ঢাকা     সোমবার   ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ ||  আশ্বিন ১১ ১৪২৯ ||  ২৯ সফর ১৪৪৪

ভার্চুয়াল সমাবর্তন চান না সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা

রায়হান হোসেন || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:২৯, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২  
ভার্চুয়াল সমাবর্তন চান না সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা

ভার্চুয়াল সমাবর্তন চান না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। অধিভুক্ত হওয়ার পর প্রথম ২০১৯ সালে ৫২তম সমাবর্তন পান এই কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা। তবে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতো সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা সরাসরি ওই সমাবর্তনে অংশ নিতে পারেননি। তাদের যুক্ত হতে হয়েছে ভার্চুয়ালি। তবে, এবার সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা সরাসরি সমাবর্তনে অংশ নিতে চান।

এ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ৫৩তম সমাবর্তন হবে ১৯ নভেম্বর। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য সরাসরি অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য সে সুযোগ থাকছে না। সমাবর্তনের দিন প্রজেক্টরের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভার্চুয়ালি যুক্ত হতে পারবেন সাত কলেজের গ্রাজুয়েটরা।

এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা সশরীরে সমাবর্তনে অংশ নিতে চান। এ নিয়ে সাত কলেজের সর্ববৃহৎ ফেসবুক গ্রুপ 'সেভেন কলেজেস অ্যাফিলিয়েটেড উইথ ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা' এক ভার্চুয়াল ভোটের আয়োজন করে। এতে দেখা যায় ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী ভার্চুয়াল সমাবর্তনে অংশ না নেওয়ার পক্ষে ভোট দেন।

ফেসবুকে এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের তীর্যক মন্তব্য করতে দেখা গেছে। কেউ কেউ একে প্রহসনের সমাবর্তন বলছেন। কেউ কেউ তুলনা করছেন যাত্রাপালার সঙ্গে।

ঢাকা কলেজ থেকে সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করা নাসরুল্লাহ শাকুরি রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘এই ভার্চুয়াল সমাবর্তন আর ঘরে বসে বিশ্ববিদ্যালয় দেখা কিংবা যাত্রাপালা দেখা কিংবা বায়োস্কোপ দেখার মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখি না। খুবই দুঃখের বিষয় যে, অধিভুক্ত হওয়ার পর থেকে দেশের সবচেয়ে প্রাচীনতম বিদ্যাপিঠগুলো থেকে উচ্চ শিক্ষা নেওয়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমাবর্তনের নামে এমনই কৌতুক করে আসছে ঢাবি প্রশাসন। এর ফলে সমাজের চোখে হাসির পাত্রে পরিণত হচ্ছেন এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা৷’

বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী সামিরা আক্তার রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘সমাবর্তন হলো সনদ হস্তান্তরের দিন। যেখানে সর্বোচ্চ পদস্থ ব্যক্তির হাত দিয়ে শিক্ষার্থীকে সম্মানিত করা হয়। সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য সেখানে না আছে কোনো সম্মান, না আছে কোনো আনুষ্ঠানিকতা। শুধুই প্রহসন। সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের ঢাবির সঙ্গে এক স্থানে না হলেও আলাদা স্থানে অনুষ্ঠানিকতা ও রাষ্ট্রপতি বা উচ্চপদস্থ কারো দ্বারা সম্মানিত হবার অধিকার আছে। এই দিনটি শিক্ষার্থীর জন্য সবচেয়ে স্মরণীয় দিন। এটাকে সর্বোত্তম করার দায়িত্বও ঢাকা বিশ্বদ্যালয়ের।’

সাত কলেজের সমন্বয়ক ও ইডেন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক অধ্যাপক সুপ্রিয়া ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা ৫২তম সমাবর্তনেও প্রজেক্টের মাধ্যমে অংশ নিয়েছিল। একইভাবে ৫৩তম সমাবর্তনেও সাত কলেজ শিক্ষার্থীরা প্রজেক্টের মাধ্যমে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে আমরা তাদের সাথে আলোচনা করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তুলনায় সাত কলেজের শিক্ষার্থীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি হওয়ায় ভিন্ন ভিন্ন ভেন্যুতে আয়োজন করা হবে।’

ঢাকা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ ও সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছে ঢাকা কলেজ কেন্দ্রীয় খেলা মাঠ এবং ইডেন মহিলা কলেজ ও বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছে ইডেন মহিলা কলেজের কেন্দ্রীয় মাঠে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে।

উল্লেখ্য, ১৯২৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম নিয়মিত সমাবর্তনে বাংলার তৎকালীন গভর্নর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর লর্ড লিটন (রোনাল্ডশে সিআইই) সমাবর্তন ভাষণ দেন। এর পর ১৯২৪ থেকে ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত প্রতি বছরই (মোট ২৪ বার) সমাবর্তন হয়। ব্রিটিশ আমলে শেষ সমাবর্তন হয় ১৯৪৬ সালের ২১ নভেম্বর।

রায়হান/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়