ঢাকা     সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ১৩ ১৪২৭ ||  ১০ সফর ১৪৪২

আমার দেখা টোকিও (পর্ব-৭)

পি আর প্ল্যাসিড || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০২:০৩, ১ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১০:৩৯, ২৫ আগস্ট ২০২০
আমার দেখা টোকিও (পর্ব-৭)

৭. টোকিওর আসাকুশা শহর: জাপান আসার পর শুরুর দিকে সময় সুযোগ হলেই ঘুরে বেড়াতাম বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে। এতকাল পর এসে মনে হচ্ছে সামনে বাংলাদেশ থেকে পরিচিত কেউ আসলে তাদের নিয়ে এমন স্থানগুলোতে ঘুরতে নিয়ে যাব।

তেমনই একটি স্থান টোকিওর তা-ইতো ওয়ার্ডের আসাকুশা সিটি (শহর)। যতটা জেনেছি, ১১৮১ সালে এই এলাকার নামকরণ করা হয়েছে আসাকুশা। নানা কারণে এই শহরটি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

টোকিওর দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে আসাকুশা উল্লেখযোগ্য। এক সময় আমার বেশ প্রিয় স্থানগুলোর মধ্যে এই আসাকুশা শহর ছিল একটি। কখনো কোনো কারণে মন খারাপ হলে আমি এই শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সুমিদা কাওয়ার (নদী) পাশে এসে বসে সময় কাটাতাম।  বিশেষ করে যখন হোম সিকে  ভুগেছি, তখন এই আসাকুশা নদীর কাছে  আসলে মন ভালো হয়ে যেত।

বছরের মাঝামাঝি সময় এখানে বেশ বড় উমাৎচুরী বা উৎসব হয়। এটা দেখার জন্যই দেশ-বিদেশ থেকে প্রচুর দর্শণার্থীর আগমন ঘটে।

এখানে রয়েছে প্রাচীনতম বৌদ্ধ মন্দির। এই মন্দিরকে ঘিরে নানারকম উপহার সামগ্রী বিক্রির জন্য বিশেষ দোকান পাট বা বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। এ কারণে অনেকটা বাণিজ্যিক পল্লী বলা যায় এই শহরকে।

এই শহর উৎসব প্রধান শহর। এখানে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়জুড়ে উৎসব চলে। পাশেই যে সুমিদা কাওয়া (নদী)। টোকিওতে সবচেয়ে বড় ফায়ার ওয়ার্কসগুলোর একটি করা হয় এখানে। বছরে প্রায় ৩০ মিলিয়ন জাপানি এবং বহির্বিশ্ব থেকে দর্শনার্থীদের আগমন ঘটে এই আসাকুশাতে।

৬২৮ বিসি (খ্রিস্টপূর্ব) একই পরিবারের দুই ভাই হিনোকুমা হামানারি এবং হিনোকুমা তাকেনারি সুমিদা নদীতে মাছ ধরতে জাল ফেলেছিল। তখন তাদের জালে একটি বৌদ্ধ মূর্তি আটকালে তা উপরে তুলে আনে। সেই মূর্তিই এখানকার প্রাচীনতন মন্দিরে সংরক্ষিত রয়েছে। এ কারণেই তাদের নাম অনুসারে এই মন্দির নির্মাণ করা হয়। ৬৪৫ সালে প্রথম এর নির্মাণকাজ শেষ করা হয়েছিল। এরপর বিশ্বযুদ্ধ, ভূমিকম্প এবং আগুন লাগার কারণে এটি ধ্বংস হয়ে গেলে পরবর্তীতে আবারও এটি নির্মাণ করা হয়। তকুগাওয়া সগুন এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা।

যেসব কারণে এই আসাকুশা শহরটি পর্যটক এবং সাধারণ জাপানি বা ব্যবসায়ীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ এবং জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তার মধ্যে- এই শহরে বিভিন্ন উপহার সামগ্রী পাওয়া যায়। যা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। পুরো জাপানের সংস্কৃতি ধারণ করছে এই শহর। তাই এখানে আসলে অন্য কোথাও অনেকটা না গেলে চলে।

বিশেষভাবে বলা যায়, বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের মেন্যুতে যেসব খাবার রয়েছে সেসব খাবার এখানে তৈরি করা হয়। যা অন্য কোথাও করা হয় না।

এখানে আসলে জাপানের জিন রিকশায় ঘুরা যায়। আমাদের বাংলাদেশে যে রিকশা চলে তার শুরু হয়েছিল জাপানে। এর ঐতিহ্য এখনো পর্যটকদের জন্য ধরে রাখা হয়েছে। এখানেও তার ব্যবহার করা হয়। পুরো জাপানে খুব বড় কয়েকটি উৎসবের মধ্যে এখানে একটি পালিত হয়। যা মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহের শুক্র, শনি ও রোববার উদযাপন করা হয়।

জুলাই মাসের শেষ শনিবার এখানে বড় ফায়ার ওয়ার্কস হয়। যা পুরো টোকিওর বড় ফায়ার ওয়ার্কসগুলোর মধ্যে চার নম্বর স্থান দখল করে আছে। ১৯৭৮ সালে প্রথম এই সুমিদা নদীর তীরে ফায়ারে ওয়ার্কস করা হয়েছিল। এরপর থেকে প্রতি বছর এখানে বিশ থেকে বাইশ হাজার আতশবাতি পোড়ানো হয়। এই ফায়ার ওয়ার্কসকে জাপানি ভাষায় হানাবি বলা হয়। শুরু থেকে এ পর্যন্ত প্রতি বছর এই হানাবি দেখার জন্য গড়ে প্রায় সাড়ে নয় লাখ লোকের উপস্থিতি ঘটে।

এখান থেকে ভ্রমণ বিলাসীদের জন্য জল পথে বিশেষ বোট চালানো হয়। যে বোটে চড়ে টোকিও এবং এর আশেপাশের শহর ঘুরে দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কয়েক বছর আগে লেখক আনিসুল হক জাপান সফর করেন। সে সময় তিনিও এই বোটে ঘুরেছেন। সঙ্গে জনপ্রিয় অভিনয় শিল্পী অপি করিমও ছিলেন। পর্যটকদের ঘুরে বেড়ানোর জন্য ঘোড়ার গাড়ির ব্যবস্থাও রয়েছে।

এছাড়া এই শহরে ছবি তোলার বিশেষ ব্যবস্থা  রয়েছে। চাইনিজ, ইংরেজিসহ আরও কয়েকটি দেশের ভাষা জানা অভিজ্ঞ ফটোগ্রাফারের মাধ্যমে ছবি তোলার ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি দুইশর বেশি জাপানি ট্রেডিশনাল পোশাক রয়েছে যা পরে পর্যটকরা ছবি তুলতে পারে।

লেখক: জাপান প্রবাসী সাংবাদিক

আরও পড়ুন: আমার দেখা টোকিও (পর্ব-৬)

ঢাকা/সাইফ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়