Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     সোমবার   ০৬ ডিসেম্বর ২০২১ ||  অগ্রহায়ণ ২২ ১৪২৮ ||  ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৩

মধুমতি গিলে খাচ্ছে বসতবাড়ি, ফসলি জমি

মাগুরা সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:০২, ২৩ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১০:৩৯, ২৫ আগস্ট ২০২০
মধুমতি গিলে খাচ্ছে বসতবাড়ি, ফসলি জমি

মাগুরায় মধুমতি নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে অনেক বসতবাড়ি

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় মধুমতি নদীর ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি ও ফসলি জমিসহ নানা স্থাপনা। কয়েক বছরের অব্যাহত ভাঙনে মহম্মদপুরের অন্তত ১০টি গ্রামের বেশিরভাগ অংশ ইতোমধ‌্যে নদীতে বিলীন হয়েছে। সম্প্রতি আবার ভাঙন শুরু হয়েছে। মধুমতি নদী যেন গিলে খাচ্ছে তীরবর্তী বাড়িঘর, জমি, গাছপালাসহ সবকিছু।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময় প্রতিশ্রুতি দিলেও নদীভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। পানি উন্নয়ন বোর্ডও (পাউবো) ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী।

মহম্মদপুর উপজেলার পূর্ব পাশ দিয়ে প্রবাহিত পদ্মার শাখা নদী মধুমতির ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় নদীর তীরবর্তী তিন ইউনিয়নের ১০ গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত তিন দিনে নদী গ্রাস করছে দেড় হাজার একর আবাদি জমি, গাছপালা, বসতভিটা ও মসজিদসহ কয়েকশ’ স্থাপনা। ভাঙনের মুখে পড়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। স্থানীয়দের অনেকেই বাড়ি-ঘর অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন।

রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে মধুমতির ভাঙনকবলিত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার বারিদিয়া ইউনিয়নের হরেকৃষ্ণপুর; সদর ইউনিয়নের গোপালনগর, কাশিপুর, রায়পাশা, ভোলানাথপুর, পাচুড়িয়া ও রুইজানী এবং পলাশবাড়িয়া ইউনিয়নের ঝামা, আড়মাঝি, যশোবন্তপুর গ্রাম ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে। এসব গ্রামের কয়েকশ’ বসতবাড়ি ইতোমধ্যেই নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। অনেক বাড়ি, কৃষিজমি ও গাছপালা ভাঙনের মুখে আছে।

উপজেলার সবচেয়ে প্রাচীন কাশিপুর গোরস্থান থেকে ৫০ গজ দূরে ফুঁসছে মধুমতি। নদী ক্রমেই বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দিকে এগিয়ে আসছে। ২০ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ এ বাঁধ ভেঙে গেলে হুমকির মুখে পড়বে উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদ।

ভাঙনকবলিত এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মধুমতির ভাঙনে এসব এলাকার অনেক পরিবার এখন নিঃস্ব। পরের জমিতে ঘর তুলে আছেন তারা। অনেকে সহায়-সম্বল হারিয়ে পাড়ি জমাচ্ছেন অন্যত্র।

হরেকৃষ্ণপুর গ্রামের খবির ডাক্তার (৭১), সালেহা খাতুন (৫৫), আকরাম হোসেন (৫২), ফিরোজ মিয়া (৪৫); কাশিপুর গ্রামের পিকুল মোল্যা (৩০), জয়েন উদ্দিন মোল্যা (৭০) মোসলেম শেখ (৫০), পান্নু মোল্যা (৫০); রুইজানি গ্রামের প্রিয়নাথ চৌধুরী (৫০), ভোলানাথপুরের সচিন বিশ্বাস (৬৫), পূর্ণ চৌধুরী; ঝামা ও চর ঝামা এলাকার ইয়াসিন মোল্যা (৬০), জাহাঙ্গীর মোল্য (৩৫) ও আলী আফজালের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। 

তারা জানান, একসময় তারা অবস্থাপন্ন গৃহস্থ ছিলেন। ঘরবাড়ি, পুকুর, ফসলি জমি সবই ছিল। চোখের সামনে বাপ-দাদার ভিটা নদীতে বিলীন হওয়ার দৃশ্য তারা অসহায়ের মতো চেয়ে দেখছেন।

ধুলজুড়ি গ্রামের বাসিন্দা ফারুক হোসেন খাঁন বলেন, ‘মধুমতি আমাদের সব কেড়ে নিয়েছে। আছে শুধু বসতভিটা। এবার মনে হচ্ছে, সেটাও নদীতে চলে যাবে।’

মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বলেছি।’

মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী সরোয়ার জাহান সুজন বলেন, ‘নদীভাঙনের বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। অর্থ বরাদ্দ পেলে দ্রুত পদক্ষেপ নেব।’

মাগুরা-২ (মহম্মদপুর-শালিখা) আসনের সংসদ সদস্য বীরেন শিকদার মোবাইল ফোনে বলেন, ‘ভাঙন প্রতিরোধে নদীশাসনের কিছু কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কাজ দ্রুত শুরু করা হবে।’

শাহীন/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়