ঢাকা     বুধবার   ০৫ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২১ ১৪২৭ ||  ১৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

চামড়ার দাম কম, বিপাকে খুলনার মাদ্রাসা-এতিমখানাগুলো

মুহাম্মদ নূরুজ্জামান || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৫৬, ২ আগস্ট ২০২০  
খুলনা নগরীর শেখপাড়া চামড়াপট্টিতে রাখা চামড়া

খুলনা নগরীর শেখপাড়া চামড়াপট্টিতে রাখা চামড়া

গত বছরের মতো এবারও খুলনায় কোরবানির পশুর চামড়া কম দামে বিক্রি হয়েছে। কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে বিপাকে পড়েছে খুলনার মাদ্রাসা ও এতিমখানাগুলো।

ঈদের দিন (১ আগস্ট) বিকেলে খুলনার বাজারে বড় গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে প্রতি পিস ২৫০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকার মধ্যে। ছোট চামড়ার দাম ছিল মাত্র ১৫০ টাকা। অপরদিকে, ছাগলের চামড়া বিক্রি হয়েছে প্রতি পিস গড়ে ২০ টাকা করে।

কোরবানির চামড়া সংগ্রহকারী নগরীর বিভিন্ন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, মাদ্রাসা ও এতিমখানাগুলোর আয়ের অন্যতম উৎস দান হিসেবে পাওয়া কোরবানির চামড়া। এসব চামড়া বিক্রির অর্থ দিয়ে বছরের বেশিরভাগ সময়ে মাদ্রাসার লিল্লাহ বোর্ডিং ও এতিমখানার ছাত্রদের খাবারের ব্যবস্থা হয়ে থাকে। কিন্তু গত বছরের মতো এবারও চামড়ার দাম কম হওয়ায় আর্থিক সংকট দেখা দেবে।

নগরীর জিরো পয়েন্ট মাদানী নগর মাদ্রাসা ও এতিমখানার মোহতামিম মাওলানা মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘এবার ৫৬টি চামড়া সংগ্রহ করতে পেরেছি। কিন্তু বড় চামড়া গড়ে ২৫০ টাকা এবং ছোট চামড়া ১৫০ টাকায় প্রতি পিস বিক্রি করতে হয়েছে। চামড়া সংগ্রহের খরচও মেটানো কষ্টকর।’

তিনি আরো বলেন, ‘করোনার ভয়কে উপেক্ষা করে ঈদ উদযাপন বাদ দিয়ে কওমি মাদ্রাসা ও এতিমখানার ছাত্র-শিক্ষকরা কোরবানির চামড়া সংগ্রহ করেছেন। কিন্তু চামড়ার দামে চরম ধস নামায় মাদ্রাসা পরিচালনায় সংকট তৈরি হবে।’

নগরীর শহীদ শেখ আবু নাসের দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক খান জাহান জানান, তার মাদ্রাসার এতিমখানার জন্য গরুর চামড়া ১৫৯টি ও ছাগলের ৫৭টি চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় ৩০ শতাংশ কম দামে চামড়া বিক্রি করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘অনেক মাদ্রাসা ও এতিমখানা কোরবানির পশুর চামড়ার ওপর নির্ভর করে। অনেকে তাদের পশুর চামড়া মাদ্রাসা এবং এতিমখানায় দান করে। কিন্তু চামড়ার দাম নিম্নগামী হওয়ায় মাদ্রাসাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

শেখপাড়া চামড়াপট্টির আমান লেদার কমপ্লেক্সের মালিক আমানুল্লাহ আমান বলেন, ‘ট্যানারিতে গত বছরের চামড়া এখনো মজুদ আছে। তাই ট্যানারিতে চামড়া নেওয়ার আগ্রহ কম। এর সঙ্গে আছে করোনার প্রভাব। ট্যানারি মালিকদের কাছে আগের বকেয়া টাকা না পাওয়ায় আমরা নিজেরাই আছি চরম বিপর্যয়ের মধ্যে। সব মিলিয়ে এবার চামড়ার বাজার গত বছরের চেয়ে অনেক খারাপ।’

এদিকে, নগরীর শেখপাড়া চামড়াপট্টি ঘুরে দেখা গেছে, চামড়ায় লবণ মাখিয়ে তা রাস্তার ওপরেই স্তূপ করে রাখছেন। চামড়া থেকে নিঃসৃত রক্ত দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে পরিবেশদূষণ হচ্ছে। কিন্তু এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি নেই।

খুলনা/নূরুজ্জামান/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়