ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬, ১৫ অক্টোবর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

মিয়ানমার সেনাপ্রধানের যুক্তরাষ্ট্র সফরে নিষেধাজ্ঞা

এনএ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৭-১৭ ২:২৯:৪৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৭-১৮ ১০:৫৪:৪৮ এএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মিয়ানমারের সেনাপ্রধানসহ শীর্ষ চার সামরিক কর্মকর্তার যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে এ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এই চার কর্মকর্তা হলেন- মিয়ানমারের সেনাপ্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং, সেনাবাহিনীর উপ প্রধান ভাইস সিনিয়র জেনারেল সো উইন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল থান ও এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অং অং।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয় বলে সংবাদ সংস্থা এএফপি ও সিএনএন জানিয়েছে।

এর ফলে ওই চার সেনা কর্মকর্তা এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাবেন না। যুক্তরাষ্ট্রে তাদের কোনো সম্পত্তি থাকলে তা বাজেয়াপ্ত করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তারা ব্যবসায়িক লেনদেনও করতে পারবেন না। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোহিঙ্গাবিরোধী যে প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছেন সেনাপ্রধান, তার জবাবদিহিও করতে হবে মিয়ানমারকে।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেন, ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং নিপীড়নের জন্য যারা দায়ী, তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে কোনো উদ্যোগই বার্মা সরকার নেয়নি, এতে আমরা উদ্বিগ্ন। তাছাড়া মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সারা দেশেই নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন চালিয়ে যাচ্ছে বলে আমাদের কাছে খবর আসছে।’

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের ওপর যে যুক্তরাষ্ট্র হতাশ- এই নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে সেটিই প্রমাণিত হলো। এর আগে গত বছরের আগস্টে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগে সে দেশের তিন সেনা কর্মকর্তা ও এক পুলিশ কমান্ডারসহ দুটি সামরিক ইউনিটের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।

২০১৭ সালে রাখাইনে সেনা অভিযানকালে শিশুসহ ১০ রোহিঙ্গা মুসলিমকে হত্যার পর লাশ পুঁতে ফেলার ঘটনায় সাত সেনা সদস্যকে ১০ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সাত মাস না যেতেই তাদের গোপনে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং নিজেই ওই সাতজনকে মুক্তির ওই আদেশ দিয়েছিলেন বলে সম্প্রতি তথ্য প্রকাশ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেও। বিবৃতিতে তিনি বলেন, রাখাইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িত থাকার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়ার পরই মিয়ানমারের ওই চার  সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর চৌকিতে ‘বিদ্রোহীদের’ হামলার অভিযোগ এনে রোহিঙ্গাদের গ্রামে গ্রামে শুরু হয় সেনাবাহিনীর অভিযান। নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, জ্বালাও-পোড়াও শুরু করে মিয়ানমার বাহিনী। তখন নিজেদের বাঁচাতে অনেক রোহিঙ্গা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

গতবছর সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ গঠিত স্বাধীন আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ‘গণহত্যার অভিপ্রায়’ থেকেই রাখাইনের অভিযানে রোহিঙ্গা মুসলমানদের নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণের মত ঘটনা ঘটিয়েছে।

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৭ জুলাই ২০১৯/এনএ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন