RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     সোমবার   ১৮ জানুয়ারি ২০২১ ||  মাঘ ৪ ১৪২৭ ||  ০২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বিশ্ববিখ্যাত পাঁচ চলচ্চিত্র ট্রিলজি

রুহুল আমিন || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০২:১৭, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
বিশ্ববিখ্যাত পাঁচ চলচ্চিত্র ট্রিলজি

রুহুল আমিন : ট্রিলজি ইংরেজি শব্দ। এর বাংলা ত্রয়ী। সাধারণত কোনো সিরিজের ক্ষেত্রে এই শব্দটি ব্যবহার করা হয়। যখন কোনো লেখা বা চলচ্চিত্রের তিনটি খণ্ড বা সিরিজ হয় তখন তাকে ট্রিলজি বা ত্রয়ী বলা হয়। বাংলা উপন্যাসের ক্ষেত্রে শব্দটি খুব পরিচিত না হলেও চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে এটি বেশ পরিচিত। 

 

চলচ্চিত্রে ট্রিলজি নতুন কিছু নয়। এ পর্যন্ত নির্মিত ট্রিলজির অনেকগুলো দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্যতাও পেয়েছে। কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতাসহ অনেক চলচ্চিত্র নির্মাতা চলচ্চিত্রে ট্রিলজি নির্মাণ করেছেন। আবার এমন কিছু সিনেমা আছে যেগুলো নির্মাতা ঠিক সচেতনভাবে ট্রিলজি হিসেবে নির্মাণ করতে চাননি। কিন্তু পরবর্তীতে গল্পের থিম এবং ঘটনা প্রবাহ মিলে যাওয়ায় সেটি ট্রিলজি হিসেবে বিবেচিত হয়। বিখ্যাত কয়েকটি ট্রিলজি নিয়ে সাজানো হয়েছে এই প্রতিবেদন।


নরিকি ট্রিলজি  : কাজের শুরুতেই জাপানের বাইরে সমসাময়িক বিশ্বে আকিরা কুরোসাওয়া বা ইয়াসুজিরো ওজুকে কেউ চিনত না। এখন এই দুইজনকেই বিশ্বের বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা বিবেচনা করা হয়। আর ওজুকে চলচ্চিত্র নির্মাতা ও স্কলাররা প্রখ্যাত নির্মাতা মনে করেন। তার নরিকি ট্রিলজির তৃতীয় ছবি টোকিও স্টোরি (১৯৫৩) সর্বকালের সেরা সিনেমার তালিকায় আছে। নরিকি ট্রিলজির অন্য দুটি সিনেমা হলো লেট স্প্রিং (১৯৪৯) ও আর্লি সামার (১৯৫১)।  এই তিনটি সিনেমার নরিকি নামের চরিত্রটি দিয়ে একটি সিনেমা অন্যটির সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। সেটসুকো হারা নামের জাপানি তরুণী অভিনেত্রী তিনটি সিনেমায় নরিকি চরিত্রে অভিনয় করেন। এই ট্রিলজিতে ওজুর নির্মাণ শৈলির উৎকর্ষতা পাওয়া যায়।

ট্রিলজি অব ফেইথ : প্রত্যেক চলচ্চিত্র প্রেমিকই কিংবদন্তি সুইডিশ নির্মাতা ইঙ্গমার বার্গম্যান ও তার ট্রিলজি অব ফেইথের কথা কমবেশি জানেন। এই ট্রিলজির সিমেনাগুলো হলো থ্রু অ্যা গ্লাস ডার্কলি (১৯৬১), উইন্টার লাইট (১৯৬৩) ও দ্য সাইলেন্স (১৯৬৩)। প্রকৃতপক্ষে এই সিনেমাগুলো ট্রিলজি হিসেবে নির্মিত হয়নি। কিন্তু তিনটি সিনেমার বিষয়গত সংযোগ, বিশ্বাস ও স্পিরিচুয়াল ক্রাইসিসের জন্য ট্রিলজি হিসেবে বিবেচিত হয়। আর এই ট্রিলজির থ্রু অ্যা গ্লাস বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র হিসেবে ১৯৬২ সালে একাডেমি অ্যাওয়ার্ড জিতে নেয়।
 


অপু ট্রিলজি : বিশ্ব সিনেমার সবচেয়ে প্রখ্যাত ট্রিলজি হলো অপু ট্রিলজি। ভারতীয় লেখক ও প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায় এই ট্রিলজিটি নির্মাণ করেন। বাংলা ভাষায় নির্মিত এই ট্রিলজির সিনেমাগুলো হলো- পথের পাঁচালী (১৯৫৫),  অপরাজিত (১৯৫৭) ও  অপুর সংসার (১৯৫৯)। কম বাজেট ও অনেকটা অপেশাদার অভিনেতা দিয়ে সিনেমাগুলো নির্মিত হলেও বিশ্বব্যাপী সিনেমাগুলো প্রশংসিত হয়। পথের পাঁচালী, অপরাজিত, অপুর সংসার তিনটি চলচ্চিত্রেরই সমাপ্তি একই মন্তাজ দিয়ে। নতুন দিনের যাত্রা। নতুন করে বাঁচা।
 


কোকার ট্রিলজি : ইরানিয়ান কিংবদন্তি চলচ্চিত্র পরিচালক আব্বাস কিয়ারোস্তামি নির্মাণ করেন কোকার ট্রিলজি নামে তিনটি চলচ্চিত্র। এই ট্রিলজির চলচ্চিত্রগুলো হলো- হোয়ার ইজ দ্য ফ্রেন্ড’স হোম? (১৯৮৭), লাইফ অ্যান্ড নাথিং মোর... (১৯৯২) ও থ্রু দ্য ওলিভ ট্রিজ (১৯৯৪)। এই ট্রিলজির সিনেমাগুলো  ইরানের কোকার গ্রামকে কেন্দ্র করে নির্মিত। যে গ্রামে ১৯৯০ সালে ভয়াবহ এক ভূমিকম্প হয়। ট্রিলজির প্রথম সিনেমাতে ভূমিকম্পের আগের কাহিনি বলেন কিয়ারোস্তামি। পরের সিনেমাগুলোতে ভূমিকম্প পরবর্তী অবস্থার চিত্র তুলে ধরেন তিনি। পরিচালক এই ট্রিলজিতে জাগতিক বিষয়ের ওপর ফোকাস করেন।
 


দ্য গডফাদার ট্রিলজি : ইতালির মাফিয়া সাম্রাজ্য নিয়ে ফ্রান্সিস ফোর্ড কপোলার নির্মিত দ্য গডফাদার ১৯৭২ সালে মুক্তি পায়। এই ট্রিলজির পরের দুটি সিনেমা হলো দ্য গডফাদার-টু (১৯৭৪) ও দ্য গডফাদার-থ্রি (১৯৯০)। বিশ্ব সিনেমা ইতিহাসে এই ট্রিলজির সিনেমাগুলো খুবই ব্যবসাসফল এবং জনপ্রিয়। সিনেমাগুলোতে পরিচালকের মুন্সিয়ানা তো ছিলই, এ ছাড়া অভিনেতা মারলন ব্র্যান্ডো, আল পাচিনো, রবার্ট ডি নিরো ও রবার্ট দুভ্যাল দুর্দান্ত অভিনয় করেন।

সূত্র : ওনডারসলিস্ট

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭/রুহুল/শান্ত

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়