ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ মাঘ ১৪২৬, ২১ জানুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

স্টেজে যাব, সব ফেলে দিব : মাবিয়া

ক্রীড়া প্রতিবেদক, নেপাল থেকে : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১২-০৮ ৬:০৮:২০ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১২-০৮ ৩:০০:০৭ পিএম
মাবিয়া আক্তার সীমান্ত

ব্যাক টু ব্যাক সোনা জিতেছেন ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত। ২০১৬ সালে ভারতের গৌহাটি ও শিলংয়ে ৬৩ কেজি ওজন শ্রেণিতে সোনা জিতে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি। চার বছরে তার বদলেছে অনেক কিছু। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে ওজনও। তাইতো ওজন শ্রেণি বদলে এবার তিনি লড়েছেন ৭৬ কেজিতে। যেখানে শ্রীলঙ্কার প্রায়ন্থি ও নেপালের তারা দেবী পুন ভালোই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন তাকে। কিন্তু সময় ও ওজন বদলালেও মাবিয়া তার পদকের রঙ বদলাতে দেননি। আবারো জিতে নিয়েছেন সোনা। তার এই জয়ের মধ্য দিয়ে এবারের এসএ গেমসে বাংলাদেশের টানা চারদিনের সোনার পদকের খরা কাটে।

দিন শেষে লড়াকু এই ভারোত্তোলক কথা বলেছেন রাইজিংবিডির জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক আমিনুল ইসলামের সঙ্গে। সেগুলো রাইজিংবিডির পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল :

প্রশ্ন : ওজন শ্রেণি বদলে খেলেছেন। এখানে কতটুকু চ্যালেঞ্জ ছিল?
মাবিয়া :
হ্যাঁ, একটু চ্যালেঞ্জ তো ছিল বটেই। চার বছরের ব্যবধানে বয়সের সাথে সাথে ওজনও বাড়াটা স্বাভাবিক। এটা আমার কাছে রিস্ক মনে হয়নি। রিস্ক মনে হয়েছে দেশকে ঠিকমতো প্রতিনিধিত্ব করতে পারবো কি না, দেশকে সাফল্য এনে দিতে পারবো কি না, এটা নিয়ে। অবশেষে পেরেছি। তবে খেলার আগে মনে হয়েছিল আমি পারবো না। আত্মবিশ্বাস পুরোপুরি ছিল না। সেটা ফিরিয়ে আনার কৃতিত্ব আমার কোচের। এটা আমার রেকর্ড পারফরম্যান্স। কারণ, এর আগে আমি এই পারফরম্যান্স কখনও কোথাও শো করিনি।’ 

প্রশ্ন : ভারত এবার অংশ নেয়নি এই ওজন শ্রেণিতে। তাতে কী প্রতিদ্বন্দ্বিতা সহজ মনে হয়েছে?
মাবিয়া :
না, এমনটা মনে করছি না। আমরা সবাই ভারতকে নিয়ে মাথা ঘামালেও শ্রীলঙ্কা কিন্তু অনেক ভাল খেলেছে। তারা কিন্তু মোটেও পিছিয়ে নেই। তাদের হারিয়েই আমাকে জিততে হয়েছে। তাদেরকে মোটেও গোণার বাইরে রাখা যাবে না। অসাধারণ খেলেছে তারা। আপনি তো ভেন্যুতে বসে দেখেছেন শ্রীলঙ্কার মেয়েটা কিভাবে ফাইট দিচ্ছিল। তার অ্যাপ্রোচ তো ভয়ঙ্কর ছিল। ঠিক যেন তামিল টাইগার।

প্রশ্ন : সকালে কী মনে হয়েছিল?
মাবিয়া :
সকালে যখন ভেন্যুতে এসেছিলাম, তখন হাঁটু কাঁপছিল। ভাবছিলাম হয়তো স্টেজে যাব, সব ফেলে দিব। কারণ, আমি নিজের প্রতি নিজে কনফিডেন্ট ছিলাম না। একমাত্র আমার কোচ আমার প্রতি কনফিডেন্ট ছিল।

প্রশ্ন : রাতে ঘুম হয়েছিল?
মাবিয়া :
এটা হয় না স্বাভাবিক। ম্যাচের দুইদিন আগ থেকেই আমি ঘুমাতে পারছিলাম না। বিশেষ করে যখন শুনছিলাম যে মানুষ আমাকে নিয়ে অনেক প্রত্যাশা করছে। তার উপর গেল চারদিনে বাংলাদেশ কোনো সোনা পায়নি।

প্রশ্ন : এবারও কান্না করেছিলেন? এটা কী সুখের কান্না?
মাবিয়া :
আসলে দেশ আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। দেশকে কিছু দিতে পারলে ভালো লাগে। আর কিছু দেওয়ার সঙ্গে যখন জাতীয় সঙ্গীত জড়িত থাকে, তখন এমনিতেই চোখে পানি চলে আসে।

প্রশ্ন : এসএ গেমসে ব্যাক টু ব্যাক দুইবার সোনা জেতা হল। পরবর্তী টার্গেট কী?
মাবিয়া :
আমরা যদি আমাদের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা পাই তাহলে যেকোনো প্রতিযোগিতা থেকেই পদক এনে দিতে পারব বাংলাদেশকে। কারণ, যদি আমরা চার-পাঁচ মাস ক্যাম্প করে সোনা জিততে পারি তাহলে দুই বছর ক্যাম্প করলে যেকোনো গেমস থেকেই সোনা এনে দিতে পারব। আমার পরবর্তী টার্গেট অলিম্পিক।

 

পোখরা/আমিনুল