RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     রোববার   ২৫ অক্টোবর ২০২০ ||  কার্তিক ১০ ১৪২৭ ||  ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বন্যায় আশা জাগাচ্ছে ‘ভাসমান বীজতলা’

ঝালকাঠি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:১১, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ০৯:২৯, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
বন্যায় আশা জাগাচ্ছে ‘ভাসমান বীজতলা’

বন্যায় পানি উঠে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে ঝালকাঠিতে।  এর মধ্যে আমনের বীজতলাই বেশি। এ অবস্থায় দিশেহারা কৃষকদের জলাবদ্ধ ক্ষেতেই ভাসমান বেডে বীজতলা তৈরির পরামর্শ দিয়েছে কৃষি বিভাগ।

সেই ভাসমান বেডের বীজতলাই এখন আশা জাগাচ্ছে এখানের কৃষকের মনে।

ঝালকাঠি জেলায় চলতি আমন মৌসুমে দুই শতাধিক বন্যা সহিষ্ণু ভাসমান বীজতলা তৈরি করে ইতোমধ্যেই সফলতা পেয়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা।  এর মধ্যে কৃষি বিভাগের অর্থায়নেই করা হয়েছে ১২০টি।  বন্যার পানিতে তাদের বীজতলার ক্ষতি হয়নি।  কলাগাছের ভেলায় তৈরি এসব বীজতলায় এখন সোনালী ধানের স্বপ্ন বুনছেন তাঁরা।

কৃষি বিভাগ বলছে, বন্যা সহিষ্ণু ভাসমান বেডে যারা বীজতলা করেছেন, তাদের ফসলের ক্ষতি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।  বরং তাদের কাছ থেকে বীজ নিয়ে ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবেন অন্য কৃষকরা।

কৃষকরা জানান, অতিবৃষ্টি ও বন্যায় ডুববে না।  সেচের প্রয়োজন পড়বে না।  কীটনাশক ছিটাতে হবে না।  এমনকি সারেরও প্রয়োজন হবে না।  এমন বীজতলা এত দিন ছিল কৃষকদের স্বপ্নে।  সেই স্বপ্নের বীজতলা বাস্তবেই তৈরি করছেন তারা। 

বন্যা ও বৃষ্টির জন্য যেসব এলাকার বীজতলা পানিতে ডুবে আছে, সেসব জায়গায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় কলাগাছের ভেলায় ভাসমান বীজতলা তৈরি করে চারা উৎপাদন করে সফল হয়েছেন কৃষকরা।  এই আমনের চারা রোপনকারী কৃষকদের চাহিদা পূরণ করে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝেও বিতরণ করা হয়।

ঝালকাঠি সদর উপজেলার চর ভাটারাকান্দা গ্রামের কৃষক হেমায়েত হোসেন বলেন, আমি কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে চারটি বেডে ভাসমান বীজতলা করেছি।  এ বীজ এখন বপণ করছি।  বন্যায় ক্ষেতে যে জলাবব্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, সেখানেই এ বীজতলা করা হয়।  এখন পানি কমে গেছে, তাই বীজ বপণ শুরু করেছি।

জেলার নলছিটি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইসরাত জাহান মিলি বলেন, আমরা বন্যার সময় মাঠে গিয়ে কৃষকের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছি।  কৃষকরা যাতে ভাসমান বেডে বীজতলা করতে এ জন্য তাদের আর্থিক সহায়তা করা হয়েছে। এখন ভাসমান বেডের বীজতলা দিয়েই তাদের ক্ষতি পুষিয়ে উঠবে।

ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ফজলুল হক বলেন, ঝালকাঠি জেলায় আমরা ১২০টি ভাসমান বেডে আমনের বীজ করার জন্য কৃষকদের নগদ টাকা দিয়েছি।  তারা বীজতলা তৈরি করে সফলতা পেয়েছেন।  সরকারের উচিত এ ধরণের বীজতলা করার জন্য আরো বেশি বরাদ্দ দেওয়ার।  কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা গেলে নিজেরাই পরে ভাসমান বেডে বীজতলা করবেন।

অলোক সাহা/টিপু

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়