ঢাকা     শনিবার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ৪ ১৪২৭ ||  ৩০ মহরম ১৪৪২

এইডস ভাইরাস মুক্ত করা সম্ভব

শাহ মতিন টিপু || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৫:৩৩, ১ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
এইডস ভাইরাস মুক্ত করা সম্ভব

খবরটি এ বছরেরই মার্চের। একজন এইচআইভি রোগীকে এইডস ভাইরাসমুক্ত করার খবরটি ছিল বিবিসির।

বিশ্বে এইডসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর দ্বিতীয়বারের মতো একজন এইচআইভি আক্রান্ত রোগীকে এইডস ভাইরাসমুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে প্রাণঘাতী এইডস ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে চিকিৎসাবিজ্ঞানের বড় সাফল্য।

রোগী পুরুষ। যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা দেয়া এই রোগীকে পরিচয় গোপনের স্বার্থে 'লন্ডন রোগী' নামে ডাকা হচ্ছে।

আজ বিশ্ব এইডস দিবস। এখন আর বিশ্বের কারো অজানা নেই যে, এইডস একটি ভয়ানক সংক্রামক রোগ। এইচআইভি নামক ভাইরাস রক্তে প্রবেশ করলে মানবদেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। তখন অনেক রোগ একত্রে আক্রমণ করে ওই মানুষকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়।

আক্রান্ত হলে রোগটি থেকে মুক্তি পাওয়া অসম্ভব। সতর্ক থাকাই রোগটি থেকে বাঁচার উপায়। আর যে আক্রান্ত তাকে রোগটি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হয়। এমন একটি অবস্থায় এইচআইভি আক্রান্ত রোগীকে এইডস ভাইরাসমুক্ত করার খবর নিকষ অন্ধকারে একটি সুক্ষ আলোর রেখা।

খবরটিতে বলা হয়েছে- 'লন্ডন রোগী'কে এইডস ভাইরাসমুক্ত করা হয়েছে স্টেম সেল বা অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে। এই অস্থিমজ্জা আরেকজন ব্যক্তির দেহ থেকে নেয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্যের চিকিৎসকরা জিনগত রুপান্তরের মাধ্যমে লন্ডন রোগীর দেহে প্রতিস্থাপন করেছিলেন তিন বছর আগে। শেষপর্যন্ত চিকিৎসকরা তাকে ভাইরাসমুক্ত করতে পেরেছেন সফলভাবে। দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে তার দেহেএই ভাইরাস আর দেখা যায়নি।

এই রোগীর আগে প্রথম একজন রোগীকে এইডস ভাইরাসমুক্ত করা হয় ২০০৭ সালে জার্মানির বার্লিনে। তার দেহেও অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে একইভাবে ভাইরাসমুক্ত করা হয়েছে। প্রথম এইডস ভাইরাসমুক্ত করা রোগীকে ডাকা হতো 'বার্লিন রোগী' নামে। ‘বার্লিন রোগী’ এখনও ভাইরাসমুক্ত আছেন। সেই চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে দ্বিতীয় ব্যক্তিকে ভাইরাসমুক্ত করা হলো।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এইচআইভি সংক্রমণের বিরুদ্ধে এই পদ্ধতি পুরোপুরি বাস্তবসম্মত নয়। কিন্তু এর ধারাবাহিকতায় একদিন এই ভাইরাস থেকে পুরোপুরি নিরাময়ের জন্য বাস্তবসম্মত চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।

দিবসটিতে এই সুখবরটি অবশ্যই ভূক্তভোগীদের মনে ভরসার জায়গা তৈরি করবে।

এই ঘাতক ব্যাধিটির বিস্তার কিন্তু ভয়াবহ। যা দ্রুত পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে সহজে ছড়িয়ে পড়ছে। সিংহভাগ নতুন সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে উন্নয়নশীল দেশে। এটি আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের মানুষের জন্য উদ্বেগজনক। জানা যায়, প্রতি ১০ সেকেন্ডে ২৫ বছরের কমবয়সী একজন তরুণ বা তরুণী এইচআইভি দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে।

ইউএনএইডস-এর তথ্যমতে, বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৩৪ মিলিয়ন মানুষ এইডসে আক্রান্ত এবং এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫ মিলিয়ন মানুষ এ মরণঘাতী রোগে মৃত্যুবরণ করেছে। ১৯৮১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সর্বপ্রথম এ রোগ প্রকাশ পায় এবং একই বছরে দেশটির লস অ্যাঞ্জেলস রাজ্যের পাঁচ সমকামী এই রোগে আক্রান্ত হন। ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশে সর্বপ্রথম এইচআইভি সনাক্ত হয়। ২০১২ সালে বাংলাদেশে ৩৩৮ জন এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়।

ইউএনএইডস-এর তথ্যমতে, বাংলাদেশে এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ১১ হাজারের কিছু বেশি। এক সমীক্ষা অনুযায়ী, এইডস/এইচআইভিতে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে ১ হাজার ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

১৯৮৮ সাল থেকে এইডসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিশ্বে এ দিবসটি পালিত হয়। প্রতিবারের মতো এবারও বাংলাদেশে দিবসটি সরকারি বেসরকারিভাবে গুরুত্বের সাথে দেশে পালিত হচ্ছে। এ বছর দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে-‘এইডস নির্মূলে প্রয়োজনঃ জনগণের অংশগ্রহণ’।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এইডস প্রতিরোধ ও নির্মূলে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, দাতাসংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং গণমাধ্যমসমূহকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেছেন, প্রতিটি এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যুগান্তকারী পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে সম্পূর্ণ সরকারি ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধানে ১০টি সরকারি হাসপাতাল থেকে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বিনামূল্যে এইডসের চিকিৎসা ও ঔষধ প্রদান করা হচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে এটি আরো সম্প্রসারিত হবে।



ঢাকা/টিপু

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়