ঢাকা     শনিবার   ০১ অক্টোবর ২০২২ ||  আশ্বিন ১৬ ১৪২৯ ||  ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪১৪

শেখ কামালের জন্মবার্ষিকীতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে স্মরণসভা

কূটনৈতিক প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:৩৩, ৫ আগস্ট ২০২২   আপডেট: ২৩:২৬, ৫ আগস্ট ২০২২
শেখ কামালের জন্মবার্ষিকীতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে স্মরণসভা

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের ৭৩তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৫ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমের সভাপতিত্বে এ স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেখ কামালের বন্ধু প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের বক্তব্য (ভিডিওতে ধারণকৃত) প্রচার করা হয়।

স্বাগত বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র সচিব (সিনিয়র সচিব) মাসুদ বিন মোমেন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শেখ কামালের আরেক বন্ধু সিনিয়র সাংবাদিক ও নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার সাবেক ব্যুরো প্রধান এম শফিকুল করিম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালমান এফ রহমান শেখ কামালের কর্মময় জীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘শেখ কামাল বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। শেখ কামাল যদি বেঁচে থাকতেন, আজ আমরা (বাংলাদেশ) যে জায়গায় পৌঁছেছি, তা অনেক আগেই অর্জন সম্ভব হতো।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে (ভিডিও বার্তায়) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামাল ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের সফলতম ক্রীড়া সংগঠক ও বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী। মাত্র ২৬ বছরের ক্ষুদ্র জীবনে এ দেশকে তিনি অনেক কিছু দিয়ে গেছেন। ক্ষমতাবলয়ের খুব কাছে থেকেও তিনি ছিলেন নিজ গুণে উজ্জ্বল। মুক্তিবাহিনীর সুদক্ষ নেতৃত্ব তৈরির লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টরের মধ্য থেকে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচিত ৬১ জনের মধ্যে শেখ কামাল ছিলেন অন্যতম। তিনি মুক্তিযুদ্ধের গেরিলা বাহিনীর সংগঠনে ও তাদের প্রশিক্ষণে অসামান্য অবদান রেখেছিলেন। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে কাজ করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘প্রবল ক্রীড়ানুরাগীও সংস্কৃতিমনা ব্যক্তিত্ব ছিলেন শেখ কামাল। স্কুল জীবন থেকেই তিনি ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, হকি, বাস্কেটবলসহ বিভিন্ন খেলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম শেখ কামালের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল ২১ বছর। তখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তার পিতাকে গ্রেপ্তার করে অজানা স্থানে নিয়ে যাওয়ার পরে তিনি (শেখ কামাল) সুকৌশলে তাদের বাড়ি থেকে লুকিয়ে চলে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। সে বাড়িতে তখন শেখ কামালই ছিলেন বয়োজ্যেষ্ঠ পুরুষ। কিন্তু তিনি দেশের জন্য পরিবারের অন্য সদস্যদের একপ্রকার অনিশ্চয়তার মধ্যে রেখেই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন।’

স্মরণ সভায় শেখ কামালের কর্মময় জীবনের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং শেখ কামালসহ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে শাহাদাতবরণকারী সবার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। স্মরণ সভায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথি এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

হাসান/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়