ঢাকা     মঙ্গলবার   ০৯ জুন ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ২৬ ১৪৩৩ || ২৪ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

চবিতে দেশের প্রথম ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন উদ্বোধন

চবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:৩৬, ৯ জুন ২০২৬   আপডেট: ১৬:২৬, ৯ জুন ২০২৬
চবিতে দেশের প্রথম ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন উদ্বোধন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) উদ্বোধন হয়েছে দেশের প্রথম ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন। এর মাধ্যমে বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় অঞ্চলের স্যাটেলাইটভিত্তিক তথ্য সরাসরি সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ সক্ষমতার নতুন যুগে প্রবেশ করবে বাংলাদেশ।

আরো পড়ুন:

মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ১০টায় ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশনের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চবি উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-ফোরকানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমদ, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীন দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সিলর লি শেওপেং ও চীনের সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফির ডেপুটি ডিরেক্টর অধ্যাপক ফু বিন।

উদ্বোধন শেষে প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, “স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন প্রকল্পের লক্ষ্য পূরণে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ, উচ্চগতির ইন্টারনেটসহ অন্যান্য অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনা, মাছ আহরণ, নৌপরিবহন এবং উপকূলীয় উন্নয়নে এই স্যাটেলাইট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আজ একটি ঐতিহাসিক দিন। চীনের অর্থায়নে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো একটি অনন্য স্যাটেলাইট স্টেশন স্থাপিত হয়েছে। এ কেন্দ্রের মাধ্যমে শুধু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নয়, দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গবেষকেরাও উপকৃত হবেন। তারা সমুদ্র ও মৎস্যসম্পদ সংক্রান্ত রিয়েল-টাইম তথ্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন।”

প্রকল্প–সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রায় ৪২০ টেরাবাইট সংরক্ষণ সক্ষমতাসম্পন্ন এই গ্রাউন্ড স্টেশন বিশ্বের ১১টি স্যাটেলাইট থেকে সংযোগ পাবে। এর মাধ্যমে দেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগ ও ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস, নদীভাঙন, মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা, বন উজাড়সহ পরিবেশ–সম্পর্কিত নানা তথ্য দ্রুত সময়ের মধ্যে পাওয়া যাবে। এছাড়া, তথ্য সংগ্রহের সময় ২০-৩০ ঘণ্টার পরিবর্তে মাত্র ১৫-২০ মিনিটে নেমে আসবে। ফলে দেশের সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও গবেষণায় দেখা দিবে নতুন সম্ভাবনার হাতছানি। 

গত বছরের ২৬ মার্চ শুরু হওয়া এই প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৫০ কোটি টাকার কারিগরি সহায়তা দিয়েছে চীনের সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফি। বাকি ২০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা/মিজানুর/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়