ঢাকা     শনিবার   ০২ জুলাই ২০২২ ||  আষাঢ় ১৮ ১৪২৯ ||  ০২ জিলহজ ১৪৪৩

কক্সবাজারে ২ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত, মানছেন না পর্যটকরা

তারেকুর রহমান, কক্সবাজার || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৪৪, ৮ মে ২০২২   আপডেট: ১৮:৫৪, ৮ মে ২০২২
কক্সবাজারে ২ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত, মানছেন না পর্যটকরা

ঘূর্ণিঝড় ‘আসানি’ দ্রুত শক্তি বাড়াচ্ছে। ঘণ্টায় ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার গতি নিয়ে ভারতের অন্ধ্র ও ওডিশা উপকূলের দিকে এগোচ্ছে।

রোববার (৮ মে) ঘূর্ণিঝড়টি কক্সবাজার থেকে ১১২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে কক্সবাজারে ২ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। কিন্তু তা উপেক্ষা করে পর্যটকরা সমুদ্রে নামছেন।

সরেজমিনে সৈকত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল রয়েছে। তবে পর্যটকরা তা মানছেন না। হাজারো পর্যটক সমুদ্রস্নানে মগ্ন রয়েছেন। সৈকতে সতর্কতামূলক লাল পতাকা টাঙানো হলেও সেদিকে কারো খেয়াল নেই।

ফিরোজ হাবিব নামে এক পর্যটক বলেন, ‘কক্সবাজারে বেড়াতে এসে আবহাওয়া হঠাৎ খারাপ হয়ে গেল। পরিস্থিতি এমন হবে জানতাম না। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ২ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেতের কথা জেনেছি। সামনে কয়েকদিন বেড়ানোর চিন্তা থাকলেও আজই চলে যাবো।’

হ্যাপি নামে আরেক পর্যটক বলেন, ‘পরিবারের সঙ্গে সকালে কক্সবাজার এসেছি। আসার পর জানতে পারি, সমুদ্রে ২ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত। বাবা-মা ঢাকা ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমি সমুদ্রে একটু পা ভেজাতে এসেছি।’

সায়মন সাঈদ নামে একজন বলেন, ‘কক্সবাজার এসেছি তিন দিন আগে, আজ রাতে চলে যাবো। শেষ দিন মনের মতো গোসল দিতে সমুদ্রে নেমেছিলাম। কিন্তু লাইফগার্ড কর্মী ও ট্যুরিস্ট পুলিশ গোসল করতে দিল না। বৈরী আবহাওয়ার কারণে আর আনন্দ করা গেল না।’

লাইফগার্ড কর্মী মোহাম্মদ হোসেন কালু বলেন, ‘সমুদ্রে ২ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত থাকায় আমরা কোনো পর্যটককে সমুদ্রের পানিতে নামতে দিচ্ছি না। তারপরও কিছু পর্যটক নির্দেশনা না মেনে গোসল করতে নামছেন, ট্যুরিস্ট পুলিশ তাদের তুলে দিচ্ছে।’

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল করিম বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় আসানির প্রভাব মোকাবিলায় ট্যুরিস্ট পুলিশ সজাগ রয়েছে। যে সমস্ত পর্যটকরা সমুদ্রের এদিক সেদিক ঘোরাঘুরি ও সমুদ্রে গোসল করতে নামছেন তাদের তুলে দেয়া হচ্ছে। এছাড়া পর্যটকদের সতর্কে মাইকিং করা হচ্ছে।’

কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রধান আবহাওয়াবিদ মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় আসানি কক্সবাজার উপকূল থেকে ১১২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে। এটি ভারতের অন্ধ্র ও ওডিশা প্রদেশে আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজারে ২ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। বর্তমান অবস্থানভেদে কক্সবাজারে আসানি আঘাত হানার সম্ভাবনা না থাকলেও প্রচুর বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

কেআই

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়