RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৩ ডিসেম্বর ২০২০ ||  অগ্রাহায়ণ ১৯ ১৪২৭ ||  ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

মুক্তিপণের দাবিতে সুন্দরবনে ৭ জেলেকে অপহরণ

এম.শাহীন গোলদার || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৩:৪৯, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
মুক্তিপণের দাবিতে সুন্দরবনে ৭ জেলেকে অপহরণ

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা: মুক্তিপণের দাবিতে সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জে মাছ শিকারে যাওয়া সাত জেলেকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করেছে বনদস্যুরা।

জানা গেছে, এসব বনদস্যু আমিনুর বাহিনী সদস্য। ১০ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুরের দিকে পশ্চিম সুন্দরবনের দোঁবেকী মনসা ভেটীপাড়া খাল এবং ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর কোবাদক এলাকা থেকে এসব জেলেদের অপহরণ করা হয়।

জিম্মি জেলেদের পরিবারসহ অপরাপর জেলেদের কাছে ‘টাকা দিয়ে বনে নামার’বার্তা পৌঁছে দিতে দুই জেলেকে বাড়ি ফেরার সুযোগ দেয় হয়। তবে তাদেরকেও বেধড়ক মারপিট করা হয়।

অপহৃত জেলেরা হলেন, শ্যামনগর উপজেলার নীলডুমুর গ্রামের সজল (১৯), চাঁদনীমুখা গ্রামের রাজু, কয়রা উপজেলার আংটিহারা জোড়শিং গ্রামের আনারুল ইসলাম (৩২), কয়রা গ্রামের হেলাল উদ্দীন (৪২)। বুড়িগোয়ালিনী গ্রামের সুজাত গাজীর ছেলে নাসির হোসেন (৩০), পাশের্মারী গ্রামের কাশেম শেখের ছেলে শাহ আলম ও তার এক আপন চাচাত ভাই।

জিম্মি জেলেদের নিকটাত্মীয় এবং নৌকা মালিক হাবিবুল্লাহসহ সুন্দরবন থেকে ফিরে আসা জেলেরা আমিনুর বাহিনীর হাতে এসব জেলেদের অপহরণের ঘটনা নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে সোমবার বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন থেকে পাশ নিয়ে সুন্দরবনে যাওয়ার পথে মঙ্গলবার দুপুরে আমিনুর বাহিনীর পরিচয়ে সজলসহ চার জনকে জিম্মি করা হয়। এর আগে কোবাদক স্টেশন থেকে পাশ নিয়ে সুন্দরবনে মাছ শিকারকালে ৮ সেপ্টেম্বর জিয়া বাহিনী পাশের্মারীর শাহ আলম ও তার চাচাত ভাইকে তুলে নেয়। প্রায় একই এলাকা থেকে ৯ সেপ্টেম্বর নাসিরকে জিম্মি করে আমিনুর বাহিনী। তবে নাসিরের দুই সহযোগীকে বেধড়ক মারপিট করে মুক্তিপণের টাকা সংগ্রহ ও প্রেরণের জন্য বাড়ি ফেরার সুযোগ দেয় বনদস্যুরা।

ফিরে আসা জেলেদের পাশাপাশি অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের দাবি, আমিনুর বাহিনীর প্রধান আমিনুর ২০১৬ সালে বরিশালে র‌্যাব-৮ অধীনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করে। তবে গত কয়েক মাস ধরে আমিনুর আরও ছয় সহযোগীকে নিয়ে সুন্দরবনে অপতৎপরতা শুরু করেছে। সে আত্মসমর্পণকারী হিসেবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও গোপনে সুন্দরবনে সক্রিয় রয়েছে।

শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরুল হুদা বলেন, ‘জেলে অপহরণের বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

পশ্চিম সুন্দরবনের সহকারি বন সংরক্ষক (এসিএফ) রফিক আহম্মেদ জেলেদের অপহরণের বিষয়টি লোক মারাফত শুনেছেন বলে জানিয়েছেন।


রাইজিংবিডি/ সাতক্ষীরা/১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯/শাহীন গোলদার/টিপু

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়