Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     শনিবার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||  আশ্বিন ১০ ১৪২৮ ||  ১৬ সফর ১৪৪৩

করোনা থেকে পুনরুদ্ধারে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরির আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, যুক্তরাষ্ট্র || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:১১, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৩:২২, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২১
করোনা থেকে পুনরুদ্ধারে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরির আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন বলেছেন, করোনা মহামারি থেকে স্থিতিশীল পুনরুদ্ধারে এমন একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করতে হবে যেন জাতি, গোত্র, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই অর্থবহভাবে অবদান রাখতে পারে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত শান্তির সংস্কৃতি বিষয়ক জাতিসংঘের উচ্চতর ফোরামে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনির্মাণের একটি অপরিহার্য উপাদান হিসেবে আগের থেকেও ভালো অবস্থায় ফিরে যাওয়ার লক্ষ্যে কোভিড পরবর্তী পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে শান্তির সংস্কৃতিকে ধারণ ও লালন করার কোনো বিকল্প নেই।

উচ্চ পর্যায়ের এই ফোরামে কোভিড পরবর্তী ‍পুনরুদ্ধার কার্যক্রমসমুহের অন্তর্ভুক্তি এবং প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্য অর্জনের বিষয়টি আরও এগিয়ে নিতে শান্তির সংস্কৃতি রূপান্তরধর্মী ভূমিকা পালন করতে পারে তা তুলে ধরা হয়।  দিনব্যাপী আয়োজিত কর্মসূচির মধ্যে উদ্বোধনী পর্ব ছাড়াও একটি প্লেনারি সেশন এবং ভার্চুয়াল প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠান হয়।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ‘শান্তির সংস্কৃতি’ ধারণাটি উপস্থাপন এবং ১৯৯৯ সাল থেকে  প্রতি বছর সর্বসম্মতিক্রমে তা রেজুলেশন হিসেবে গৃহীত হওয়া এবং ২০১২ সাল থেকে উচ্চ পর্যায়ের ফোরাম আয়োজন করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রণী ভূমিকার কথা তুলে ধরেন পরররাষ্ট্রমন্ত্রী।

উদ্বোধনী পর্বে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি, ইউএন অ্যালায়েন্স ফর সিভিলাইজেশন এর উচ্চ প্রতিনিধি, জাতিসংঘ মহাসচিবের শেফ দ্য ক্যাবিনেট এবং ইউনেসকোর প্রতিনিধি।

তিনি পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টায় ‘শান্তির সংস্কৃতি’কে মূলভাগে স্থাপন করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।  এছাড়া শান্তি ও উন্নয়নের পারস্পরিক গভীর আন্ত:সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে যথা সময়ে এজেন্ডা ২০৩০ এর বাস্তবায়নের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মহামারি থেকে সফল পুনরুদ্ধারের জন্য অবশ্যই বৈশ্বিকভাবে টিকাদান কর্মসূচির বাস্তবায়ন প্রয়োজন।  এক্ষেত্রে ভ্যাকসিনের জাতীয়করণকে দুর্ভাগ্যজনক বলে অভিহিত করে এবং এ ধরনের ভ্যাকসিন বৈষম্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।   

এদিকে, বিকালে ‘শান্তির সংস্কৃতিতে সিভিল সোসাইটি সংস্থা সমূহের অংশগ্রহণ’ বিষয়ক একটি ভার্চুয়াল প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।  যা সঞ্চালনা করেন জাতিসংঘের সাবেক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আনোয়ারুল করিম চৌধুরী। জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা এতে প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।

প্যানেলিস্ট হিসেবে প্রদত্ত বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত ফাতিমা ডিজিটাল বিভাজন দূর করা এবং প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্গঠনের ওপর জোর দেন যাতে শিক্ষায় সব শিশুর নিরবচ্ছিন্ন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়।  সমাজে অসমতা উদ্বেগজনকহারে বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।  সামগ্রিকভাবে অসমতা দূর করতে তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের রেজুলেশন-‘ডিক্লারেশন অন দ্য কালচার অব পিস অ্যান্ড প্রোগাম অব অ্যাকশন’ অনুযায়ী প্রতিবছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির আহ্বানে শান্তির সংস্কৃতি বিষয়ক জাতিসংঘ উচ্চ পর্যায়ের ফোরাম অনুষ্ঠিত হয় যার আয়োজন করে বাংলাদেশ। প্রতি বছর বাংলাদেশ আনীত এই রেজুলেশনটিতে বিপুলসংখ্যক দেশ পৃষ্ঠপোষকতা করে এবং এটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।  দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে সদস্য দেশসমূহের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রাষ্ট্রদূত, মন্ত্রী ও সিভিল সোসাইটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

সাথী/সুমি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়