ঢাকা, রবিবার, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৭ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

ফেনীর নুসরাত হত্যা মামলার রায় কাল

ফেনী সংবাদদাতা : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১০-২৩ ২:০০:৫৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১০-২৪ ৮:২০:৪৩ এএম

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আগামীকাল ফেনীর বহুল আলোচিত সোনাগাজী মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার রায় ঘোষণা করা হবে।

বৃহস্পতিবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ এই রায় ঘোষণা করবেন।

মামলার কার্যক্রম শুরুর ৬২ কার্যদিবসে নুসরাত হত্যা মামলার সকল আনুষ্ঠানিক পর্ব শেষে রায় ঘোষণার দিন ধার্য করে আদালত।

নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টার ঘটনার প্রায় সাত মাসের মধ্যে বিচার কাজ শেষ হলো। এ মামলার বিচার শুরুর পর ৬২ কার্যদিবসে আসামিরা আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র, বাদী ও আসামিদের যুক্তিতর্কের পর আইনগত প্রশ্নের উত্তর শেষে আদালত ২৪ অক্টোবর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোমবার রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন পাবলিক প্রসিকিউটর হাফেজ আহম্মদ। বাদীপক্ষের আইনজীবী আক্রামুজ্জামান ও এম. শাহজাহান সাজু আসামিপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক খণ্ডন করে নিজেদের পক্ষে তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন। তারা আদালতের কাছে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। এর আগে এগার কার্যদিবসে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুখ আহমেদ, গিয়াস উদ্দিন আহমেদ নান্নু, আহসান কবির বেঙ্গল ও কামরুল হাসান।

গত ২৯ মে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালতে ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে ৮০৮ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ইন্সপেক্টর মো. শাহ আলম। চার্জশীটভুক্ত ১৬ আসামির মধ্যে ১২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে।

আদালতে মামলার বিচার কার্যক্রম শুরুতে নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান সাক্ষ্য প্রদান করেন। এরপর এক এক করে ৪৭ কার্য দিবসে ৯২ সাক্ষীর মধ্যে ৮৭ সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন। সর্বশেষ সাক্ষী মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ইন্সপেক্টর শাহ আলম সাক্ষ্য প্রদান করেন।

তিনি ঘটনার পর মোবাইলে আসামিদের একে অপরের সঙ্গে কথোপকথনের অডিও কলের রেকর্ড, নুসরাতের ডাইং ডিক্লারেশনসহ বেশ কিছু অডিও-ভিডিও আদালতে প্রজেক্টরের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন। আদালতে সাক্ষ্য হিসেবে ডিজিটাল পদ্ধতির উপস্থাপন বাংলাদেশে এটাই প্রথম বলে জানিয়েছেন আইনজীবীগণ।

আলোচিত এ মামলায় ২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও পিবিআই। তারা হলেন:  মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ দৌলা, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও মাদ্রাসার সহ-সভাপতি রুহুল আমিন, পৌর কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম, শিক্ষক আবছার উদ্দিন, সহপাঠী আরিফুল ইসলাম, নূর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ জনি, মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, শাহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষের শ্যালিকার মেয়ে উম্মে সুলতানা পপি, জাবেদ হোসেন, জোবায়ের আহমেদ, নুরউদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, মোঃ শামীম, কামরুন নাহার মনি, আবদুর রহিম ওরফে শরিফ, ইফতেখার হোসেন রানা, এমরান হোসেন মামুন, মহিউদ্দিন শাকিল ও হাফেজ আবদুল কাদের ।

মামলায় মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও তদন্তে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় অন্য পাঁচ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

এ মামলায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ ১২ জন আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। তারা হলেন- নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম ওরফে শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের, জোবায়ের আহমেদ, এমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার হোসেন রানা ও মহিউদ্দিন শাকিল।

বিচারিক আদালত ১৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশীট গঠন করেন, চার্জশীটভুক্ত ১৬ আসামিরা হলেন- এসএম সিরাজ উদ দৌলা (৫৭), নুর উদ্দিন (২০), শাহাদাত হোসেন শামীম (২০), মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর (৫০), সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের (২১), জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন (১৯), হাফেজ আব্দুল কাদের (২৫), আবছার উদ্দিন (৩৩), কামরুন নাহার মনি (১৯), উম্মে সুলতানা ওরফে পপি (১৯), আব্দুর রহিম শরীফ (২০), ইফতেখার উদ্দিন রানা (২২), ইমরান হোসেন ওরফে মামুন (২২), রুহুল আমিন (৫৫), মহিউদ্দিন শাকিল (২০) ও মোহাম্মদ শামীম (২০)।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়ের দায়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে আটক করে পুলিশ। পরে ৬ এপ্রিল মাদ্রাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ১০ এপ্রিল রাতে মারা যায় নুসরাত জাহান রাফি।

এ ঘটনা তার বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

অন্যদিকে, অধ্যক্ষের যৌন হয়রানির বিষয়ে নুসরাতের অভিযোগ গ্রহণের সময় তার ভিডিও ধারণ করে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলায় সোনাগাজী থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনেরও বিচার চলছে। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

 

ফেনী/সৌরভ পাটোয়ারী/বুলাকী

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন