ঢাকা     বুধবার   ০৫ অক্টোবর ২০২২ ||  আশ্বিন ২০ ১৪২৯ ||  ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪১৪

বঙ্গবন্ধুর দুয়েকজন খুনিকে শিগগিরই দেশে আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:০০, ৫ আগস্ট ২০২২  
বঙ্গবন্ধুর দুয়েকজন খুনিকে শিগগিরই দেশে আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অনেককেই এরই মধ্যে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। যারা এখনো পলাতক রয়েছে, তাদের মধ্যে দুয়েকজনকে শিগগিরই দেশে আনা হবে।’

শুক্রবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় নগরীর আন্দরকিল্লাস্থ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) চত্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু পরিবারের সবাইকে হত্যা করা হয়। কারণ খুনিরা ভালো করেই জানতো, বঙ্গবন্ধুর রক্ত যাদের ধমনীতে প্রবাহিত তাদের কেউ বেঁচে থাকলে তাদের বিচার একদিন হবেই। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ অনেক আগেই উন্নয়নের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যেতো। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা তা হতে দেয়নি। তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন।’

মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রামের মুক্তিযোদ্ধাদের ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারা অসীম সাহসিকতার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা তাদের সেই ত্যাগের প্রতিদান দিয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের সরকারি ভাতাসহ নানা সুযোগ-সুবিধা দিয়ে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী সব সময় প্রমাণ করেছেন, তিনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা। নানা ধরনের ষড়যন্ত্র তিনি মোকাবিলা করছেন।’

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘২১ আগস্টের বোমা হামলা, সেই দিনের হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য আপনারা দেখেছেন। বঙ্গবন্ধু কন্যাকে মহান রাব্বুল আলামিন বাঁচিয়েছেন, বাঁচার কোনও উপায় ছিল না।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘একজন একজন করে হারিয়ে যাচ্ছি। আগামী ১০ বছরে ৬০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা হারিয়ে যাবেন। আমরা সারা বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধারা বেঁচে আছি, সেটা প্রমাণ করতে একটি সমাবেশ করবো। বঙ্গবন্ধুর মুক্তিযোদ্ধারা এখনো বেঁচে আছেন, যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে তারা প্রস্তুত।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ডাকে নিরস্ত্র বাঙালি সশস্ত্র যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। আবার বঙ্গবন্ধু কন্যার ডাকে আজকে উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে সব ধরনের সহযোগিতা করছি। এই দেশ হলো হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানের দেশ। এই দেশে সবাই স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ সবকিছুতে সমান অধিকার পাবে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘অনেকেই ইতিহাস বিকৃত করে অনেক কথা বলছেন। বঙ্গবন্ধুর নামটাও মুছে ফেলার প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। আমরা অনেক দৃশ্য দেখেছি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার দৃশ্য কোনোদিন ভুলতে পারবো না। কী অপরাধ করেছিলো বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যরা। এসব কিছুর আজকে হিসাব-নিকাশের সময় এসেছে। কারা এর সুবিধাভোগী? বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে খুনি, কুলাঙ্গাররা বাংলাদেশকে অন্ধকারের জগতে ডুবিয়ে দিতে চেয়েছিল।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। ১৯৭১ সালে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে তারা জীবন বাজি রেখে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশ উপহার দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে আমরা আজ স্বাধীন দেশ পেতাম না। স্বাধীনতাবিরোধীরা বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠরোধ করতে চেয়েছিল। খুনি জিয়া-মোস্তাকসহ যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে সহ্য করেনি, তারাই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক কলঙ্কময় অধ্যায় যুক্ত হয়েছিল। যারা স্বাধীনতাবিরোধী ও বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারের হত্যার মদদ দিয়েছে তাদের খুঁজে বের করতে হবে। স্বাধীনতা পরবর্তী বিএনপি-জামাত-রাজাকারেরা ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের শুধু বিদেশে পাঠায়নি, দূতাবাসের মাধ্যমে তাদের উচ্চপদে চাকরিও দেওয়া হয়েছিল। তাই শোককে শক্তিতে রূপান্তরের মাধ্যমে জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’

রেজাউল/কেআই

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়