ঢাকা     শনিবার   ১৫ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ৩১ ১৪২৭ ||  ২৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

সংসারের ভার কাঁধে নিয়ে কাজে ব‌্যস্ত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারীরা

মোসলেম উদ্দিন || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:২৬, ২ আগস্ট ২০২০  
সংসারের ভার কাঁধে নিয়ে কাজে ব‌্যস্ত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারীরা

ধানের চারা রোপণে ব‌্যস্ত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারীরা

স্বামী-সন্তান আর সংসারের ভার কাঁধে নিয়ে কাজে ব‌্যস্ত থাকেন আদিবাসী নারীরা। অর্থ উপার্জনের জন্য কৃষিকাজসহ নানা ধরনের কাজ করেন তারা। রোদ-বৃষ্টি-ঝড়, কিছুই তাদের দমাতে পারে না। সম্প্রতি এর প্রমাণ পাওয়া যায় দিনাজপুরের হিলি-ঘোড়াঘাট সড়কের দুই পাশে আমন ধানের খেতে কাজে ব‌্যস্ত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারীদের দেখে।

আমাদের দেশে অধিকাংশ পরিবার পিতৃতান্ত্রিক। পুরুষই পরিবারের প্রধান। তার ওপরেই থাকে সংসারের দায়িত্ব। তবে কিছু কিছু ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সমাজে পরিবারগুলো মাতৃতান্ত্রিক। নারীরা পরিবারের প্রধান। স্বামী-সন্তান আর সংসার চালানোর দায়িত্ব নারীদের। সকাল হলেই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারীরা বের হন কাজের সন্ধানে। রাস্তায় মাটি কাটা, ইরি ও আমন মৌসুমে বীজ তোলা থেকে চারা রোপণ এবং কাটা-মাড়াই পর্যন্ত তারা করে থাকেন। প্রচণ্ড রোদ, বৃষ্টি আর ঝড়ে তাদের দেখা যায় পুরুষদের সাথে তাল মিলিয়ে কাজ করতে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মাঠে কাজ করেন তারা। সারা দিন পরিশ্রম করে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা পারিশ্রমিক পান। এ টাকা দিয়ে চলে তাদের সংসার। পুরুষরা সাধারণত বাড়িতেই থাকেন।

কথা হয় ঘোড়াঘাট উপজেলার চিতল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পাড়ার সুমিলা হেমব্রমের সঙ্গে। তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘আমার এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে। স্বামী, ছেলেমেয়েরা বাড়িতে আছে। এখানে আমরা আমন ধানের চারা রোপণ করছি। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কাজ করতে হবে। কাজ শেষে ৩০০ থেকে ৩০০ টাকা মজুরি পাব। বিকেলে বাড়ি ফেরার সময় বাজার থেকে কেনাকাটা করতে হবে।’
স্বামী কাজে গিয়েছে কি না, জানতে চাইলে সুমিলা বলেন, ‘সে কাজ করে না, বাড়িতেই থাকে।’

কাজ ফেলে রেখে কথা বলার সময় নেই শারমিন হেমব্রমের। চারা রোপণ করতে করতে তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘সংসারে আমার বাবা-মা, ভাই-বোন আছে। মার বয়স হয়েছে, বেশি কাজ করতে পারেন না। তাই আমি কাজ করে সংসার চালাই। বাবা মাঝেমধ্যে কোনো কাজ পেলে করে। ভাই-বোন ছোট, তারা বড় হলে আমার বিয়ে হবে।’

স্বজনী হেমব্রম রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘দাদা, মোর দুইটা ছেলে, দুইটা মেয়ে আছে। ছেলে-মেয়েসহ মরদ বাড়িতে আছে। সকালে বাড়ি থেকে পান্তা ভাত খেয়ে আসছি। বিকেলে কাজ শেষে টাকা নিয়ে বাজার খরচ করব।’

আমনচাষি শফিরুল ইসলাম রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘আমি এইবার সাড়ে তিন বিঘা জমিতে আমন চাষ করব। ইরি ও আমন মৌসুমে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারীদের দিয়ে বীজ তোলা, চারা রোপণ এবং ধান কাটা-মাড়াই করে থাকি। পুরুষের চেয়ে নারী শ্রমিকরা বেশি মনোযোগ দিয়ে কাজ করেন।’

হিলি (দিনাজপুর)/মোসলেম/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়