ঢাকা, সোমবার, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৫ মে ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

সর্দি-কাশি-শ্বাসকষ্ট: ফোনেই চিকিৎসাসেবা নেওয়ার পরামর্শ

আহমদ নূর : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৪-০৯ ৬:২৮:৩৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৪-১০ ২:০৬:৪৫ এএম

সর্দি-কাশি-জ্বর-শ্বাসকষ্ট করোনাভাইরাসের লক্ষণ হলেও এসব রোগ অন্যান্য ফ্লু ভাইরাসের মতো। ফলে সর্দি-কাশির মতো ঠাণ্ডাজনিত রোগ হলে হাসপাতাল বা প্রাইভেট চিকিৎসকের চেম্বারে না গিয়ে টেলিফোনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে।

এক্ষেত্রে পরিচিত চিকিৎসক, জাতীয় স্বাস্থ্য বাতায়নসহ বিভিন্ন হাসপাতাল, সংস্থা ও সংগঠনের খোলা টেলিমেডিসিন সার্ভিস, পরামর্শ কেন্দ্রে যোগাযোগ করে পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

চিকিৎসকরা বলছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও বিস্তারের এই সময়ে সাধারণ সর্দি, কাশি, জ্বর নিয়ে হাসপাতাল ও প্রাইভেট চেম্বারে গেলে সামাজিক দূরত্ব লঙ্ঘন হতে পারে। কারণ হাসপাতাল ও চেম্বারগুলোতে একই সময়ে অনেক রোগী ও তাদের স্বজনরা ভিড় করেন। সেখানে জায়গার সংকট থাকায় সবাইকে পাশাপাশি অবস্থান করতে হয়। এতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত হয় না। ফলে ওই জায়গা থেকেও করোনাভাইরাস ছড়াতে পারে।

চিকিৎসকরা এও বলছেন, শুধু ঠাণ্ডাজনিত রোগ নয়, প্রাইভেট চেম্বারে চিকিৎসককে একবার দেখানোর পর ফলোআপ চিকিৎসাও টেলিফোনে নেওয়া যেতে পারে। কারণ ফলোআপ চিকিৎসার জন্য সরাসরি চিকিৎসকের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রয়োজন হয় না।

শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজের আইসিউ কনসালট‌্যান্ট ডা. আশরাফ জুয়েল বলেন, ‘আমাদের পরিস্থিতি কিন্তু উন্নত দেশের মতো না।  এখানে প্রাইভেট চেম্বারে একজন ডাক্তার দিনে ৫০ থেকে ৬০ জন রোগী দেখেন। ফলে চেম্বারতো এক ধরনের গ্যাদারিংয়ের মতো। সেখানে প্রচুর ভিড় হয়।  তাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকে না। গণমাধ্যমে যে খবর এসেছে সে অনুযায়ী ইতালিতে করোনা সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পেছনে কিন্তু সাধারণ ঠাণ্ডাজনিত রোগে হাসপাতাল বা প্রাইভেট চেম্বারে অনেকের ভিড় করার কারণ তুলে ধরা হয়েছে। কারণ সেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকেনি।

তিনি বলেন, ঠাণ্ডাজনিত রোগের ক্ষেত্রে টেলিফোনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খেলেই হয়। এছাড়া চিকিৎসক যেভাবে পরামর্শ দেবেন সেভাবে থাকতে হবে। চেম্বারে ফলোআপ চেকআপ না করিয়ে টেলিফোনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলেই হয়। কারণ ফলোআপ চিকিৎসার সময় চিকিৎসক রোগীকে দেখতে হবে তার প্রয়োজন নেই।

প্রিভেন্টিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, সামাজিক দূরত্ব লঙ্ঘন হয় এমন জায়গা সবার এড়িয়ে চলা উচিত।  এক্ষেত্রে সাধারণ সর্দি-কাশি-জ্বর হলে হাসপাতালে না গিয়ে টেলিফোনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই উত্তম।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, অন্যান্য ফ্লু ভাইরাস ও করোনাভাইরাসের লক্ষণ প্রায় একই।  তবে লক্ষণ একই হলেই করোনাভাইরাস হবে তা কিন্তু না। ফলে সার্দি-কাশি-জ্বর হলে আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিভিন্ন হাসপাতাল টেলিমেডিসিন সার্ভিস চালু করছে এবং করেছে। এছাড়া জাতীয় স্বাস্থ্য বাতায়নে কল করলে স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসকরা পরামর্শ দেবেন। পরিচিত চিকিৎসক থাকলে তার কাছ থেকে পরামর্শ নিতে পারেন।

টেলিমেডিসিন সার্ভিস

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশের ১৮টি হাসপাতালে উন্নতমানের টেলিমেডিসিন সেবা চালু আছে। এরমধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ), জাতীয় বক্ষ্মব্যাধী ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল,  জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা হাসপাতাল, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজ অ্যান্ড ইউরোলজি, নিউরোসায়েন্স, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অপটিমোলজি, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ট্রমাটলজি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ হাসপাতালে সেবা আছে।

এছাড়া ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর মেডিক্যাল কলেজ, সিরাজগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে টেলিমেডিসিন সার্ভিস চালু আছে। টেলিমেডিসিন সার্ভিসে যোগাযোগ করে যেকোনো রোগের চিকিৎসা পরামর্শ নেওয়া যায় বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে।

তবে বিএসএমএমইউ ঠাণ্ডাজনিত রোগের জন্য আলাদাভাবে টেলিমেডিসিন সার্ভিস চালু করেছে। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সংগঠন ও রাজনৈতিক দল টেলিফোনে চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু করেছে।


ঢাকা/নূর/জেডআর