ঢাকা     বুধবার   ১২ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২৮ ১৪২৭ ||  ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

সিলেটে পরিত্যক্ত প্লটে চামড়া ডাম্পিং, পরে অপসারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:৩০, ২ আগস্ট ২০২০  
সিলেটে পরিত্যক্ত প্লটে চামড়া ডাম্পিং, পরে অপসারণ

সিলেট নগরের ব্যস্ততম এলাকা আম্বরখানা পয়েন্ট। এ পয়েন্টের পাশেই একটি আবাসন সিটির পরিত্যক্ত প্লট।

শনিবার (১ আগস্ট) রাতের আঁধারে প্লটটিতে সহস্রাধিক পশুর চামড়া ফেলে রাখা হয়। কিছুক্ষণের মধ‌্যে চামড়া থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে। যত সময় যায় দুর্গন্ধের মাত্রা আরও বাড়ে।

স্থানীয়দের কাছ থেকে এ খবর পেয়ে রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে সেখানে ছুটে যান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। পরে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা এসব চামড়া সেখান থেকে অপসারণ করেন। ট্রাকযোগে এসব চামড়া দক্ষিণ সুরমার পারাইরচকে সিটি কর্পোরেশনের ডাম্পিং জোনে নিয়ে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়।

সিসিকের জনসংযোগ শাখা জানায়, এই পরিত্যক্ত প্লটের মালিক সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক। তিনিই রাতের আঁধারে তার এলাকায় কোরবানিকৃত সকল পশুর চামড়া একত্রিত করে সিলেটে ওই স্থানে রাখতে বলেছিলেন। এজন্য তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে সিসিক।

সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘গতকাল ঘোষণা দিয়েছিলাম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব বর্জ্য অপসারণ হবে, তাই হয়েছে। তবে আজকেও অনেক জায়গায় কোরবানি হচ্ছে, এজন্য বর্জ্য অপসারণ ঠিকমতো হচ্ছে কি না তা তদারকি করতে সকালে আমি নগরে বের হই। দুপুরে আম্বরখানার স্থানীয় এক মহিলা ফোন করে এ তথ্য দিলে আমরা সেখানে যাই। সেখানে গিয়ে এ চিত্র দেখতে পাই।’

তিনি বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে জানতে পারি এই জমির মালিক জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক। তার সাথে আমি মোবাইলফোনে কথা বলেছি। তিনি চামড়াগুলো তার এলাকায় ফেলতে না পেরে এখানে ফেলেছেন বলে স্বীকার করেছেন। এসময় তিনি আমার সাথে রূঢ় আচরণও করেন।’

এদিকে সিসিক মেয়রের সাথে কোনো রূঢ় আচরণ করেননি দাবি করে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক বলেন, ‘আমার ইউনিয়নে বিভিন্ন কওমি মাদরাসার ছাত্র ও শিক্ষকরা ঈদের দিন বিভিন্ন গ্রাম থেকে মোট ৬৩০টি চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন। তবে ঈদের দিনে তারা চামড়া বিক্রি করতে না পেরে আমার কাছে আসেন। আমি ট্রাকে করে চামড়াগুলো সিলেটে নিয়ে রাখি। সকালে কিছু চামড়ায় লবণ মাখানো হয়েছে। তবে পরে সিসিকের পরিচ্ছন্নকর্মীরা সেখান থেকে এগুলো অপসারণ করে মেয়রের নির্দেশে পুঁতে ফেলে।’

নোমান/সনি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়