ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ কার্তিক ১৪২৬, ১৪ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

সিলেটে নদীর পানি বাড়ছেই

আব্দুল্লাহ আল নোমান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৭-১২ ৭:৫৬:২৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৭-১৩ ১০:৫১:৪২ এএম

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট : সিলেটের ছয়টি উপজেলার নিম্নাঞ্চল উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়েছে। একই সঙ্গে অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে সুরমা, কুশিয়ারা এবং সারিসহ ভারত সীমান্তের সব নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পাউবো বলছে, উজানে ভারতের আসাম ও মেঘালয় রাজ্যে অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে সীমান্ত নদীগুলোতে পানি বাড়ছেই; একই সঙ্গে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে সিলেট অঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাতে নতুন করে একাধিক এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শহীদুজ্জামান সরকার বলেন, সিলেটের সুরমা ও কুশিয়ারার সবকটি পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে সব জায়গায় পানি বাড়ছে। নতুন করে কিছু উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এ অবস্থা বিরাজমান থাকলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা তার।

পাউবো সিলেটের কন্ট্রোল রুম থেকে পাওয়া তথ্যানুসারে, শুক্রবার বিকেল ৩টায় সিলেটের কানাইঘাটে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ১১১ সেন্টিমিটার এবং সিলেটে ৩৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে বিয়ানীবাজারের শেওলায় কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ১২৩ সেন্টিমিটার, জকিগঞ্জের আমলসীদে বিপদসীমার ৬৯ সেন্টিমিটার এবং মৌলভীবাজারের শেরপুর পয়েন্টে বিপদসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তাছাড়া জৈন্তাপুরের সারীঘাটে সারি নদীর পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আবহাওয়া অফিস জানায়, শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত সিলেটে ৩৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এর আগের পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ৫৫ দশমিক ৮ মিলিমিটার রেকর্ড হয়। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ব্যাপক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

জেলার গোয়াইনঘাটে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে। সারি নদীর পানি কিছুটা কমলেও অপর সীমান্ত নদী পিয়াইনের পানি বাড়ছে। ফলে নতুন করে কিছু এলাকা তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মনজুর আহমদ।

তিনি আরও জানান, উপজেলার সারি-গোয়াইন এবং সালুটিকর-গোয়াইন সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকে জেলা সদরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া উপজেলার বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি উঠায় বৃহস্পতিবার ক্লাস হয়নি। শুক্রবার নতুন করে আরো স্কুলে পানি উঠেছে। উপজেলার জাফলং এবং বিছানাকান্দি পাথর কোয়ারিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় লক্ষাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিশ্বজিৎ কুমার পাল দুই দিনে প্লাবিত একাধিক এলাকা পরিদর্শন করেছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি এও বলেন, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছ থেকে ১৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের দ্রুত তথ্য প্রদানের জন্য বলা হয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ধলাই নদীর পানি বাড়ায় উপজেলার নিম্নাঞ্চলের কয়েকটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। শুক্রবার উপজেলা সদরে পানি উঠে গেছে। ইউএনও’র বাসভবন সড়ক এবং উপজেলা সদরের টিএন্ডটি রোড দিয়ে হাঁটু পরিমাণ পানি প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানান স্থানীয় সংবাদকর্মী আবিদুর রহমান।

তিনি আরও জানান, ধলাই নদীর পানি বাড়ায় ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। ভোলাগঞ্জ জিরোপয়েন্টের সাদাপাথর এলাকায় পর্যটক গমনে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজেন ব্যানার্জী জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় তারা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছেন। কয়েকটি স্থানে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একটি মেডিকেল টিম গঠন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

জৈন্তাপুর উপজেলার নদী তীরের তিনটি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সংবাদকর্মী নুরুল ইসলাম। কানাইঘাটে সুরমার পানি বিপদসীমার ১১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদী তীরের কয়েকটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে বলে জানান স্থানীয় সংবাদকর্মী আলাউদ্দিন।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (ডিআরআও) মো. নুরুন্নবী মজুমদার জানান, উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট উপজেলা বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। বালাগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জে একটি করে ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কোম্পানীগঞ্জে ৮ টন এবং গোয়াইনঘাটের জন্য ১৮ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।


রাইজিংবিডি/ সিলেট/১২ জুলাই ২০১৯/ আব্দুল্লাহ আল নোমান/বকুল

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন