ঢাকা     রোববার   ২৯ মে ২০২২ ||  জ্যৈষ্ঠ ১৫ ১৪২৯ ||  ২৭ শাওয়াল ১৪৪৩

সাকিবের স্পিরিট ধরে রেখে চ্যাম্পিয়ন ওয়ালটন সেন্ট্রাল

ক্রীড়া প্রতিবেদক, সিলেট থেকে || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:৪৫, ১৫ জানুয়ারি ২০২২  
সাকিবের স্পিরিট ধরে রেখে চ্যাম্পিয়ন ওয়ালটন সেন্ট্রাল

‘সাকিব ভাই বড় একটা ফ্যাক্ট। সাকিব ভাই দলে থাকলে সবকিছু পরিবর্তন হয়ে যায়’-ইন্ডিপেন্ডেন্স কাপ চলাকালিন ওয়ালটন সেন্ট্রাল জোনের অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন বেশ কয়েকবার এ কথা বলেছেন। এই সাকিব আল হাসানকে ছাড়াই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ওয়ালটন সেন্ট্রাল। ফাইনালের লড়াই শেষেও মোসাদ্দেক জানালেন, সাকিবের স্পিরিট ধরে রেখে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে দল।

মোসাদ্দেক বলেন, ‘আসলে দেখেন চারদিনের ম্যাচে যখন আমরা চ্যাম্পিয়ন হলাম, সাকিব ভাই আমাদের সঙ্গে ছিলেন না। সাকিব ভাই যখন এসেছেন টিমের শক্তিটা অন্যান্য দল থেকে অনেক বেড়ে যায়। সাকিব ভাইয়ের স্পিরিট আমরা ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। আমাদের যে পরিকল্পনা ছিল, সেভাবে এগোনোর চেষ্টা করেছি এবং আমরা সফল হয়েছি।’

৫০ ওভারের ইন্ডিপেন্ডেন্স কাপের শুরু থেকে সাকিব খেলেছেন ওয়ালটন সেন্ট্রাল জোনের হয়ে। দুই ম্যাচ খেলে তিনি অবশ্য চলে যান ব্যক্তিগত কাজে। সাকিবসহ প্রথম দুটি ম্যাচে জয় পায় ওয়ালটন সেন্ট্রাল। শেষ ম্যাচ হারলেও তাকে ছাড়া ফাইনাল ঠিকই জিতে নেয় মোসাদ্দেক বাহিনী। ওয়ালটন সেন্ট্রালে সাকিব যে কতোটা প্রভাবক ছিলেন সেটা বোঝা গেছে অধিনায়ক থেকে শুরু করে সকলের ভাষাতেই।

শনিবার (১৫ জানুয়ারি) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিসিবি সাউথকে ৬ উইকেটে হারিয়ে ইন্ডিপেন্ডেন্স কাপে চ্যাম্পিয়ন হয় ওয়ালটন সেন্ট্রাল। একই দলকে হারিয়ে বিসিএলেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। বিসিবি সাউথ আগে ব্যাটিং করে ১৬৪ রানের টার্গেট দেয়। ৪৫ বল হাতে রেখে ওয়ালটন সেন্ট্রাল ৪ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ জিতে যায়।

একটা সময় অবশ্য দল বিপদে ছিল। ৭৬ রান না হতেই চার উইকেট হারিয়ে দল ছিল চাপে। তখন জুটি গড়েন মোসাদ্দেক-আল আমিন। ৮৮ রানের জুটিতে দলকে জিতিয়ে তবে মাঠ ছাড়েন। মোসাদ্দেক ৩৩ ও আল আমিন ৫৩ রানে অপরাজিত ছিলেন।

মোসাদ্দেক বলেন, ‘চাপ ছিল। আমি ছিলাম, আল আমিন খুব ভালো ব্যাটিং করেছে। মিজান ভাই ভালো ব্যাটিং করেছে শুরুতে। উনি ম্যাচের একটা ফ্লো এনে দিয়েছিলেন। আমি আর আল আমিন ধরে রাখতে পেরেছি শেষ পর্যন্ত। যার ফলে ম্যাচটা সহজ হয়ে গেছে।’

‘আমরা গতকাল মনে করেছিলাম হাই স্কোরিং ম্যাচ হবে। অন্তত ২৫০ স্কোর হবে। আসলে ফাইনালে একটা ব্যাপার থেকে যায়। অনেক সময় দেখা যায় লো স্কোরিং ম্যাচ হয়। সে জায়গা থেকে চিন্তা করলে আমরা হালকাভাবে বিষয়টা নেইনি। সিরিয়াস ছিলাম। আমি মনে করি আমার টিমমেটদের জন্য জেতাটা সহজ হয়েছে’- যোগ করেন মোসাদ্দেক।

সতীর্থদের প্রশংসা করলেও মোসাদ্দেক নিজেও খেলেছেন দুর্দান্ত। ব্যাট-বলে সমানতালে দলে অবদান রেখেছেন। পুরো টুর্নামেন্টে তার পারফরম্যান্স ছিল অধিনায়কসুলভ। ব্যাট হাতে ১৪৮ ও বল হাতে নেন ৬ উইকেট। ফাইনাল সেরার সঙ্গে পেয়েছেন টুর্নামেন্ট সেরার পুরষ্কারও।

উচ্ছ্বসিত মোসাদ্দেক বলেন, ‘আনন্দেরতো অবশ্যই। ভালো, খেলতে পারলেতো ভালো লাগে। আমি চেষ্টা করবো আমার জায়গা থেকে পারফরম্যান্সটা করার।’

দারুণ পারফরম্যান্স করে টুর্নামেন্ট সেরা হয়েছেন, এবার কি জাতীয় দলে ফেরার স্বপ্ন দেখছেন তিনি? তার সোজা-সাপ্টা উত্তর, ‘এটা আমার ওপর না। এটা ম্যানেজম্যান্টের উপর। আমার কাজ হচ্ছে পারফরম্যান্স করা। আমার জায়গা থেকে যতটুক করার আমি চেষ্টা করতেছি।’

জাতীয় দলের জার্সিতে মোসাদ্দেক সব শেষ খেলেছেন টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। দেশের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেই সিরিজের পর থেকে তিনি দলের বাইরে। বল ব্যাট হাতে উজ্জ্বল তিনি, এবারতো স্বপ্ন দেখতেই পারেন।

ঢাকা/আমিনুল

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়