ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ মাঘ ১৪২৬, ২১ জানুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সামাজিক ঝুঁকি বেড়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১২-০৫ ১২:২৮:৪১ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১২-০৬ ৪:১৬:৪৮ পিএম

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানিয়েছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ায় স্থানীয় জনগোষ্ঠী অর্থনৈতিক, সামাজিক, পরিবেশগত, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বিভিন্ন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এক্ষেত্রে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে ‘বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের (রোহিঙ্গা) নাগরিকদের বাংলাদেশে অবস্থান: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণায় টিআইবি এ তথ্য জানিয়েছে। গুণগত পদ্ধতিতে টিআইবি এ গবেষণা করেছে। 

অর্থনৈতিক ঝুঁকির বিষয়ে টিআইবি বলছে, অল্প পারিশ্রমিকের বিনিময়ে স্থানীয়রা রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন কাজে(লবন চাষ, চিংড়ি হ্যাচারি, চাষাবাদ) নিয়োজিত করছে। ফলে রোহিঙ্গা শ্রমিকদের সহজলভ্যতার কারণে স্থানীয়দের কাজের সুযোগ কমে যাচ্ছে। স্থানীয় বাজারে বিভিন্ন পণ্যের হঠাৎ চাহিদা বাড়ায় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা, মানবিক সহায়তায় নিয়োজিত কর্মী ও সরকারি কর্মকর্তাদের যানবাহন এবং ত্রাণবাহী ট্রাকের চলাচল ও চাপে রাস্তাঘাটের ক্ষতি ও যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

সামাজিক ঝুঁকির বিষয়ে সংস্থাটি বলছে, স্থানীয়রা সংখ্যালঘু হয়ে পড়ছে। কারণ স্থানীয় অধিবাসী মোট জনসংখ্যার ৩৪ দশমিক আট শতাংশ ও রোহিঙ্গারা ৬৩ দশমিক দুই শতাংশ। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে মোট চাহিদার ২৫ শতাংশের অতিরিক্ত রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য সেবায় ব্যয় হচ্ছে। এতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়দের খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সামাজিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি বৃদ্ধিসহ মাদক পাচার, নারী পাচার, পতিতাবৃত্তি  বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসা, জমি দখলের মতো বিষয়গুলো বাড়ছে।

ছয় হাজার ১৬৪ একর বনভূমি উজাড়, জীব বৈচিত্র্য ধ্বংস, ভূমি ধ্বসের ঝুঁকি, উখিয়া ও টেকনাফে ভূগর্ভস্ত পানির সংকট তৈরি হওয়া, হাতির চলাচলের পথ নষ্ট হওয়ার মতো বিষয়গুলো পরিবেশগত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছে টিআইবি।

 

ঢাকা/নূর/জেনিস