Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     বুধবার   ০৩ মার্চ ২০২১ ||  ফাল্গুন ১৮ ১৪২৭ ||  ১৮ রজব ১৪৪২

ভাষার মাসে চলছে ‘মায়ের ভাষায় মাকে লিখি’ প্রতিযোগিতা

দিবারুল ইসলাম দ্বীপ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:১১, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১  
ভাষার মাসে চলছে ‘মায়ের ভাষায় মাকে লিখি’ প্রতিযোগিতা

‘মা তোমায় অনেক ভালবাসি’ কখনো কি মুখ ফুটে বলা হয়েছে? নাকি আধুনিক এই যুগে মেসেজ করে জানিয়েছেন মাকে আপনার ভালোবাসা! হয়তো অনেকেই করেননি। হয়তো আপনি কখনো সে সুযোগ পাননি। তবে কেমন হবে যদি আপনি আপনার মাকে কতটা ভালোবাসেন, সেই আবেগঘন কথাগুলো তাকে বলে দেওয়ার সুযোগ পেতেন!   

হ্যাঁ, মেঘ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ভাষার প্রদীপ আয়োজিত ‘মায়ের ভাষায় মাকে লিখি’ প্রতিযোগিতাটি মাকে না বলা কথাগুলো চিঠির মাধ্যমে মায়ের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ করে দিচ্ছে। সঙ্গে থাকছে শত আকর্ষণীয় পুরস্কার। 

২০০৭ সাল থেকে ভাষার প্রদীপ সংগঠনের কার্যক্রম শুরু হয়। তখন থেকেই বাংলায় মোবাইল নম্বর বলতে পারলে ফ্লেক্সিলোড উপহার দিতেন প্রতিষ্ঠাতা ফাহাদ বিন বেলায়েত। এটি ছিল তাঁর ব্যতিক্রম উদ্যোগ। ২০১৪ সাল থেকে তিনি 'মায়ের ভাষায় মাকে লিখি' চিঠি লেখা প্রতিযোগিতা নামে আরেকটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগের সূচনা করেন। তখন থেকে প্রতিবছর ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতেই তিনি এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন। 

মাকে না বলতে পারা কথাগুলো লিখে ছাত্র-ছাত্রীরা মাসব্যাপী ভাষার প্রদীপ সংগঠনের সমন্বয়কের কাছে চিঠিগুলো জমা দেন। তবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে কাগজ-কলম বিনামূল্যে দিয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে এ কার্যক্রমের আয়োজন করেন। পরে চিঠিগুলো পর্যালোচনা করে ১০০ জনকে পুরস্কৃত করা হয়। তবে এবার অফলাইন ও অনলাইনের মাধ্যমে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাকে না বলা কথাগুলো চিঠিতে লিখে ভাষার প্রদীপ ফেসবুক পেজ (https://www.facebook.com/BhasharProdip/) ম্যাসেজ বক্সে হাতে লিখে স্ক্যান করে পাঠাতে হবে। লক্ষ্মীপুরসহ সারা দেশ থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য উম্মুক্ত প্রতিযোগিতা এটি।

সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে লক্ষ্মীপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজিত 'মায়ের ভাষায় মাকে লিখি' চিঠি লেখা প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ওই তিন মমতাময়ী মা অতিথি ছিলেন। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ৬৫ বছর বয়সী রহিমা বেগম। বিশেষ অতিথি হিসেবে ববিতা রাণী দাস, শিউলি আক্তার ছিলেন। তারা প্রত্যেকেই ভিক্ষাবৃত্তির সাথে জড়িত হওয়া সত্বেও মায়ের প্রতি সম্মানার্থে তাদেরকে অতিথি করা হয়। কারণ মায়ের প্রতি ভালোবাসা কোনো ধর্ম, বর্ণ, গোত্র,  শ্রেণি দেখে হয় না। 

মেঘ ফাউন্ডেশনের সদস্য রিয়াদ হোসেনের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠাতা ফাহাদ বিন বেলায়েত, সবুজ বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন বাবু ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠক রাজীব হোসেন রাজু, ইয়াসিন আরাফাত হৃদয়।

চিঠি লিখা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার নিয়ম

চারটি বিভাগে এই আয়োজন হবে
ক. প্রাথমিক-তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি
খ. মাধ্যমিক- ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি
গ. উচ্চ মাধ্যমিক - একাদশ থেকে ডিগ্রি/অর্নাস
ঘ. উন্মুক্ত

অংশগ্রহণের নিয়ম

১. লক্ষ্মীপুরসহ পুরো দেশ এবং দেশের বাইরে থেকে যে কেউ এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
২. মায়ের কাছে চিঠি লিখতে হবে নিজ হাতে এবং কাগজে (আপনার যত পৃষ্ঠা লাগে)
৩. কোন ধরনের রচনা কিংবা বিভিন্ন বই দেখে ইন্টারনেট দেখে লিখা গ্রহণ করা হবে না।
৪. যে কথাগুলো মা কে বলা হয়ে উঠে না, সে আবেগ অনুভূতি, চাওয়া, কিংবা কোনো সমস্যা ইত্যাদি যে কোনো বিষয়ে লেখা যাবে।
৫. চিঠি যদি আপনার মায়ের কাছে পৌঁছাতে চান, তাহলে ‘মায়ের কাছে যাবে’ এটি নোট করে দিতে হবে।

যেভাবে চিঠি পাঠাবেন

লক্ষ্মীপুরের প্রতিযোগীরা যেভাবে আমাদের কাছে জমা দিতে পারেন।
১. আপনি যে উপজেলায় আছেন, সেটা জানাবেন ঠিকানা দিয়ে দেওয়া হবে।
২. লক্ষ্মীপুর সদরে যারা আছেন, তারা নিম্নোক্ত ঠিকানায় চিঠি পৌঁছাতে পারেন -
ক. স্মার্ট নেট অফিস হাসপাতাল রোড, লক্ষ্মীপুর
খ. গার্ডেনিয়া মিনি চাইনিজ, চকবাজার লক্ষ্মীপুর।
গ. রংধনু কসমেটিক, নিউ মার্কেট লক্ষ্মীপুর।
অথবা কুরিয়ার করতে পারেন
এছাড়াও স্ক্যান করে পাঠাতে পারেন পেজ ইনবক্স অথবা হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে (০১৯৭০১৪৫১৪৩) অথবা ই-মেলে।

লক্ষ্মীপুর জেলার বাইরে থেকে চিঠি পাঠানোর নিয়ম

১. স্ক্যান করে পাঠাতে পারেন পেজ ইনবক্স অথবা হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে (০১৯৭০১৪৫১৪৩) অথবা ই-মেলে।
২. কুরিয়ায়ের মাধ্যমে ‘মায়ের ভাষায় মাকে লিখি’
প্রযত্নে -মেঘ ফাউন্ডেশন, আলেয়া ভবন, হাসপাতাল রোড লক্ষ্মীপুর।
যোগাযোগ করতে পারেন -০১৯৭০১৪৫১৪৩ অথবা পেজ ইনবক্সে।
জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ইভেন্টের ব্যাপারে ভাষার প্রদীপ ও মেঘ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ফাহাদ বিন বেলায়েত বলেন, শুধু ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতে নয়, বছরজুড়ে মাতৃভাষা ও মাতৃভূমির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমরা এই ভিন্ন ভিন্ন আয়োজনগুলো করে থাকি। আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, আমাদের ঐতিহ্য ইতিহাস এবং বাংলা ভাষার প্রতি সব শ্রেণিপেশার মানুষ বিশেষ করে আগামী প্রজন্মকে আরো আগ্রহী করে তুলতে আমাদের এই কার্যক্রম।

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়