ঢাকা     বুধবার   ০৫ অক্টোবর ২০২২ ||  আশ্বিন ২০ ১৪২৯ ||  ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪১৪

মহর্ষি মনোমোহন দত্তের সাধনভূমিতে 

ফয়সাল আহমেদ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৩০, ৫ আগস্ট ২০২২  
মহর্ষি মনোমোহন দত্তের সাধনভূমিতে 

সাধু মনোমোহন দত্ত সমাচার:
‘কোরান, পুরাণ, আদি বাইবেল কি বেদ, সবে ফুঁকারিয় কয়, তার অবিচ্ছেদ।’
সাধক মনোমোহন দত্তের গান। এই গানে যে দর্শনের খোঁজ মেলে তার নির্যাস হচ্ছে সর্বধর্ম সমন্বয়বাদ। 

সাধু মনোমোহন দত্তের (১৮৭৭-১৯০৯) জন্মস্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার সাতমোড়া গ্রামে। জন্মতিথি ১০ মাঘ। মাত্র আঠারো বছর বয়সে মনোমোহন দত্তের গুরু আনন্দস্বামীর সহচর্যে এসে এই সর্বধর্ম সমন্বয়বাদ দর্শন দ্বারা তিনি প্রভাবিত হন। পরবর্তীতে তাঁর গানের বাণীতে এই দর্শনেরই বিচিত্র প্রকাশ ছড়িয়ে পড়ে। 

মনোমোহন দত্ত গড়ে তোলেন তাঁর দীক্ষা গুরুর নামে ‘আনন্দ আশ্রম’। তিনি গ্রামের পাঠশালা পর্ব শেষ করে উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত পড়েছেন। কিন্তু অর্থাভাবে বেশি দূর অগ্রসর হতে পারেননি। তারপর তিনি পেশাগত প্রয়োজনে মোক্তারি পড়েন। বিচিত্র পেশায় জীবন ধারনের চেষ্টা করেন। প্রচলিত বিদ্যাশিক্ষার বাইরে তিনি বহু বিষয়ে গভীর অধ্যয়ন করেন। বিশেষভাবে তাঁর কোরান-বাইবেল-বেদ-বেদান্তের উপর গভীর পাণ্ডিত্য ছিল। হিন্দু-মুসলিম সব ভক্ত এই আশ্রমে এসে মনের আনন্দে মনোমোহন দত্তের গানের ভাবতরঙ্গে কিছুটা সময় কাটিয়ে যান।

প্রতি বৃহস্পতিবার সারারাতব্যাপী মহর্ষি মনোমোহন দত্তের গান পরিবেশ করেন বিভিন্ন শিল্পী। জন্মতিথি ১০ মাঘ হয় বড়ো উৎসব। কেউ কেউ শুধুই ‘সাধক’ বা ‘পীর’ হিসেবে মান্য করে গভীর ভক্তি ও শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাতে আসেন এখানে। তিনি ছিলেন স্বল্পায়ু। মাত্র ৩২ বছরের জীবনে সাধন-ভজনে এবং আধ্যাত্মিকতায় উচ্চশিখরে পৌঁছেছিলেন। তাঁর বাণী বা লেখা গানগুলোর সুর দেন, আরেক প্রতিভাবান সুরস্রষ্টা আফতাব উদ্দিন খাঁ (১৮৬২-১৯৩৩)।

মনোমোহন দত্তরে গান শুনলে প্রচলিত বাউলের সুরের জাদুতে হারিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ধ্রুপদী সুরের মুগ্ধতা ছড়িয়ে পড়ে অন্তরে। পারস্পরিক শ্রদ্ধায়, ভক্তিতে, শিল্প সৃষ্টিতে আফতাব উদ্দিন খাঁ এবং মনোমোহন দত্ত দুজন গভীর বন্ধুত্বের বন্ধনে জড়িয়ে ছিলেন আমৃত্য। আফতাব উদ্দিন খাঁ ছিলেন সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর বড়ো ভাই। 

কোথা পাবো এতো ভক্তি:
বহু বছর আগে পাড়ার একটি লণ্ড্রি দোকানির সাইনবোর্ডে তাঁর নাম দেখে অবাক হয়েছিলাম! সাইনবোর্ডে প্রতিষ্ঠানের নামের নিচে এভাবে লেখা: প্রোঃ মোঃ দুলাল চন্দ্র দে। তার সঙ্গে কথা বলে লক্ষ্য করেছি তিনি আল্লাহ, খোদা, ভগবান সবই বলেন। অবশ্য বাংলাদেশের অনেক হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ আলাপে উচ্চারণে অবলীলায় ‘আল্লাহ’ ‘খোদা’ বলেন। আমি একদিন তার কাছে জানতে চাইলাম- সাধারণত মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা নামের পূর্বে মোহাম্মদের সংক্ষিপ্ত রূপ ‘মো.’ ব্যবহার করেন। আপনার এই ‘মো.’ লেখার রহস্য কী? তিনি আমাকে অবাক করে দিয়ে বললেন, আমি সর্বধর্মে বিশ্বাসী তাই এভাবেই লিখেছি। আমি তখন বেশ আগ্রহী হয়ে উঠি সাধারণ এই লন্ড্রি ব্যবসায়ীর দার্শনিক চিন্তা সম্পর্কে জানতে। অবশেষে জানতে পারি তিনি সর্বধর্ম সমন্বয়বাদী মহর্ষি বিখ্যাত গীতিকার মনোমোহন দত্তের গ্রামেরই মানুষ। তার পিতা ছিলেন মনোমোহন দত্তের ভক্ত-অনুরক্ত। দুলালদাও মনেপ্রাণে মনোমোহন দত্তের বাণী হৃদয়ে ধারণ করেছেন। 

মনোমোহন দত্ত সম্পর্কে প্রথমে আমি দুলালদা’র কাছ থেকেই জানতে পারি। তিনিই আমাকে মনোমোহন দত্তের ‘মলয়া’ সঙ্গীতের সঙ্গে প্রথম পরিচয় করিয়ে দেন। ‘মলয়া’ কথাটির প্রচলিত অর্থও বলেন। এরপর মনোমোহন দত্তের গান শুনি কলকাতার দোহার ব্যান্ড দলের একটি পরিবেশনায়। ধীরে ধীরে আমার আগ্রহ তৈরি হয়। আমি সময়ের অপেক্ষায় থাকি কবে এই মহর্ষির গ্রামে যাবো। ১০ মাঘ মনোমোহন দত্তের জন্মতিথিতে সাতমোড়া যাবো পরিকল্পনা হয়। দুলালদার সাথেই যাবো। কিন্তু বহু ১০ মাঘ এলো আর গেলো- সাতমোড়া আর যাওয়া হয়নি। আমি একা যাওয়ার জন্যও অনেকবার উদ্যোগ নিয়েও যেতে পারিনি। 

অবশেষে কোনো এক রাতে সিদ্ধান্ত নেই নাহ্, যতোই বাধা আসুক, আগামীকাল সকালেই যাত্রা করবো আনন্দ আশ্রমের উদ্দেশ্যে। এবার মহর্ষি মনোমোহন দত্তের সান্নিধ্য আমাকে পেতেই হবে। বন্ধু বুলবুলকে ফোন দিয়ে বন্ধুত্বের অধিকার খাটিয়ে বলি- চল। সে না গেলে আমি একাই যাবো এমন প্রত্যয় ছিল। কিন্তু বুলবুল রাজী হয়ে যায়।

যে কোনো ভ্রমণ সকালে শুরু করার অনেকগুলো সুবিধা আছে। গ্রীস্ম হোক আর শীত, সকালের আবহাওয়া ও পরিবেশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সবচাইতে ভালো থাকে। সর্বোপরী সময় ঠিকঠাক মতো কাজে লাগানো যায়। যাত্রা করতে আমাদের খানিকটা দেরি হয়ে যায়। সায়েদাবাদ থেকে কুমিল্লার কোম্পানীগঞ্জগামী গাড়ি তিশা গোল্ডেন লাইন-এ চড়ে শুরু হয় আমাদের যাত্রা সকাল ১১টায়। দুলালদা’র কাছ থেকে তো যাত্রাপাথের কথা এতোবার শুনেছি যে আমার মানসপটে বহু পূর্বেই আঁকা হয়েছিল তা। তবে বাস্তব ও কল্পনা সবসময় একসঙ্গে অগ্রসর হয় না। এবারের ভ্রমণেও তাই দেখলাম। যাত্রাপথটি আরো নিশ্চিত করতে অনলাইন থেকে ফোন নম্বর সংগ্রহ করা মনোমোহন দত্তের একজন ভক্ত শাহ নুর আলমের কাছ থেকে কীভাবে যাবো জেনে নিয়েছিলাম। আজও রওয়ানা হওয়ার পূর্বে তাকে ফোন দিই। তিনি গাইড করেন আমাদের। কোথা থেকে কোন বাসে উঠবো বলে দেন। 

শুক্রবার হলেও যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুর, সাইনবোর্ড, চিটাগাং রোড ধরে বাস কিছুটা ধীর গতিতে এগোয়। কাঁচপুর সেতু পার হয়ে অনেকটা গতি পায়। মেঘনা সেতু পার হয়ে বাসের তীব্র গতি এবং একেবারে পেছনের দিকে সিট পেয়েছি বলে তা’ আমাদের জন্য দুর্গতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। গাড়ির তরুণ চালক আরেকটি গাড়ির সঙ্গে তীব্র গতিতে পাল্লা দিয়ে চালাতে শুরু করে। পেছন থেকে আমাদেরও আরো কিছু যাত্রীদের চিৎকার চেঁচামেচিতেও তার লৌহ কঠিন হৃদয় এতোটুকু বিগলিত হয় না। তার কাছে যতোটুকু সময় পাল্লা দেওয়া দরকার সেই সময় নিয়ে তবেই সে ক্ষান্ত হয়। একটা পেট্রল পাম্পে তেল দিতে থামলে আমি ও বুলবুল ড্রাইভারকে কিছুটা রাগ, কিছুটা বিনয়ের সঙ্গে বলি- ভাইরে এতোগুলো মানুষ নিয়ে এভাবে খেলা করার মানে আছে? চালক নির্বিকার। উল্টো চালকের পাশে বসা দু’একজন যাত্রী বলে ওঠেন- হাইওয়েতে এমন হয়েই থাকে ভাই। হায়! মানুষের যুক্তিবোধ একেবারেই হারিয়ে গেলো নাকি? বাসটি পুরো পথই প্রচণ্ড গতি নিয়ে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট হয়ে হেলেদুলে আমাদের গন্তব্য কোম্পানীগঞ্জ শহরে পৌঁছে দেয় দুপুর দেড়টায়।

নেমেই প্রথম কর্ম হয় দুপুরের আহার সেরে নেওয়া। রোজার মাস বলে সৌদিয়া নামে বড়ো একটি রেস্তোরাঁ বন্ধ দেখতে পাই। একটি বিশাল মার্কেটে খুঁজে পাওয়া যায় খিচুড়ির দোকান। তাতেই সই। খিচুড়ি খাওয়া শেষে আমরা আর দেরি না করে সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে শ্রীকাইলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করি। শ্রীকাইল থেকে আবার অন্য একটি যানবাহন নিয়ে যেতে হবে সাতমোড়া। সিএনজির পেছনের আরোহী সবাই বোরখা পরিহিতা। শপিং সেন্টারেও লক্ষ্য করেছি প্রায় সকল নারীই বোরখা ও হিজাব পরা। মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক অর্থনীতি এখানে। শপিং সেন্টারও বেশ জমজমাট ছিল। নবীনগরের রাস্তাটি বেশ চমৎকার। এরপর একটি মোড় ঘুরে সিএনজি হাওরের মতো বিশাল খোলা মাঠের মধ্য দিয়ে প্রত্যন্ত গ্রামের রাস্তা ধরে তীব্র গতিতে শ্রীকাইলের উদ্দেশ্যে চলতে থাকে। 

পথিমধ্যে নারী তিনজন নেমে গেলে আমরা পেছনে গিয়ে বসি। বেশ লম্বা যাত্রা। প্রায় ২০ কি.মি.। আমরা অবশ্য শ্রীকাইলে গাড়ি পরিবর্তন না করে আমাদের সিএনজি চালক জিয়াউর রহমানকেই সঙ্গে নিয়ে মনোমোহন দত্তের বাড়ি চলে আসি। তাকে নিয়ে আবার ফিরবো কোম্পানীগঞ্জে। 

মোটামুটি বেশ বড়োসড়ো জায়গাজুড়ে আনন্দ আশ্রম। ঢুকতে একটি বিশাল বাঁধাই করা একজন মানুষের রঙিন আলোকচিত্র দেখতে পাই এবং ভেতরে লাল মখমল দিয়ে ঢাকা একটি সমাধি দেখি। জানতে পারি এটি সদ্যপ্রয়াত মনোমোহন দত্তের নাতির সমাধি। দুলালদা তাঁর কথাও বলেছিলেন। তখন তিনি জীবিত ছিলেন। আগে আসলে তাঁর সঙ্গে পরিচয় ও নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ হতো। এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলাম। 

এরপর আমরা মহর্ষি মনোমোহন দত্তের সমাধি দেখি। সঙ্গে আরো তিনটি সমাধি। এখানে পরিচয় হয় দুজন শিষ্যের সঙ্গে। একজন তরুণ শিষ্য তার ছোট মেয়েকে নিয়ে এসেছেন। তিনি তার বিশ্বাস থেকে বলেন, যুগে যুগে যে সকল অঞ্চলের মানুষ খারাপ বা নষ্ট হয়ে যায় সেসব অঞ্চলে এক একজন মহান মানুষের আবির্ভাব ঘটে। মহর্ষি মনোমোহন দত্ত তেমনি একজন মানুষ। এরপর পরিচয় হয় এই আনন্দ আশ্রমের তত্ত্বাবধায়কের সঙ্গে। তিনি সবকিছ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখান। প্রকাশনার কক্ষ থেকে আমি মনোমোহন দত্তের জীবনীগ্রন্থ ক্রয় করি। একসময় আমি ও বুলবুল হাঁটতে হাঁটতে স্থায়ী মঞ্চের কাছে আসি। দু’জনে কথা হয় নানা প্রসঙ্গে। মনোমোহন দত্তের মূল দার্শনিক জায়গা থেকে যেনো পরবর্তী প্রজন্ম শুধু ভক্তিবাদ কেন্দ্রিকতায় যাত্রা করেছে। প্রকাশনা আছে, সঙ্গীত সাধনাও হচ্ছে, তারপরও কোথায় যেনো শুধুই ভক্তিবাদের প্রচার। মহর্ষি মনোমোহন দত্তের মূল দর্শনটা যেনো হারিয়ে যাচ্ছে! এখন যা হচ্ছে অনেকটা মাজারের পীরফকিরদের মতো। শিষ্যদের আচার-আচরণও তাই দেখলাম।

প্রতি বৃহস্পতিবার সারা রাতব্যাপী মনোমোহন দত্তের ‘মলয়া’ সঙ্গীতের অসংখ্য মরমী গানের সুর ও বাণী ছড়িয়ে পড়ে আনন্দ আশ্রমজুড়ে। তখন কোনো এক শিল্পী হয়তো গেয়ে ওঠেন সুফীতত্ত্বের সেই চিরায়ত জিজ্ঞাসা:
“চাইনা বেহেস্ত, চাইনা দোজখ,
আমি চাই শুধু তোমারে।
আমি কে তুমি কে ? তুমি কে আমি কে?
প্রেম কর সদা অন্তরে। 
আমারে বানাইয়া কোথায় আছ তুমি,
কোথা হ’তে এলেম কোথা যাব আমি,
আমি তুমি মাঝে তফাৎ কিবা আছে
রফা করে দাও একবারে।’

আনন্দ আশ্রমের তত্ত্বাবধায়ক আমাদের ফল দিয়ে আপ্যায়ন করেন। আমরা ঘণ্টাখানেক অবস্থান করে ঢাকার ফিরতি পথ ধরি। কোম্পানীগঞ্জ থেকে ফেরার পথে চেষ্টা করেছিলাম ‘তিশা’য় না এসে ‘গোমতী’ নামে অপর একটি কোম্পানির বাসে আসতে। অভিজ্ঞতা হয়তো একই হতো। যদিও এটি ইলিয়টগঞ্জ হয়ে আসায় সময় কম লাগে। গোমতী পরিবহনের সর্বশেষ বাস ছাড়তেও পারে, নাও ছাড়তে পারে এমন আভাস দিলেন কাউন্টার ম্যানেজার। আমাদের বিকল্প না থাকাতে একই বাস ধরে আসতে হয়। আবারও একই ধরনের অভিজ্ঞতা হলো। এবার তো এক পর্যায়ে বুলবুল ‘শুয়রের বাচ্চা, কীভাবে চালাচ্ছিস!’ বলে চিকৎকার দিয়ে উঠল। আমিও চিৎকার দিয়ে বলি, এভাবে চললে আমাদের নামিয়ে দিতে হবে। বাসও যেতে পারবে না ইত্যাদি।

কে শোনে কার কথা! গাড়ির সুপারভাইজার জানায়, চান্দিনায় ইফতার করাবে তাই এই গতিতে টানছে! যাত্রীরাও একমত দ্রুত যেতে হবে। এ এক আশ্চর্য মানসিকতা আমাদের! এক দিকে আমরা সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহতা নিয়ে উদ্বিগ্ন হই, আবার নিজেরাই দুর্ঘটনা ঘটাতে ইন্ধন জোগাই! একসময় ইফতারের বিরতি দিলে নামার সময় চালককে আমি বলি- ভাতিজা, বয়স তো তোমার আমাদের পুলার মতো, চ্যাংড়া। জীবনে তো বহু পথ চলা বাকি। আর এতগুলো যাত্রীরও জীবনের দায় নিয়ে এভাবে ‘খেলাধুলা’র মানে কী? একটু রয়েসয়ে এই আড়াই ঘণ্টার পথ পাড়ি দিলে হয় না? কাবুলি পাঞ্জাবি পড়া চ্যাংড়া ড্রাইভার যিশুর মতো হাত তুলে আমাদের আশ্বস্ত করে আর হাসে। এই হাসির কী অর্থ, তার মর্ম বোঝা আমাদের সাধ্য নয়।

চলতি পথে আমার ও বুলবুলের বিবিধ বিষয় নিয়ে আলাপ হয়। ঘুরেফিরে গানের কথা আসে। মনোমোহন দত্ত, রাধারমন দত্ত, হাসন রাজা, শাহ আব্দুল করিম, জালাল খাঁ এবং অতি অবশ্যই লালন সাঁই আসেন। গানের বাণীর গভীর দর্শনের কথা আসে। আমরা রাত সাড়ে ৮টায় সায়দাবাদ নেমে যাই। আড্ডা ও ভ্রমণের রেশ যেনো শেষ হতেই চায় না। এটা বরাবরই হয়। আমরা মতিঝিল পর্যন্ত রিকশায় এসে একটি চায়ের দোকানে বিরতি দেই। চা পান করতে করতে বুলবুল বলে, অসাধারণ একটি ভ্রমণ হলো। আমিও একমত। সংক্ষিপ্ত তবে যাতায়াত ও খানিকটা দুর্গম বিধায় এই ভ্রমণ নিয়ে বারবার আমি উদ্যোগ নিয়ে পিছিয়েছি। আজ তা সম্ভব হলো। এজন্য বন্ধু বুলবুল ধন্যবাদ পেতেই পারে। একা অনেক ভ্রমণ করেছি। কিন্তু আনন্দ আশ্রমে একা না যাওয়াই ভালো। সুখ ও দুঃখ দুটোই ভাগাভাগি করে নেওয়াই প্রকৃত আনন্দের। মনোমোহন দত্তের গুরু স্বামী আনন্দ মহারাজ তো তাই বলেছেন। 

/তারা/ 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়