RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     শুক্রবার   ২৭ নভেম্বর ২০২০ ||  অগ্রাহায়ণ ১৩ ১৪২৭ ||  ০৯ রবিউস সানি ১৪৪২

বাউলসম্রাট স্মরণে ‘মহাজনের নাও’

আমিনুল ইসলাম শান্ত || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৬:১৭, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
বাউলসম্রাট স্মরণে ‘মহাজনের নাও’

বিনোদন ডেস্ক: সুবচন নাট্য সংসদের আলোচিত প্রযোজনা ‘মহাজনের নাও’। বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিমের জীবন, সংগীত ও দর্শন নিয়ে গড়ে উঠেছে নাটকটির গল্প। এটি রচনা করেছেন শাকুর মজিদ। নির্দেশনায় রয়েছেন সুদীপ চক্রবর্তী।

১২ সেপ্টেম্বর বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিমের দশম মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার মিলনায়তনে নাটকটির ১২৫তম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। এ প্রদর্শনী শাহ আবদুল করিমের স্মৃতির উদ্দেশে উৎসর্গ করা হবে। মঞ্চায়ন শেষে শাহ আবদুল করিমের জীবন, দর্শন এবং নাটকের ১২৫তম সন্ধ্যা পূর্ণ করা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানা গেছে।

নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন আহাম্মদ গিয়াস, আসাদুল ইসলাম, আমিরুল ইসলাম বাবুল, আনসার আলী, সোনিয়া হাসান সুবর্ণা, ইমরান হোসেন, ইমতিয়াজ, সোহেল, রাসেল, তানভীর প্রমুখ।

বাংলাদেশের ভাটি অঞ্চল সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় ১৯১৬ সালে জন্ম নেয় সাধক শাহ আবদুল করিম। তার জীবনের তত্ত্ব কথা ও জীবনদর্শন নিয়ে এ নাটকটি রচনা করেন শাকুর মজিদ। নাটকে দেখা যায়—বাউল করিম রাখাল বালক, গরুর পাল নিয়ে ছুটে চলে গ্রামের মেঠোপথে, দোতারা হাতে নদীর তীরে হাঁটে, রাখাল বালক হাঁটতে হাঁটতে গান বাধে। তার গানে থাকে ভাটির কথা, অনাহারী কৃষকের কথা। গানে গানে মানুষের দুঃখে করিম কাঁদে।

করিমের কণ্ঠে উঠে আসে হাওর প্রদেশের গান; গানে উঠে আসে ভাটির টান। ভাটি গ্রাম উজানধরের মসজিদের ইমাম বাউল করিমকে গান-বাজনা করে বলে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দিতে চান। আকবর, রুহী, বনেশসহ ভাটি অঞ্চলের বাউলের দল করিমের পিছু পিছু দলে এসে ভিড়ে। সবাই মুর্শিদ মেনে করিমের শিষ্য হতে চায়; ভাটি অঞ্চল আর হাওর প্রদেশের নদীর তীরে রাখাল বালক থেকে দিনে দিনে তার বাউলের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। এভাবে দিন যায় মাস যায় বছর যায়। পরিণত বয়সে এসে করিমের মনে ভাবনার উদয় হয়, কোনো এক মহাজনের কাছ থেকে পাওয়া নৌকা, যে নৌকার মালিক তিনি নন, চালিয়ে নেয়াটাই ছিল শুধু তার দায়িত্ব। ‘মহাজনের নাও’ নাটকে সুবচন নাট্যদল শাহ আবদুল করিমের জীবনের গল্প বলতে গিয়ে এ কথাটিই বলতে চেয়েছেন দর্শকদের।

২০১০ সালের ১৮ জুন নাটকটি প্রথম মঞ্চে নিয়ে আসে সুবচন নাট্য সংসদ। তারপর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির  মঞ্চ ছাড়াও দেশের নানা প্রান্তে নাটকটি বহুবার মঞ্চস্থ হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে দক্ষিণ কোরিয়ায় দুটি প্রদর্শনী ছাড়াও ভারতের ত্রিপুরা, জলপাইগুড়ি, আসাম, কলকাতা, লন্ডন এবং বাংলাদেশের কুমিল্লা, চাঁদপুর, রাজশাহী, সিলেট, সাভার, বিয়ানীবাজার, বরিশালসহ বিভিন্ন জায়গায় প্রদর্শনী হয়েছে।

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯/শান্ত

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়