ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ১৪ ১৪২৭ ||  ১১ সফর ১৪৪২

মুখ দিয়ে ছবি এঁকে চিকিৎসার খরচ যোগাচ্ছেন ইব্রাহিম (ভিডিও)

এ.কে. সাজু || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:১১, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৩:০১, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০
মুখ দিয়ে ছবি এঁকে চিকিৎসার খরচ যোগাচ্ছেন ইব্রাহিম (ভিডিও)

দুই হাত নেই, দুটি পা থাকলেও তা অচল।  এরপরও দমে যাননি এমদাদুল মল্লিক ইব্রাহিম।  ঠোঁট দিয়ে তুলি চেপে ধরে একের পর এক এঁকে চলেছেন ছবি।  আর সেই ছবি বিক্রির টাকায় নিজের চিকিৎসা ও সংসারের খরচ জোগাচ্ছেন তিনি।

ইব্রাহিমের বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলার বালুবাজার গ্রামে। 

জন্ম থেকেই এমন ছিলেন না ইব্রাহিম।  হাত পা সবই ছিল সুস্থ ও স্বাভাবিক।  ২০০৫ সালে দিনাজপুরে পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যান হিসেবে কাজ করার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তিনি।  দুর্ঘটনার পর দিনাজপুর সদর হাসপাতাল, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও সাভারের সিআরপিতে চিকিৎসা নেন আট বছর।  কিন্তু পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি।  শরীর থেকে কেটে ফেলতে হয় দুই হাত।  পা দুটি হয়ে যায় অচল।  এরপরও হাল ছাড়েননি।  হুইলচেয়ারের সঙ্গে বিশেষ কায়দায় লাগানো ক্যানভাসে এঁকে চলেছেন নানা ছবি।

ইব্রাহিম জানান, দুর্ঘটনার পর সিআরপিতে থাকা অবস্থায় সবার কাছে শুনেছেন, লাভলী নামের একজন মুখ দিয়ে ছবি আঁকেন। লাভলীর গল্প শুনে তিনি অনুপ্রাণিত হন।  চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হলে ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (পিডিএফ) নামের একটি সংগঠনের সহযোগিতায় শুরু করেন মুখ দিয়ে ছবি আঁকা।  ওই সংগঠনের উদ্যোগে বনানীর লীলা গ্যালারিতে ২০১৬ সালে তাঁর আঁকা ছবির একক প্রদর্শনী হয়েছে।

ইব্রাহিম বলেন, ‘প্রথম দিকে ছবি আঁকতে সমস্যা হতো।  তবে এখন আর সমস্যা হয় না।  ঘণ্টার পর ঘণ্টা ছবি আঁকতে পারি।  এ পর্যন্ত দুই হাজার ছবি এঁকেছি।  ঢাকায় থাকা অবস্থায় যেসব এঁকেছি, এর প্রায় সব বিক্রি হয়ে গেছে।  ঢাকার লোকজন ছবির কদর ভালো বুঝতো।  কিন্তু গ্রামের বাড়িতে আসার পর আঁকা ছবি তেমন বিক্রি হচ্ছে না।  গ্রামের লোকজন ছবি বা শিল্পীর কদর বোঝে না।’

শারীরিকভাবে অক্ষম হওয়ায় এখন দৈনন্দিন কাজ ও ছবি আঁকায় সহায়তা করেন ইব্রাহিমের অসুস্থ মা।  ছবি বিক্রির টাকা থেকে সংসারের খরচ দেন তিনি।  দুর্ঘটনার পর চিকিৎসার জন্য পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে তিনি কোনো সহযোগিতা পাননি।

ইব্রাহিম আরও বলেন, ‘নিজ বাড়িতে থেকে আঁকা ছবি বিক্রি করা তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।  সুযোগ পেলে ঢাকা কিংবা বড় কোনো শহরে নিজের আঁকা ছবির প্রদর্শনী করে, ছবি বিক্রি করে নিজের চিকিৎসার খরচ ও সংসারের সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে চাই। '

জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক নূর মোহাম্মদ জানান, ইব্রাহিমকে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়া হয়েছে।  তার প্রতিভার মূল্যায়ণে ইব্রাহিমকে সব ধরনের সহযোগিতারও আশ্বাস দেন তিনি।

 

নওগাঁ/টিপু

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়