RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     বুধবার   ২০ জানুয়ারি ২০২১ ||  মাঘ ৬ ১৪২৭ ||  ০৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

জলাবদ্ধ জমিতে উন্নত জাতের ধান চাষ করে পাউবোর সাফল্য

মাগুরা সংবাদাদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:০২, ৬ নভেম্বর ২০২০  
জলাবদ্ধ জমিতে উন্নত জাতের ধান চাষ করে পাউবোর সাফল্য

মাগুরায় বিল অঞ্চলের জমিকে জলাবদ্ধতা মুক্ত করে এক ফসলি থেকে তিন ফসলিতে রূপান্তর করে উন্নত জাতের ধান চাষ করে সাফল্য পেয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

পাউবো'র দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সমন্বিত পানি সম্পদ পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় কালিদাসখালি আড়পাড়া উপ প্রকল্পে কৃষি বিভাগের সহায়তায় জেলার শালিখা উপজেলায় বিভিন্ন বিল এলাকায় ব্রি ধান-৭৫ ও বিনা-ধান ১৭ চাষ করে স্বাভাবিকের তুলনায় অধিক ফসল পেয়ে কৃষকরা উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।

মাগুরা জেলার শালিখায় এ প্রকল্পের অধীনে মোট ১২ হাজার ৭০৪ হেক্টর জমি পানি ব্যবস্থাপনার আওতায় আসায় ১২ হাজার ৬৯৩ জন কৃষক অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) শালিখা উপজেলার বুনাগাতি, শতখালি ও ধনেশ্বরগাতি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও কৃষি বিভাগের যৌথ সহায়তায় শালিখা উপজেলার বিভিন্ন বিল অঞ্চলের কৃষকদের মাঝে উচ্চ ফলনশীল জাতের চিকন ধান ব্রি-৭৫, বিনা-১৭ ধান চাষ করে কৃষকরা ফলন পেয়েছে স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। 

অন্যদিকে স্বল্প পানি ও পরিমিত সারের ব্যবহারের পাশাপাশি সঠিক বালাই ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদেরকে গড়ে তোলা হচ্ছে দক্ষ কৃষক হিসেবে। ফলে অন্যরাও আগামীতে এ ধরনের উচ্চ ফলনশীল জাতের চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

এ এলাকার  মুন্তাজ বিশ্বাস, মন্মথ রায়, আকলিমা বেগমসহ একাধিক কৃষক জানান- পানি উন্নয়ন বোর্ডের এ প্রকল্পের মাধ্যমে এক ফসলি জমিকে তিন ফসলিতে রূপান্তর করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সময় উপযোগী উন্নত জাতের ধান ও চৈতালী ফসলের বীজ সরবরাহের ফলে কৃষকরা উপকৃত হচ্ছেন। এক সময়ের জলাবদ্ধ জমিতে প্রতি হেক্টরে প্রায় সাড়ে ৫ মেট্রিকটন ধান উৎপাদন করতে পেরে কৃষক-কৃষানিরাও উচ্ছসিত।

এ প্রসঙ্গে দীঘলগ্রাম পানি ব্যবস্থাপনা সমিতির সভাপতি নিখিল মিত্র জানান, কৃষকদের বিভিন্ন দলে সংগঠিত করার কারণে কৃষকরা তাদের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে পারছেন। একই সঙ্গে সমিতির মাধ্যমে বিষয়গুলি নিয়ে বিভিন্ন মহলের সাথে দেন দরবারের মাধ্যমে নিজেদের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে কাজ করতে পারছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-প্রকল্প পরিচালক হাফিজুর রহমান বলেন, এক ফসলি জমিকে সঠিক পানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন করে জমিকে তিন ফসলিতে রূপান্তরের মাধ্যমে জনগণের আর্থ সামাজিক উন্নয়নকে তরান্বিত করতে পানি উন্নয়ন বোর্ড এ প্রকল্প নিয়েছে। 

মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক  সুশান্ত কুমার প্রামানিক বলেন, এ ধরনের প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষির উন্নয়নে কৃষি বিভাগের পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।  এরফলে সরকারের দারিদ্র বিমোচনের সমন্বিত কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে।  

শাহীন/টিপু

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়