Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ১১ মে ২০২১ ||  বৈশাখ ২৮ ১৪২৮ ||  ২৮ রমজান ১৪৪২

নিউ ইয়র্কে বোমা হামলার চেষ্টাকারী বাংলাদেশি যুবকের ৫৫ বছর কারাদণ্ড

ছাবেদ সাথী, নিজস্ব প্রতিবেদক, যুক্তরাষ্ট্র || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৩:১৫, ২৩ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ০৬:৪৩, ২৩ এপ্রিল ২০২১
নিউ ইয়র্কে বোমা হামলার চেষ্টাকারী বাংলাদেশি যুবকের ৫৫ বছর কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটন পোর্ট অথরিটি বাস টার্মিনালে বোমা হামলার চেষ্টায় ঘটনায় বাংলাদেশি যুবক আকায়েদ উল্লাহকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালত। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (এপ্রিল ২২) ম্যানহাটনের ফেডারেল জজ রিচার্ড জে সুলিভান আকায়েদ উল্লাহকে (৩১) যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি আরও ৩০ বছরের সাজা দেন।

২০১৭ সালের ১১ ডিসেম্বর নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটন পোর্ট অথরিটি বাস টার্মিনালে আত্মঘাতি বোমা হামলার চেষ্টা চালায় আকায়েদ। ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্যে যাবজ্জীবন সাজাকে ২৫ বছর হিসাব করা হয়। ফলে যতদিন আকায়েদ বাঁচবেন ততদিন জেলেই থাকতে হবে।

রায় ঘোষণার আগে আকায়েদ উল্লাহ আদালতে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার অন্তর থেকে আপনাকে বলতে পারি আমি যা করেছি তার জন্য আমি গভীরভাবে দুঃখিত। আমি নিউ ইয়র্ক পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী এবং এই দেশের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আমি কখনই নিরীহ লোকদের ক্ষতি করার পক্ষে সমর্থন করি না।’

প্রসিকিউটররা বলেন যে, ‘আকায়েদ উল্লাহ যতটা সম্ভব মানুষকে আতঙ্কিত করতে চেয়েছিল। বিস্ফোরণে একমাত্র আকায়েদই গুরুতর আহত হয়েছিলেন। কিন্ত এখন তারা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের জন্য চাপ দিয়েছে। ইউএস অ্যাটর্নি রেবেকা দোনালেস্কি বিচারককে বলেন, ‘আসামির সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও এটি ঘটেছে। নজরদারি ক্যামেরা ফুটেজে দেখা যায়, ডিসেম্বর ২০১৭ আকায়েদ টাইমস স্কয়ার সাবওয়ে স্টেশনের অভ্যন্তরে তার বুকে আটকে একটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন।’

আকায়েদ হামলার ঘটনাকে আত্মহত্যার কথা দাবি করেন। তবে বিচারক এই হামলাকে বর্বরোচিত এবং ভয়ানক অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেন। ২০১৭ সালে টাইম স্কয়ার সাবওয়ে স্টেশন থেকে ম্যানহাটনের পোর্ট অথরিটি বাস টার্মিনালে যাওয়ার ভূগর্ভস্থ পথে নিজের শরীরে বাঁধা ‘পাইপ বোমার’ বিস্ফোরণ ঘটান আকায়েদ। বোমাটি ঠিকমতো না ফাটায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হন।

তাকে গ্রেফতারের পর নিউ ইয়র্ক পুলিশ জানায়, ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি হামলা চালানোর চেষ্টা করেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। নিউ ইয়র্কের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তদন্তের পর জানান, কর্মস্থলে বিস্ফোরকটি তৈরি করেছিলেন আকায়েদ উল্লাহ নিজেই। এ ঘটনায় চারজন আহত হন।
আকায়েদ উল্লাহর নিউ ইয়র্ক শহরে ট্যাক্সি ও লিমোজিন গাড়ি চালানোর লাইসেন্স ছিল। ২০১২ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ওই লাইসেন্সের মেয়াদ ছিল। ২০১৫ সালের মে মাসের পর ওই লাইসেন্স আর নবায়ন করা হয়নি। তবে শহরের ইয়েলো ট্যাক্সি বা উবার চালানোর লাইসেন্স তার ছিল না।

নিউ ইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনে আকায়েদ ও তার পরিবার বসবাস করতো। তারা যে বাড়িতে থাকতেন, ঠিক তার পাশেই থাকেন অ্যালান বুতরিকো। তিনি জানান, আকায়েদ থাকতেন ভূগর্ভস্থ (বেসমেন্ট) কক্ষে। তার বোন থাকতেন দোতলায়। তার ভাইও থাকতেন একই ভবনে।

বুতরিকো বলেন, ‘ঘটনার আগে গত দুই রাত ধরে আকায়েদের বাড়ি থেকে মারামারি, চিৎকার ও কান্নার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছিল। গত দুই রাত ধরেই এমন চলেছে। তারা বলেছেন যে, কান্না ও গোঙানোর শব্দ শুনতে পেয়েছেন। তবে কী হয়েছে বুঝতে পারেননি। পুলিশেও খবর দেওয়া হয়নি।’ 

তবে ঘটনার দিন বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে আকায়েদ যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। ঘটনার তদন্তকালে পুলিশ তার সেই স্ট্যাটাস খুঁজে পেয়েছে। তার সেই স্ট্যাটাসটি এরকম-‘ট্রাম্প, তুমি তোমার দেশকে রক্ষায় ব্যর্থ হচ্ছো’।

আকায়েদ গ্রেপ্তারের পর অভিযোগ ওঠে যে, নিউ ইয়র্কে জামায়াত-সমর্থক সংগঠন মুসলিম উম্মাহ অব নর্থ আমেরিকা (মুনা)’র সদস্য ছিলেন আটক আকায়েদ উল্লাহ। এ অভিযোগের পর মুনার প্রেসিডেন্ট দেলোয়ার হোসেন তা অস্বীকার করে বলেছিলেন অভিযুক্ত ব্যক্তি মুনার কোনো সদস্য নন। আমাদের প্রতিটি সদস্যের নাম-ঠিকানা আমরা লিপিবদ্ধ রাখি। এমনকি আমাদের কোনো অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের নামও লিপিবদ্ধ করা হয়।

আকায়েদ উল্লাহ দেশের বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে। ঢাকায় বেড়ে ওঠা আকায়েদ প্রায় ১২ বছর আগে অভিবাসী হয় যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। সেখানে মা, বোন ও দুই ভাইর সঙ্গে থাকতেন। তবে তার স্ত্রী সন্তানসহ ঢাকায় থাকতেন।

ঢাকা/আমিনুল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়