ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১৩ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২৯ ১৪২৭ ||  ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে শেষ হাসি তামিমের

287 || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:২৮, ১৬ মার্চ ২০২০  
রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে শেষ হাসি তামিমের

শিরোপার প্রত্যাশায় গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স ও প্রাইম ব্যাংক গড়েছে শক্তিশালী দল। বঙ্গবন্ধু ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের প্রথম রাউন্ডে তাদের মুখোমুখি লড়াইয়ে ছড়িয়েছিল উত্তেজনা, রোমাঞ্চ। মাঠে দুই দলের দাপুটে ক্রিকেট। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বলা যাচ্ছিল না কে হাসবে শেষ হাসি।

স্কোরবোর্ডে প্রাইম ব্যাংকের স্বল্প পুঁজি। গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স একটু ধৈর্য দেখালেই হয়ে যেত। কিন্তু প্রাইম ব্যাংকের বোলারদের দাপটে তারা পথ হারালো। শেষটায় গাজী গ্রুপ লড়াই করেছিল। কিন্তু বল ও রানের ব্যবধান কমাতে পারেনি। ফলে শেষ হাসিটা হাসে তামিমের প্রাইম ব্যাংক।

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে প্রাইম ব্যাংক ৬ উইকেট হারিয়ে ২৫১ রান তোলে। জবাবে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স ২৪২ রানের বেশি তুলতে পারেনি। ৯ রানের জয়ে পূর্ণ ২ পয়েন্ট নিশ্চিত করে তামিমের দল।

ওয়ানডে অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথম লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ। তামিমের দিকে চোখ ছিল সবার। অধিনায়কের পারফরম্যান্স কেমন কিংবা মাঠে দল গোছানো কেমন? ব্যাটসম্যান তামিম পারেননি প্রত্যাশা পূরণ করতে। মন্থর ইনিংস খেলেছেন মিরপুরের ২২ গজে। ৪৭ বলে ১ চারে করেছেন মাত্র ১৯ রান। নাসুম আহমেদকে স্লগ খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন শর্ট ফাইন লেগে।  কিন্তু অধিনায়ক তামিম উতরে গেছেন। দলকে দিয়েছেন প্রত্যাশিত জয়।

জাতীয় দলের তামিম, মিথুনকে নিয়ে দল সাজিয়েছে প্রাইম ব্যাংক। তাদের দুজনের ব্যাটই হাসেনি। তামিম ১৯, মিথুন করেন ২৭ রান। হাসেনি ঘরোয়া ক্রিকেটে রানের বন্যা বইয়ে দেওয়া এনামুল হক বিজয়ের ব্যাটও। রানের খাতা খোলার আগেই আউট। দলকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেন রনি তালুকদার। ৭৯ রানের ইনিংস খেলে শুরু থেকে রানের চাকা সচল রাখেন এ ব্যাটসম্যান। শেষটা রাঙিয়েছেন নাহিদুল ও নাঈম। দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৯৬ রানের জুটিতে প্রাইম ব্যাংক লড়াই করার পুঁজি পায়।  নাহিদুল ৪৩ বলে ৩ চার ও ৩ ছক্কায় অপরাজিত থাকেন ৫৩ রানে। নাঈমের ব্যাট থেকে আসে ৩৬ বলে ৬ বাউন্ডারিতে ৪৬ রান।

বল হাতে মাহমুদউল্লাহ ৩ উইকেট নিয়েছেন। স্পিনার নাসুমের শিকার ২টি।

সৌম্য, মুমিনুল, মাহমুদউল্লাহ, ইয়াসির আলীদের নিয়ে শক্তিশালী ব্যাটিং আক্রমণ গাজী গ্রুপের। লক্ষ্য আহামরি বড় ছিল না। কিন্তু কেউ-ই পারেননি দায়িত্বশীল ইনিংস খেলতে। সৌম্য সরকার মাত্র এক রানের জন্য হাফ সেঞ্চুরি মিস করেন।  ৫১ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৪৯ রান করে বোল্ড হন অফস্পিনার নাহিদুলের বলে। মুমিনুল ২৮ করে ক্যাচ দেন শরীফুলের হাতে। গাজী গ্রুপের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ ৩২ করে অলোকের বলে আউট হন। শেষের ভরসা ছিল আরিফুল, আকবর ও মেহেদী।  আরিফুল ২০ ও আকবর ৩১ রান করে আশা দেখিয়েছিলেন। কিন্তু গাজী গ্রুপকে শেষ লড়াইয়ে রাখেন মেহেদী। নিচের সারির ব্যাটসম্যান নাসুম, নাহিদ ও হাসান মাহমুদকে নিয়ে ইনিংস শেষ পর্যন্ত টেনে নেন অফস্পিন অলরাউন্ডার। রুবেল, মুস্তাফিজ, শরীফুলদের সিদ্ধহস্তে খেলে তামিমের জয়ের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ান। 

শেষ ওভারে জয়ের জন্য দরকার ছিল ২১ রান। শরীফুলের ওভারে প্রথম দুই বল ডটের পর তৃতীয় ওভারে হাঁকান বাউন্ডারি। ওই চারে লিগের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন মেহেদী। চতুর্থ বল আবার ডট। পঞ্চম বল ওয়াইড। পরের বল লং অফ দিয়ে বিশাল ছক্কা হাঁকান মেহেদী। শেষ বলে ছয় আসলেও জয় পেত প্রাইম ব্যাংক। কিন্তু ম্যাচের শেষ বলে কিছু করতে পারেননি মেহেদী।

৪৯ বলে ৫৬ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলে দলকে বড় ব্যবধানে হারের লজ্জা থেকে বাঁচিয়েছেন মেহেদী। শেষ দিকে তার দারুণ লড়াইয়ে প্রাইম ব্যাংক শিবিরেও ঢুকে গিয়েছিল ভয়। কিন্তু শেষমেশ জয়ে হাসি ফুটেছে তাদের মুখে।

ব্যাংক পাড়ার দলটির হয়ে ২টি করে উইকেট নেন মুস্তাফিজ, নাহিদুল ও অলোক। ১টি করে উইকেট পেয়েছেন নাঈম হাসান ও শরীফুল।

অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ম্যাচসেরার পুরস্কা পেয়েছেন নাহিদুল।


ঢাকা/ইয়াসিন/আমিনুল

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন  

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়