ঢাকা, সোমবার, ১১ ভাদ্র ১৪২৬, ২৬ আগস্ট ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

দাদুর জন্য প্রতীক্ষা

: রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৫-০৯-২২ ৮:৩৬:৩৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৬-০৯-০৫ ৩:১০:৩২ এএম
Walton E-plaza

|| শিশির মনির ||

ক.
আব্বু, আম্মু, দাদু আর সামির। চার সদস্যের ছোট্ট পরিবার। এই পরিবারে সামিরের সবচেয়ে ভালো বন্ধু তার দাদু। আব্বু-আম্মু যখন অফিসে থাকেন তখন সামিরের সময় তখন দাদুর সাথেই কাটে। স্কুল থেকে ফিরেই দাদুর সাথে রোজ গল্প জুড়ে দেয় সামির। দাদুও কম যান না। দীর্ঘ সময় ধরে আড্ডা জমিয়ে রাখার সব কায়দা-কানুন দাদুর ভালোই জানা আছে। গল্পের সাবলীল উপস্থাপনা ও হাস্যরসের মাধ্যমে দাদু পুরো সময়টা জমিয়ে রাখেন।
সেদিন স্কুল থেকে ফিরেই সামির আব্বু-আম্মুকে বাসায় দেখতে পেল। অফিস থেকে খানিকটা আগেই আব্বু-আম্মু চলে এসেছেন। আম্মুর সামনে আসতেই সামিরকে আম্মু বললেন ‘দ্রুত তৈরি হয়ে নাও। আমরা একটু বেরুব।’ সামিরের মনে কৌতুহলের সঞ্চার হলো। আজ তো কোথায়ও বের হওয়ার কথা ছিল না। স্কুল ছুটি হলেই না তবে খালামনির বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার কথা ছিল। তাহলে আমরা আজ কোথায় বেড়াতে যাব? সামির ভাবল দাদুকে জিজ্ঞেস করলেই তো হয়। দাদুর কাছেই জেনে নেওয়া যাবে। এই ভেবে দাদুর রুমের দিকে সামির দৌড় দিল।

খ.
রুমে ঢুকতেই সামির দেখল দাদু জামা-কাপড় ভাঁজ করে ব্যাগে ভরছেন। এতে সামিরের কৌতুহল আরো বেড়ে গেল। সামির ধরেই নিয়েছে দাদু গ্রামে ফিরে যাচ্ছেন। এইতো কয়েকদিন আগেই ফাহিমের দাদু গ্রামে ফিরে গেছেন। ফাহিমের আম্মু তার দাদুর সাথে খারাপ আচরণ করেছে। আর এতে কষ্ট পেয়ে ফাহিমের দাদু গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন। ফাহিমের আব্বু দাদুকে ফেরাতে অনেক চেষ্টা করেছেন কিন্তু দাদু কিছুতেই আর থাকতে চাইলেন না। ফাহিম এখন দাদুকে খুব মিস করে। ফাহিম সামিরের ভালো বন্ধু। একই স্কুলে পড়ে ওরা। ফাহিমের কাছ থেকেই তার দাদুর কথাটা শুনেছে সামির।
দাদু যদি সত্যিই গ্রামে ফিরে যায় তাহলে সামিরের কী কষ্টই না হবে! সামির খেলা করার জন্য আর কাউকে পাবে না। রোজ বসে আর কারো সাথে গল্পও করতে পারবে না। এক কথায় দাদু ছাড়া থাকতে সামিরের অনেক কষ্ট হবে।
এসব ভাবতেই সামিরের মন খারাপ হতে লাগল। সামির ভাবল কিছুতেই সে দাদুকে ফিরে যেতে দেবে না। দাদুকে তার কাছে থাকতেই হবে। সামিরের বিশ্বাস দাদু অবশ্যই তার কথা রাখবে। তার অনুরোধে দাদু অবশ্যই মত পাল্টাবেন।

গ.
সামির পা টিপে টিপে দাদুর একদম কাছে চলে এলো। সামিরকে দেখেই দাদু বললেন ‘কি দাদু ভাই কেমন আছ?
-ভালো আছি দাদু। আচ্ছা দাদু তুমি কোথাও যাচ্ছ?
-হ্যাঁ। তুমি জানো না?
-না দাদু। তুমি কি গ্রামে চলে যাচ্ছ?
-আরে না দাদু ভাই। তোমাদের ছেড়ে আমি কি কোথাও যেতে পারি?
দাদুর কথায় সামির যেন সম্বিৎ ফিরে পেলো। সামির বুঝতে পারল সে এতক্ষণ যা ভেবেছে তা নিছক ভুল। দাদু তাদের ছেড়ে কোথাও যেতেই পারেন না। এই ভেবে সামিরের মনে অনেক তৃপ্তি হলো।
সামির জানতে পারল তার দাদু গ্রামে ফিরে যাচ্ছেন না। তার দাদু হজ পালন করতে যাচ্ছেন। কিন্তু হজের বিষয়টা সামিরের মাথায় খেলল না। দাদু কিছুটা বুঝিয়ে বললেন, ‘হজ আল্লাহর একটা ইবাদত। সব মানুষের জীবনে একবার হজ পালন করতে হয়।’
-হজ কোথায় পালন করতে হয় দাদু?
-হজ পবিত্র কাবা শরিফে পালন করতে হয়।
-কাবা শরিফ কি বিদেশে দাদু?
-হ্যাঁ দাদু ভাই। এটা বিদেশে। সৌদি আরবের মক্কা শহরে পবিত্র কাবা শরিফ অবস্থিত।

সামির একের পর এক দাদুকে প্রশ্ন করেই যাচ্ছে। দাদু কথা দিলেন হজ থেকে ফিরলেই সামিরকে হজ সম্পর্কে সব বুঝিয়ে বলবেন।
দাদুকে বিদায় জানাতে আব্বু-আম্মুর সাথে সামিরও এয়ারপোর্টে এসেছে। গাল দুটি টেনে মাথায় হাত বুলিয়ে সামিরের কাছ থেকে দাদু বিদায় নিল। বলল ‘যাই দাদু ভাই। সময় হলে আবার ফিরে আসব। তোমাকে রাক্ষসের গল্পের বাকি অর্ধেকটা শোনাব।’ এই বলে দাদু এয়ারপোর্টের ভেতরে চলে গেলেন। কিছুক্ষণ পর দাদুর বিমান আকাশে উড়তে শুরু করল। সামির হাত নেড়ে টাটা দিল।

ঘ.
দাদু হজ থেকে কখন ফিরবেন, প্রতীক্ষায় যেন সামিরের দিনগুলো কাটছেই না। দাদুর কাছে হজের গল্প শোনার জন্য সামির একেবারে মুখিয়ে আছে। দাদু তো কথা দিয়েছেন ফিরলেই হজের সব গল্প শোনাবেন। দাদু আরো বলেছেন মক্কা থেকে আধা-পাকা খেজুর নিয়ে আসবেন। এই খেজুরগুলো খেতে নাকি অনেক মজা। সেই খেজুরের লোভটাও সামলাতে উঠতে পারছে না সে।
গতকাল দাদু মক্কাতে ঈদ পালন করেছেন। আজ সামিরদের ঈদ। প্রায়ই মক্কার একদিন পর বাংলাদেশে ঈদ হয়ে থাকে। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে দাদু সামিরের সাথে মোবাইলে যুক্ত হলেন। দাদু আর সামির ভিডিও কলে কথা বলছে। সামির মোবাইল স্ক্রিনে দাদুর ছবি দেখে পুরোপুরি অবাক হয়ে গেল। সামির বলেই বসল, ‘দাদু তোমার চুল কোথায়? তেলাপোকা খেয়ে ফেলেছে?’

দাদু মুচকি হেসে নাতির দুষ্টুমির জবাব দিলেন- ‘না দাদু ভাই। হজ শেষে মাথার চুল কেটে ফেলতে হয়।  দেশে ফিরেই না হয় সব কথা বলব। এখন রাখি দাদু ভাই!’ এই বলে দাদু মোবাইল রেখে দিলেন।
সামিরের প্রতীক্ষা শেষ হতে চলেছে। দাদু ফিরে আসবেন শিগগিরই। সব গল্পই তখন শোনা যাবে। এই ভেবে সামিরের আনন্দ যেন আর ধরছেই না।




লেখক : সাংবাদিকতায় মীনা অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিশু সাংবাদিক। মাসিক সাহিত্যপত্র পিঁপড়ায় কর্মরত। জন্ম সিলেটে।





রাইজিংবিডি/ঢাকা/২২ সেপ্টেম্বর ২০১৫/সনি

Walton AC
ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন
       

Walton AC
Marcel Fridge