবনাজ-নাঈম নব্বই দশকের জনপ্রিয় জুটি। বাংলা চলচ্চিত্রে এই জুটির পরেই শুরু হয় নতুনদের জয়যাত্রা। একের পর এক হিট সিনেমা উপহার দিয়ে তারা দর্শক মনে স্থায়ী আসন গড়েন। কিন্তু হঠাৎ করেই ছন্দপতন! সাফল্যের চূড়ায় থাকতেই এই জুটি একসঙ্গে চলচ্চিত্র থেকে দূরে সরে যান। পর্দার প্রেম বাস্তব জীবনে ধরা দেয়। বর্তমানে শাবনাজ-নাঈম দুই কন্যা সন্তানের মা-বাবা। পর্দা থেকে হারিয়ে গেলেও দর্শকের হৃদয়ে এখনো রয়েছেন দু’জন। রাহাত সাইফুলের সঙ্গে কথোপকথনে উঠে এসেছে এই জুটির স্মৃতিকথা।

রাইজিংবিডি: কেমন আছেন?

নাঈম: ভালো আছি। ধন্যবাদ।

রাইজিংবিডি: আপনাদের চলচ্চিত্রে যুক্ত হওয়ার গল্প অনেকটা- এলাম দেখলাম জয় করলাম। শাবনাজের কাছে জানতে চাই- পেছনে ফিরে তাকালে কী মনে হয়? দিনগুলো আসলে কেমন ছিল?

শাবনাজ: ঈদের কথাই বলি। আমাদের সিনেমা যখন ঈদে মুক্তি দেওয়া হতো, আগের দিন থেকেই আমরা এক্সাইটেড থাকতাম। পোস্টারগুলো কেমন হয়েছে? ব্যানারে ছবিগুলো কেমন এসেছে? প্রচণ্ড কৌতূহল হতো এসব নিয়ে। আমরা ঈদের আগের দিন হলে হলে গিয়ে সেগুলো দেখতাম। লেট নাইটে আমি, নাঈম, সাদেক বাচ্চু, পরিচালক সবাই একসঙ্গে গাড়ি নিয়ে হলের সামনে চলে যেতাম। গিয়ে দেখতাম কার ছবি কেমন দেখাচ্ছে। পরদিন সকালে অন্য রকম টেনশন শুরু হতো। কারণ প্রথম শো শুরু হবে, দর্শক কীভাবে নেবে- এসব ভেবে রাতে ঘুম হতো না। কিন্তু পরদিন দুপুর না গড়াতেই সব দুশ্চিন্তা চলে যেত। শোয়ের পর ভক্তরা দেখা করতে আসতো। তখন ভক্তরা ফুল নিয়ে আসতো। আমরা অটোগ্রাফ দিতাম।

নাঈম: এখন সবকিছু সস্তা হয়ে গেছে। এখন আর কেউ অটোগ্রাফ নেয় না৷ সেলফি তোলে, ভিডিও করে। অনেক সময় অনুমতি ছাড়াই করে! তখনকার দিনে অন্তত অনুমতি নেওয়ার ভদ্রতাটুকু মানুষ দেখাত। 

শাবনাজ: এক বছর আগে আমি বিদেশ থেকে ফিরছিলাম। প্লেনে একজন ক্যামেরা দিয়ে আমার ভিডিও শুট করছিল। আমি কীভাবে কথা বলছি, কীভাবে বসে আছি। আমার খুব অস্বস্তি হচ্ছিল। একসময় আমি বলতে বাধ্য হলাম- প্লিজ ফোনটা বন্ধ করুন। মানুষ ভিডিও করার আগে অনুমতি নেবে না! এটাও বলে দিতে হবে! আমার কাছে বিষয়টি খারাপ লেগেছিল; বিশেষ করে গ্রামের মেয়েদের জন্য। কারণ কে কখন তাদের ভিডিও করে ইউটিউবে ছেড়ে দেবে। দেখবেন, কেউ কোনো প্রতিবাদও করে না।

রাইজিংবিডি: আমাদের সহনশীলতা কমে যাচ্ছে, ভদ্রতাবোধটুকুও উঠে যাচ্ছে। কিন্তু আমি জানতে চাইছি, এখন নতুন অনেকেই আসছেন। কিন্তু সেভাবে জ্বলে উঠতে পারছেন না!

নাঈম: একটি চলচ্চিত্র সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। কাহিনি, পরিচালক, সংগীত, পাত্র-পাত্রী প্রত্যেকের সমন্বয় না হলে সিনেমা জ্বলে ওঠা কঠিন। বাজেটও একটা বড় ব্যাপার। ‘চাদনী’ ‘চোখে চোখ’ ‘আগুন জ্বলে’ সিনেমাগুলো বাজেটের চেয়ে বেশি আয় করেছে। আমরা প্রথম দু’একদিনেই বুঝে ফেলতাম এই সিনেমার ভাগ্যে কী ঘটতে যাচ্ছে। আগে বিনোদনের মাধ্যম কম ছিল। এখন হাতের নাগালে বিশ্ব। সব দেশের সিনেমা, গান মোবাইলেই পাওয়া যায়৷ তাই দর্শক ভালো কিছু না হলে সিনেমা দেখবে না। আমরা ‘আয়নাবাজি’ হলে গিয়ে দেখেছি। কারণ শুনেছিলাম সিনেমাটি একটু ভিন্ন। অর্থাৎ ভালো সিনেমার দর্শক এখনো আছে। 

শাবনাজ: সে সময় একটা ক্রেজ ছিল। আমাদের প্রচুর ভিউকার্ড বের হতো। আমার শাশুড়ির কাছেও আমাদের অনেক ভিউকার্ড পেয়েছি। এমনকি চকলেটের প্যাকেট, আইসক্রিমের প্যাকেটে আমার আর নাঈদের ছবি থাকতো। এই বিষয়গুলো খুব আনন্দ দিতো। সব মিলিয়ে জমজমাট একটা ব্যাপার। যা চাইলেও এখন আর পাওয়া সম্ভব নয়।

রাইজিংবিডি: কোরবানির প্রসঙ্গে আসি। বিয়ের পর প্রথম ঈদ কোথায় করেছেন?  

শাবনাজ: টাঙ্গাইলে করেছি। গ্রামের সবাই আমাকে দেখতে এসেছিল। সকাল বেলা রান্না করেছিলাম। সবাইকে আপ্যায়ন করেছিলাম সেদিন। যদিও রান্নার অভিজ্ঞতা আমার তেমন ছিল না। এই ফাঁকে বলে রাখি, আমি রান্না যা শিখেছি তা নাঈমের কাছ থেকে।

নাঈম: আমি কিন্তু খেতেও পছন্দ করি। ফলে নিজে রান্না করে আনন্দ পাই।

রাইজিংবিডি: কার কোন রেসিপি পছন্দ?

শাবনাজ: নাঈমের হাতে গরুর পায়া আমার খুব পছন্দ! শুধু আমার না, পুরো পরিবারের বিশেষ পছন্দ। 

নাঈম: শাবনাজের হাতের ইলিশ পোলাউ আমার পছন্দ।

রাইজিংবিডি: এবার গরুর হাটে গিয়েছিলেন?

নাঈম: আমাদের গরুর খামার আছে। সেখানকার গরু কোরবানি দেই। এবার করোনার কারণে হয়নি। ফলে ঢাকায় আছি। হাট থেকে গরু কিনতে হয়েছে।

শাবনাজ: নাঈম প্রচুর গরুর হাটে যায়। যদিও মানুষ দেখে ঠিকই চিনে ফেলে। তখন কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। অনেক সময় গরু না কিনেই বাসায় চলে আসে।

রাইজিংবিডি: দুজনের সবচেয়ে পছন্দ কী?

শাবনাজ: স্মাইলিং ফেইস। আমরা সবসময় হাসিখুশি থাকতে পছন্দ করি।

ঢাকা/তারা

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়