ঢাকা, সোমবার, ১১ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

ভালোবাসার স্বীকারোক্তি দিন

রওশন হাসান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০২-১৪ ১২:২৫:৩৮ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০২-১৪ ৬:৩৫:২৮ পিএম

ভালোবাসা পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর মানবিক অনুভূতি। ভালোবাসা নিয়ে আছে শতশত গল্প, উপন্যাস, নাটক, পৌরাণিক উপাখ্যান।

সাহিত্য-শিল্প-সংস্কৃতির প্রধান বিষয়বস্তু এই ভালোবাসা। ভালোবাসার জন্য মানুষ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। আত্মহননের পথ বেছে নেয়। কোন্দল, ঈর্ষা, মিলন-যুদ্ধ পৃথিবীতে কত কাহিনির সূত্রপাত। যুগে যুগে কবি, মনিষীরা ভালোবাসা বিষয়ক উদ্ধৃতি দিয়ে ছেন যা সর্বকালে স্মরণযোগ্য l

‘Two souls with but a single thought, two hearts that beat as one’. – John Keats

‘Love me or hate me, both are in my favor… If you love me, I’ll always be in your heart… If you hate me, I’ll always be in your mind.’ – William Shakespeare.

চৌদ্দই ফেব্রুয়ারি এই ভালোবাসা বিনিময়ের দিন,   ইস্তেহারের দিন। সারা বিশ্বে এই দিনটিতে প্রেমিক প্রেমিকা যুগল পালন করে ভ্যালেন্টাইনস ডে।

বর্তমানে ভ্যালেন্টাইনস ডে ঐতিহ্যের একটি অংশ হিসেবে পালিত হচ্ছে। উৎসব ও আনন্দে মেতে পুরুষ-নারী ফুল, কার্ড, গিফট বিনিময়ের মাধ্যমে এ দিনটি স্মরণীয় করে রাখে। এ বিশেষ দিনটির উৎপত্তি সম্পর্কে নানাবিধ চমকপ্রদ তথ্য রয়েছে যা কাহিনি হিসেবে সবার মুখে মুখে প্রচারিত।

ভ্যালেন্টাইনস ডের উৎপত্তি ৬০০ বছর আগে ঘটেছিল। সে সময় প্যাগান নামক এক সম্প্রদায় ‘লুপারসিলা’ নামে একটি উৎসব পালন করতো। সেই উৎসবের মূল লক্ষ্য ছিল নারীদের বন্ধ্যাত্ব দূর করা। শূকর, গরু কিংবা ছাগল উৎসর্গ করে তাদের রক্ত নারীদের গায়ে মাখিয়ে দেয়া হতো। পরবর্তীতে একটি বাক্সে সেসব নারীর নাম লিখে তাদের পুরুষ সঙ্গী বেছে নেয়া হতো। ধারণা করা হয় সেই উৎসব থেকেই আবির্ভূত আজকের ভ্যালেন্টাইনস ডে। অনেকের মতে, ভ্যালেন্টাইনস ডের গোড়াপত্তন তারও অনেক পরে। তৃতীয় শতাব্দীর দিকে সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনসের ফাঁসির জের ধরে শুরু হয় এই দিবস। রোমান রাজা দ্বিতীয় ক্লদিয়াসের সময়ে সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনস গোপনে কিছু খ্রিস্টানকে পালাতে সাহায্য করেন। পাশাপাশি কিছু খ্রিস্টান যুগলকে বিয়েও করিয়ে দেন। আর এই ঘটনা জানতে পেরে ১৪ ফেব্রুয়ারিতে সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনসকে হত্যার নির্দেশ দেন রাজা ক্লদিয়াস। পরবর্তীতে মৃত ভ্যালেন্টাইনসের স্মরণে ১৪ ফেব্রুয়ারি পালন করা হয় ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’।

প্রতি বছর এই দিনটিতে হাজার হাজার মানুষ তাদের ভালোবাসার মানুষকে উদ্দেশ্য করে চিঠি লিখে থাকেন। তবে মজার ব্যাপার হলো, অনেকেই নিজের প্রিয় মানুষটির কাছে চিঠিটি না পাঠিয়ে পাঠান ইতালির ভেরোনাতে। শেক্সপিয়ারের কালজয়ী প্রেমের উপন্যাস ‘রোমিও-জুলিয়েট’  এর স্মরণে ভেরোনার এই স্থান জুলিয়েটের নামে উৎসর্গিত। সেখানে প্রতি বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি হাজার হাজার চিঠি এসে জমা হয়। জুলিয়েট ক্লাবের কিছু স্বেচ্ছাসেবী কর্মী প্রতিটি চিঠির উত্তরই দেন যত্ন সহকারে। এমনকি প্রতি বছর সবচেয়ে মর্মস্পর্শী চিঠিকে দেয়া হয় ‘কারা গুইলেইটা’  (ডিয়ার জুলিয়েট) নামক একটি পুরষ্কার।

ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে প্রিয় মানুষটিকে চকলেটের বাক্স উপহার হিসেবে দেয়ার প্রথাটি শুরু হয়েছিল উনিশ শতকে।  রিচার্ড ক্যাডবেরি নামের এক তরুণ এই প্রথাটি শুরু করেন। বিখ্যাত চকলেট কোম্পানি ক্যাডবেরির প্রতিষ্ঠাতা রিচার্ড ক্যাডবেরিই ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে চকলেট গিফট দেয়ার প্রচলন শুরু করেছিলেন। ওই দিনটিতে সবাই বেশি বেশি চকোলেট কিনবে, ব্যবসায়িক লাভেরও একটি বিষয় এর সঙ্গে জড়িত ছিল। সেই থেকে গিফট হিসেবে চকলেট একটি প্রথায় পরিণত হয়।

পৃথিবীর সর্বপ্রথম ভ্যালেন্টাইনস কবিতা সম্পর্কিত  ইতিহাসবিদরা বের করেছেন এক চমকপ্রদ তথ্য। প্রথম ভ্যালেন্টাইনস্ কবিতাটি লেখা হয়েছিল এক আটপৌরে একটি স্থানে। একটি জেলখানায় লেখা হয়েছিল সে চিঠি। এজিনকোর্টের যুদ্ধে ধরা পড়ে যখন জেলে দিনযাপন করছিলেন ডিউক অফ অরলিন্স খ্যাত চার্লস, ঠিক সেই সময়ে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রীর উদ্দেশ্যে কবিতাটি লিখেন তিনি। ২১ বছর বয়সী চার্লস অবশ্য কবিতাটি পড়ে স্ত্রীর অভিব্যক্তি কেমন ছিল তা দেখতে পারেননি। কারণ তিনি জেলে ছিলেন টানা ২০ বছর। তবে সেই কবিতাটিকেই ধরা হয় সর্বপ্রথম ভ্যালেন্টাইনস কবিতা হিসেবে।

ভালোবাসার সাথে কিউপিড নামক গ্রীক দেবতার নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রাচীন গ্রীক মিথোলজি অনুযায়ী কিউপিড হচ্ছেন ভালোবাসার দেবতা। তবে ইরোস নামে পরিচিত এই দেবতা ছিলেন আরেক গ্রীক দেবী আফ্রোদিতির ছেলে। নিজের সন্তানকে দুটি তীর দিয়েছিলেন তিনি, যার একটি ছিল ভালোবাসার প্রতীক, আরেকটি ঘৃণার। মিথোলজি অনুযায়ী ভালোবাসার তীর দ্বারা বিদ্ধ হলে আপনি কারো প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ভালোবাসায় পড়বেন। তবে কিউপিডকে তার মা আফ্রোদিতি তীর দিয়েছিলেন আদতে মানুষের আবেগ নিয়ে খেলতে। কিন্তু এরপরও ভালোবাসা দিবসের মাস্কট হিসেবে বিখ্যাত তীর হাতে নেয়া শিশু কিউপিড।

ভ্যালেন্টাইনস ডে আক্ষরিক অর্থে মূলত প্রেমিক-প্রেমিকার ভালোবাসা প্রকাশের দিন। তবে যেহেতু একজন মানুষের ভালোবাসার ব্যাপ্তি তার চারিপাশের অসংখ্য প্রিয়জনকে ঘিরে আবর্তিত, তাই ভালোবাসা দিবসের সার্বজনীনতা ও গুরুত্ব অসীম।

রওশন হাসান: কবি, নিউ ইয়র্ক


নিউ ইয়র্ক/রওশন/সাইফ/নাসিম 

     
 

রাইজিংবিডি স্পেশাল ভিডিও