RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২১ জানুয়ারি ২০২১ ||  মাঘ ৭ ১৪২৭ ||  ০৬ জমাদিউস সানি ১৪৪২

‘বাইডেনের প্রশাসনে বাংলাদেশি যোগদানের খবর সঠিক নয়’

নিজস্ব প্রতিবেদক, যুক্তরাষ্ট্র || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:৩৩, ২৩ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ২২:১৯, ২৩ নভেম্বর ২০২০
‘বাইডেনের প্রশাসনে বাংলাদেশি যোগদানের খবর সঠিক নয়’

নব-নির্বাচিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনে বাংলাদেশিদের যোগদানের গুজবে ভাসছে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশিরা। ভারতীয় বংশোদ্ভূত বাঙালি অরুণ মজুমদার ও মালা আডিগা বাইডেনের প্রশাসনে থাকার বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে বলে মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে। তবে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চারজনের নাম শোনা যাচ্ছে তা সঠিক নয় বলে উল্লেখ করেছেন সচেতন প্রবাসীরা।

নিউইয়র্ক প্রবাসী একজন সিনিয়র সাংবাদিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত কিছু পত্রিকা ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া প্রবাসী সাবেক কূটনীতিক এবং বর্তমানে মার্কিন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত প্রবাসী বাংলাদেশি ড. ওসমান সিদ্দিক বাইডেনের উপদেষ্টা হয়েছেন বলে নিশ্চিত করে খবর প্রকাশ করেছে। তা সঠিক নয়।

সম্প্রতি প্রকাশিত এমন একটি সংবাদ ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন মিডিয়ায়। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদটি ভুয়া বলে জানিয়েছেন ড. ওসমান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ড. ওসমান বলেছেন, ‘আমি এটা বলতে চাই, সম্প্রতি যে খবর রটেছে যাতে বলা হয়েছে, আমাকে বাইডেন প্রশাসনের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র অ্যাডভাইজার নিয়োগ করা হয়েছে- তা সঠিক নয়। আমি এখনো সাউথ এশিয়ানস ফর বাইডেন ক্যাম্পেইন গ্রুপ এর সিনিয়র অ্যাডভাইজার হিসেবে দায়িত্বে আছি।’

বাংলাদেশের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. ওসমান ফারুকের ছোট ভাই ড. এম ওসমান সিদ্দিক একজন সাবেক কূটনীতিক এবং বর্তমানে মার্কিন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ১৯৯৯ সালে প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন তাকে ফিজি, টোঙ্গা, টুবালু এবং নাউরু নামক দ্বীপ রাষ্ট্রসমূহের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেন।

২০০০ সালে ফিজির অভ্যুত্থানের সময় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষা ও দেশটির পুনর্বাসনে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন ড. ওসমান। তিনি হচ্ছেন প্রথম আমেরিকান মুসলিম কূটনৈতিক যিনি অন্য দেশে কোনো মার্কিন মিশন প্রধানের ভূমিকা পালন করেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের ম্যাকলিন এলাকায় বসবাস করছেন।

এদিকে, ওয়াশিংটনের সিয়াটল প্রবাসী অ্যাটর্নি তাহমিনা ওয়াটসন, মিশিগানের অ্যাটর্নি মৌসুমী এম. খান ও ভার্জিনিয়ার তরুণ ডেমোক্র্যাটিক নেতা আনিকা রহমান  বাইডেনের প্রশাসনে আসছেন বলেও ভুয়া খবর ছড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বাংলা মিডিয়াতে। তবে তাদের কেউ নিশ্চিত নয়। এদের মধ্যে কেউ কেউ বাইডেন-কামালার ট্রানজিশন প্রশাসনে যোগদানের ইচ্ছাপোষণ করে লবিং শুরু করছেন। তবে বাইডেনের মন্ত্রিসভায় ভারতীয় অরুণ মজুমদারের থাকার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। 

ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, অরুণ মজুমদার এনার্জি বা জ্বালানি মন্ত্রী হতে পারেন। অপর দিকে ভারতীয় বংশোদ্ভূত মালা আডিগা আসছেন বাইডেনের প্রশাসনে। হোয়াইট হাউজের চার নতুন কর্মীর নাম ঘোষণার সময়েই শুক্রবার মালার নামও ঘোষণা করেন জো বাইডেন।

ইলিনয়েসের বাসিন্দা মালা গ্রিনেল কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েট। পড়াশোনা করেছেন ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটা স্কুল অব পাবলিক হেলথ ও ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো ল স্কুলেও। পেশায় আইনজীবী মালা শিকাগোর একটি আইন বিষয়ক সংস্থায় দীর্ঘদিন পরামর্শদাতা হিসাবে কাজ করেছেন। তারপর ২০০৮ সালে তিনি বারাক ওবামার প্রচারের সঙ্গে যুক্ত হন।

শুক্রবার ভারত-মার্কিন বংশোদ্ভূত মালা আডিগাকে হবু ‘ফার্স্ট লেডি’, অর্থাৎ জিল বাইডেনের নীতি নির্ধারকের পদে বসান হল। দক্ষিণ এশিয়ায় শিকড় আছে, এমন মানুষেরা বাইডেনের প্রশাসনে বিশেষ গুরুত্ব পেতে চলেছেন, সেটা আগাগোড়াই বোঝা গিয়েছিল। কমলা হ্যারিসের নির্বাচন থেকে শুরু করে বাইডেনের মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া অরুণ মজুমদার, তালিকা দীর্ঘ। এবার সেই তালিকাতেই যুক্ত হলেন মালা। মালা আডিগারের সঙ্গে বাইডেনদের সম্পর্ক অনেক দিনের। বাইডেন-কমলা হ্যারিস প্রচারের সিনিয়র পলিসি অ্যাডভাইজার হিসাবে কাজ করেছিলেন তিনি। ছিলেন বাইডেন ফাউন্ডেশনের হায়ার এডুকেশন অ্যান্ড মিলিটারি ফ্যামিলিজ বিভাগের প্রধান হিসেবেও। বারাক ওবামার প্রশাসনেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। ডেমোক্র্যাটদের প্রচারে বরাবরই কৃষ্ণাঙ্গ, এশিয়ার বংশোদ্ভুত মানুষেরা প্রাধান্য পেয়ে এসেছেন। বাইডেন শুরু থেকেই একাধিক ভারতীয় বংশোদ্ভূতকে নিজের প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসিয়েছেন। তামিলনাড়ুর আদি বাসিন্দা কমলা হ্যারিসকে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে বসানো বা বাঙালি অধ্যাপক অরুণাভ ওরফে অরুণ মজুমদারকে মন্ত্রিসভায় নিয়ে আসা তার সবথেকে বড় উদাহরণ।

ছাবেদ সাথী/সাইফ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়