ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ চৈত্র ১৪২৬, ০৭ এপ্রিল ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

সিউলে মাতৃভাষা দিবস পালিত

মোহাম্মদ হানিফ, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০২-২৪ ৯:২৩:০৭ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০২-২৪ ৯:২৬:১৬ এএম
স্থায়ী শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম (ছবি: সিউল, বাংলাদেশ দূতাবাস)

রক্তে রঞ্জিত একুশ শুধু বাঙালি জাতিরই নয়, গোটা বিশ্ববাসীর ঐতিহ্য ও গর্বের উৎস। একুশ বাঙালি জাতির জীবনে আত্মত্যাগ, শোক, গৌরবোজ্জ্বল অহংকারে মহিমান্বিত একটি দিন।

একুশের এই অম্লান চেতনাকে দক্ষিণ কোরিয়ার বুকে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য প্রবাসীদের সাথে নিয়ে নানা আয়োজনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

দিনভর আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজনে মাতৃভাষা দিবস পালনের পাশাপাশি বীর শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয়।

শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে রাজধানী সিউলের অদূরে আনসান শহরে স্থায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা আন্দোলনে বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম।

শহীদ মিনারের সামনে ভাষা শহীদদের স্মরণে পালন করা হয় এক মিনিট নিরবতা। এরপর দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, ইপিএস ভিত্তিক কমিউনিটির সদস্যবৃন্দ, কোরিয়াস্থ প্রবাসী বাংলাদেশি ও কোরিয়ায় অধ্যায়নরত ছাত্র-ছাত্রীরা শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
 

ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জানান রাষ্ট্রদূতসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্যরা

 

স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় বাংলাদেশ দূতাবাসের সামনে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কী ভুলিতে পারি’ উপস্থিত সবার মুখে গানের সুরে সুরে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও অর্ধনমিত করেন আবিদা ইসলাম। এর মধ্যমেই অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
 

দূতাবাসের সামনে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম


অনুষ্ঠানে মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও সংস্কুতি প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনানো হয়। এর পর ‘অমর একুশে’ বইমেলার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়নের ওপর নির্মিত ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

ভাষা আন্দোলনে শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূতগণসহ জাতীয় কূটনৈতিক, দূতাবাস প্রধান স্যামুয়েল মুর্মু, দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব মিম্পে সোরেন, দূতাবাসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসাইনসহ সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় রাষ্ট্রদূত বলেন, আজ থেকে ৬৮ বছর আগে আজকের এই দিনে বাংলা মায়ের বীর সন্তানেরা মাতৃভাষার সম্মান রক্ষার্থে বুকের রক্তে রঞ্জিত করেছিলেন ঢাকার রাজপথ। সেই সাথে পৃথিবীর ইহিহাসে সৃষ্টি হয়েছিল মাতৃভাষার জন্য আত্মদানের অভূতপূর্ব নজির।
 

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম

 

তিনি আরো বলেন, আজ এই দিনটি বাংলার মানুষের জন্য অত্যন্ত গৌরব ও স্মৃতিবিজড়িত দিন। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বাংলাদেশ এবং বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশিদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে করে আছে। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ছিল ঔপনিবেশিক প্রভুত্ব ও শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রথম প্রতিরোধ এবং জাতীয় চেতনার প্রথম উন্মেষ।

১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর বাঙালি জনগোষ্ঠীর ভাষার জন্য এই আত্মত্যাগকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে ইউনেস্কো।

কোরিয়ান ন্যাশনাল কমিশন ফর ইউনেস্কোর মহাসচিব মি. কোহাংহো কিম ইউনেস্কো কর্তৃক আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার ২১ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান এবং বহুসংস্কৃতিবাদের উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

নিউজিল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত এইচ ই মি. পিলিপ টারনার বলেন, ২০০ এর অধিক নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর দেশ নিউজিল্যান্ড আদিবাসীদের ভাষা রক্ষায় বদ্ধপরিকর।
 

অনুষ্ঠানে ইউনেস্কো প্রতিনিধি দল ও বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতগণ

 

কানাডার রাষ্ট্রদূত এইচ ই মি. মিসেল ডেনেগার বলেন, তার দেশে ইংরেজি ও ফরাসী ভাষার পাশাপাশি ১৪০ এর বেশি প্রবাসী ভাষা ও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আদি ভাষা রয়েছে। ক্রমেই হারিয়ে যাওয়া আদি ভাষা রক্ষার্থে তার সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে আসছে।

ভাষা শহীদদের নিয়ে বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের অংশগ্রহণে দেশাত্মবোধক গান ও কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। সাংস্কৃতিক  অনুষ্ঠানে আংশগ্রহণ করে কয়েক দেশের শিল্পীগোষ্ঠীরা।
 

ভাষা শহীদদের স্মরণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

 

অনুষ্ঠান শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাবার পরিবেশন করা হয় এবং সবার হাতে দূতাবাসের পক্ষ থেকে উপহার তুলে দেওয়া হয়।

 

ঢাকা/জেনিস