ঢাকা     শনিবার   ০২ জুলাই ২০২২ ||  আষাঢ় ১৮ ১৪২৯ ||  ০২ জিলহজ ১৪৪৩

মুম্বাইয়ে মসজিদের মাইকের আওয়াজ কমানো হয়েছে 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:৩৫, ৮ মে ২০২২  
মুম্বাইয়ে মসজিদের মাইকের আওয়াজ কমানো হয়েছে 

ভারতের মুম্বাইয়ের সবচেয়ে বড় মসজিদের প্রধান মুয়াজ্জিন মোহাম্মদ আশফাক কাজী আজানের আগে লাউডস্পিকারের সাথে সংযুক্ত একটি ডেসিবেল মিটার পরীক্ষা করেছিলেন। কারণ তাকে মাইকগুলোর ভলিউম কমাতে হবে।

আশফাক কাজী বলেন, ‘আমাদের আজানের ভলিউম রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে, কিন্তু আমি চাই না এটি সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় মোড় নিক।," বলেছেন কাজী, ভারতের পশ্চিম উপকূলে বিস্তীর্ণ মহানগরীর অন্যতম প্রভাবশালী ইসলামিক পণ্ডিত৷

আশফাক কাজী ও মহারাষ্ট্রের অন্য তিনজন প্রবীণ আলেম রাজ্যের পশ্চিমে অবস্থিত নয় শতাধিক মসজিদের মাইকের আওয়াজ কমাতে সম্মত হয়েছেন। কারণ স্থানীয় হিন্দু রাজনীতিবিদরা মাইকের শব্দ নিয়ে অভিযোগ করেছেন।

হিন্দুত্ববাদী দল মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার নেতা রাজ ঠাকরে গত এপ্রিল মাসে বলেছিলেন, মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়গুলো অনুমোদিত শব্দ সীমার মধ্যে রাখা উচিত। যদি তারা সেই কাজটি না করে তাহলে তার অনুসারীরা মসজিদের বাইরে হিন্দুদের প্রার্থনা সঙ্গীত বাজাবে।

মুম্বাইয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, ‘যদি ধর্ম ব্যক্তিগত বিষয় হয়, তাহলে কেন মুসলমানদের (বছরের) ৩৬৫ দিন লাউডস্পিকার ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হয়?’ আমার প্রিয় হিন্দু ভাই, বোন ও মায়েরা একত্রিত হন; এই লাউডস্পিকারগুলো নামিয়ে আনতে এক হোন।’

ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সঙ্গে সম্পৃক্ত এই উগ্র হিন্দুত্ববাদী দলগুলোর কর্মকাণ্ডকে মুসলিম নেতারা ভারতের ২০ কোটি মুসলমানের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মুক্তভাবে ইবাদতের অধিকারের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন। এরপরও মুসলমান ও হিন্দুদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ঠেকাতে ঠাকরের মতো ছোট দলের নেতার দাবি মেনে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আশফাক কাজী।

ভারতের স্বাধীনতার পর থেকে বহুবার হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা হয়েছে। ২০২০ সালেও দিল্লিতে নাগরিকত্ব আইন নিয়ে দাঙ্গার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ও নিহতদের অধিকাংশই মুসলমান।

কট্টোরপন্থি হিন্দু নেতারা যখন ইসলামকে অবমূল্যায়ন করার চেষ্টা করছেন তখন কাজী বলেন, ‘আমাদের (মুসলিমদের) শান্ত ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে।’

ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা চলতি মাসের শুরুতে আশফাক কাজীসহ ধর্মীয় নেতাদের সাথে দেখা করেছিলেন। তারা মসজিদের মিনার থেকে মাইক নামিয়ে নেওয়ার কথা বলেছিলেন। কারণ তাদের আশঙ্কা, এই ইস্যুতে রাজ্যে দাঙ্গা বেঁধে যেতে পারে। শনিবার মাইকে ফজরের আজান দেওয়ায় পুলিশ দুজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে। ঠাকরের দলের কর্মীরা যেন মসজিদের চারপাশে জড়ো না হয় সেজন্য সতর্ক করেছে।

মুম্বাই পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ভিএন পাতিল বলেন, ‘কোনো অবস্থাতেই আমরা কাউকে রাজ্যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে দেব না এবং আদালতের আদেশ অবশ্যই মান্য করা উচিত।’

আজানের জন্য মাইক ব্যবহার করতে না দেওয়ার বিষয়টি মহারাষ্ট্রের বাইরেও ঘটেছে। ভারতের তিনটি রাজ্যে বিজেপির নেতারা স্থানীয় পুলিশকে মসজিদের মাইক বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে।
 

ঢাকা/শাহেদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়