ঢাকা     বুধবার   ১২ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২৮ ১৪২৭ ||  ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

পাওনা টাকা চাইতে শ্বশুরবাড়ি গিয়ে শেকলবন্দি জামাই

বরগুনা প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:৩৭, ২ আগস্ট ২০২০  
পাওনা টাকা চাইতে শ্বশুরবাড়ি গিয়ে শেকলবন্দি জামাই

বরগুনার পাথরঘাটায় শ্বশুরের কাছে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন জামাতা শফিকুল ইসলাম।

শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে শারীরিক নির্যাতন করে ১৬ দিন ধরে ঘরে শিকলবন্দি করে রেখেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। 
পাথরঘাটা পৌর সভার ৩নং ওয়ার্ডে উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন আ. হক মাস্টারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে। 

নির্যাতিত শফিকুল ইসলাম বরগুনা সদর উপজেলার ১০নং নলটোনা ইউনিয়নের শিয়ালিয়া গ্রামের আ. ছাত্তার ফকিরের ছেলে।

শফিকুল ইসলাম জানান, তিনি ঢাকার তিতুমীর কলেজ থেকে কেমেস্ট্রিতে মাস্টার্স করার পর টেক্সটাইলের ওপর পিএইচডি করেছেন। লেখাপড়া শেষ করে ‘বাংলাদেশ টেক্সফাইট বায়িংহাউজ লিমিটেড’ নামে প্রতিষ্ঠান খুলে ব্যবসা শুরু করেন। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান তিনি। বিয়ের পর স্ত্রী জেসমিন আক্তারকে তিনি ওই কোম্পানির পরিচালক পদে বসান।

ব্যবসা থেকে জেসমিন আক্তার তার বাবা আবদুল হক মাস্টারকে বিভিন্ন সময় বাড়ি নির্মাণ ও ব্যবসায় অর্থ যোগান, দুই ভাইকে বিদেশ পাঠানোসহ প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ টাকা ধার দিয়েছেন। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে শফিকুলের ব্যবসায় ধস নামে। এরপর শ্বশুরকে টাকা ধার দেওয়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বাকবিতণ্ডা হয়।

সেসময় স্বামীর সাথে রাগ করে স্ত্রী জেসমিন আক্তার ব্যবসার সব টাকা নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান। গত ১৪ জুলাই শফিকুল পাথরঘাটায় তার শ্বশুর বাড়িতে স্ত্রী ও সন্তানদের নিতে যান। সেসময় ধারের টাকা নিয়ে শ্বশুরের সাথে তার বাকবিতণ্ডা হয়।

শফিকুল আইনের আশ্রয় নেওয়ার কথা বললে, শ্বশুর আবদুল হক, শ্যালক রুমান হোসেন ও স্ত্রী জেসমিন আক্তার শফিকুলকে মারধর করে ১৬ দিন পর্যন্ত শিকল দিয়ে ঘরে বেঁধে রাখে। 

শফিকুল বলেন, ‘গতকাল শ্বশুর বাড়ির লোকজন কোরবানির পশু জবাই করা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। সেসময় আমি শিকলসহ ঘর থেকে বের হয়ে ইউএনও সাহেবের বাসায় গিয়ে তাকে কাছে বিষয়টি জানিয়েছি। ইউএনও মহোদয় বিষয়টি ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবু বকর সিদ্দিক মিল্লাতকে জানান। কাউন্সিলর সাহেব এসে আমার পায়ের শিকল খুলে দেন।’

শফিকুল ইসলামের শ্বশুর আবদুল হক মাস্টার বলেন, ‘শফিকুল আমার মেয়েকে নির্যাতন করেছে। তিনি অসুস্থ এ কারণে তাকে শিকল পরানো হয়েছে। তাকে কোনো নির্যাতন করা হয়নি। জামাই কিছু টাকা পাবে, তা পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে।’

পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হুমায়ুন কবির জানান, ঈদের দিন দুপুরে বাসায় মেহমান নিয়ে খাবার খাচ্ছিলেন, এমন সময় শিকল পরা অবস্থায় শফিকুল নামে এক ব‌্যক্তি তার কাছে নির্যাতনের মৌখিক নালিশ জানিয়ে গেছেন। পরে তার পায়ের শিকল খুলে দেওয়া হয়। শফিকুল আইনের আশ্রয় নিলে তাকে সহযোগিতা করা হবে বলে জানান নির্বাহী অফিসার মো. হুমায়ুন কবির।

রুদ্র রুহান/সনি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়