ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৮ মে ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

উৎকণ্ঠায় পরীক্ষার্থীরা, এইচএসসির রুটিন জানা যাবে ২ সপ্তাহ আগে

আবু বকর ইয়ামিন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৪-০৯ ৪:৩৪:১৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৪-১০ ৯:২৩:২৩ এএম

করোনাভাইরাসের কারণে স্থগিত রয়েছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। গত ২২ মার্চ পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

তখন বলা হয়েছিল, এপ্রিল মাসের শুরুর দিকে এ পরীক্ষার পরবর্তী সময়সূচি জানানো হবে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় তা এখন পর্যন্ত জানানো হয়নি। এদিকে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি বেড়েছে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত, যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও কার্যকর হবে। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে শুরু হবে রমজান মাস। রমজানে পরীক্ষাও সম্ভব নয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হতে পারে ঈদ পর্যন্ত। ফলে এ পরীক্ষা আয়োজন কবে গিয়ে ঠেকবে তা কেউ বলতে পারছে না। ফলে পরীক্ষা শুরু না হতেই হোঁচট খেয়েছে সারাদেশের এইচএসসি ও সমমানের ১২ লাখ পরীক্ষার্থী।

গত ১ এপ্রিল পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ইতোমধ্যে সপ্তাহ অতিক্রম করেছে। কিন্তু দুর্যোগময় পরিস্থিতির কারণে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কবে শুরু হবে তারও কোনো ঠিক নেই। এ অবস্থায় পড়াশোনার ধারাবাহিকতা হারিয়ে ফেলা নিয়ে মানসিক চিন্তা শিক্ষার্থীরা। আবার পরীক্ষার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির

প্রস্তুতির সময় পাবে কি না সেসব বিষয় ভেবেই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যদিয়ে দিন পার করছেন পরীক্ষার্থীরা। চিন্তা অভিভাবকদেরও।

রফিকুল ইসলাম রুবেল নামের এক শিক্ষার্থী বাবা রিয়াজুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষা হয়ে গেলে একটা বিষয় ছিল। কিন্তু এখন কবে হবে তারও ঠিক নেই। ছেলে দেখা গেছে এখন পরীক্ষার টেনশন বাদ দিয়ে রিলাক্স আছে। পরীক্ষাটা হয়ে গেলেই ভালো ছিল। এখন একটা চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সারমিন আক্তার মুক্তা নামের এক শিক্ষার্থীর বাবা জানান, বলা চলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্যই বন্ধ রয়েছে। শুনছি ঈদের আগে খুলছে না। তাহলে পরীক্ষা কিভাবে হবে ঈদের আগে? সবমিলিয়ে মেয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যে প্রস্তুতি থাকে সেটার পর পরীক্ষা পিছিয়ে গেলে রুটিনে এলোমেলো হয়ে যায়। এখন সেই সমস্যাই হচ্ছে।

রাজধানীর একটি বেসরকারি কলেজের অধ্যক্ষ জানান, শিক্ষার্থীদের এখন কলেজের আসার সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না খুললে কিভাবে পরীক্ষা নেবে? যতটুকু জানি, জুনের আগে আর পরীক্ষা হচ্ছে না। এরপর আবার এসএসির রেজাল্ট, এইচএসসি ভর্তি, অনার্স ভর্তি পরীক্ষা। সবমিলিয়ে একটা বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে।

পরীক্ষার্থী সাবিনা আক্তার সুমি বলেন, পরীক্ষা পেছানোর ফলে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। সঠিক রুটিন অনুযায়ী পড়তে পারছি না। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রস্তুতিরও একটা বিষয় আছে। সবমিলিয়ে চিন্তায় আছি।

কখন কীভাবে হুট করে পরীক্ষার ডেট হয়ে যাবে; এটা নিয়েও দুশ্চিন্তায় আছে পরীক্ষার্থীরা।

শিক্ষামন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, স্থগিত থাকা এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নিয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না। তবে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সরকার এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠকের মাধ্যমেই এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। এক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীদের মিনিমাম দুই সপ্তাহ হাতে রেখে সময় জানিয়ে দেওয়া হবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ জিয়াউল হক জানান, ‘পরীক্ষার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কবে হবে সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। এখনো কোনো কিছুই নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

তিনি জানান, এ নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা হচ্ছে। পরীক্ষার ১৫দিন আগে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের চিন্তিত না হয়ে মনোযোগ দিয়ে পড়ার পরামর্শ দেন দিন।


ঢাকা/ইয়ামিন/এসএম