Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৩ এপ্রিল ২০২১ ||  চৈত্র ৩০ ১৪২৭ ||  ২৮ শা'বান ১৪৪২

ক্রিকেট-খোখো ছেড়ে তীর-ধনুকের সোনার রাজ্যে সোমা

আমিনুল ইসলাম, নেপাল থেকে || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৬:২৪, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
ক্রিকেট-খোখো ছেড়ে তীর-ধনুকের সোনার রাজ্যে সোমা

ছবি : আমিনুল ইসলাম

কম্পাউন্ড নারী ইভেন্টের এককের ফাইনাল। শ্রীলঙ্কার অনুরাধা করুনারত্নে ও বাংলাদেশের সোমা বিশ্বাসের লড়াইটা বেশ জমে উঠেছে। শেষ সেটে কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছে না। সমানে লড়াই এগিয়ে চলছে। শেষ শটে সোমা তুললেন ৯ পয়েন্ট। তাতে ২৭-২৭ পয়েন্টে ড্র হলেও আগের চার সেটের তিনটিতে এগিয়ে থাকায় সোমার সোনা জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। গ্যালারিতে তখন উল্লাস আর হর্ষধ্বনি থাকলেও সোমার মুখে হাসি নেই। মুখটি তার ভার।

আনুষ্ঠানিক ঘোষণা শেষে রেঞ্জ ছেড়ে সামনে আসতেই অঝোরে কাঁদতে শুরু করেন। তার কান্না যেন থামতেই চাইছিল না। তাকে জড়িয়ে ধরে বাংলাদেশ আর্চারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজীব উদ্দিন আহমেদ চপল চেষ্টা করেন শান্ত করতে। কিন্তু সোমার কান্না থামে না। কথা বলতেও পারছেন না।

তখন চপল বলেন, ‘মিরপুর বাংলা কলেজে ওর ডিগ্রি পরীক্ষা ছিল। সে এখানে আসতে চায়নি। কিন্তু আমরা বলেছি তুমি পরীক্ষা দাও। প্রয়োজনে আমরা পুরো দল নিয়ে পরে যাব নেপাল। কিন্তু তোমাকে ছাড়া যাব না। ওর পরীক্ষার কারণে আমরা দুদিন ফ্লাইট পিছিয়ে এখানে এসেছি। সে কারণে ওর মন খারাপ ছিল। কিন্তু ওর প্রতি আমাদের বিশ্বাস ছিল। সেটার মর্যাদা রেখেছে।’

স্বাভাবিক হওয়ার পর জানা গেল সোমার খেলাধুলার শুরুটা আর্চারি দিয়ে হয়নি। প্রথমে তিনি শুরু করেছিলেন খোখো দিয়ে। খোখো খেলেছেন তিন-চার বছর। এরপর ক্রিকেটে হাতেখাড়ি হয় তার। এক বছরের মতো ক্রিকেট খেলেছেন। এরপর ২০০৯ সালে আর্চারির ট্রেনিং ক্যাম্পে অংশ নিয়ে বদলে যায় তার খেলাধুলার গতিপথ। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। আর্চারিতে ভালো করে আনসারে চাকরি পেয়েছেন। যে কোচের হাত ধরে আর্চারিতে হাতেখড়ি তার তত্ত্বাবধানেই আনসারে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এবার প্রথমবার এসএ গেমসে অংশ নিয়ে জিতলেন সোনা।

স্মৃতিচারণ করে সোমা বলেছেন, ‘আমি আর্চারি সম্পর্কে আসলে কিছু জানতাম না। শুরুতে আমি বিএনসিসির হয়ে খোখো খেলতাম। খোখো খেলার পরে আমি এক বছর ক্রিকেট খেলেছি। খেলাধুলার সঙ্গে ছোটবেলা থেকেই সম্পৃক্ত ছিলাম। ক্রিকেট খেলা শুরু করার পর আমার কলেজের ঢালী স্যার আমার ভাইকে বললেন যে আনোয়ার ওকে আর্চারিতে দাও। আর্চারিতে ও ভালো করবে। ২০০৯ সালের দিকে জাতীয় মহিলা কমপ্লেক্সে একটা আর্চারির ক্যাম্প হয়েছিল। সেখানে আনসারের বাবুল স্যার ক্যাম্প করাচ্ছিলেন। তার তত্ত্বাবধানে আমি সাতদিন আর্চারি অনুশীলন করি।’

তবে শুরুটা ছিল ঝামেলাপূর্ণ। যখন ক্যাম্প শুরু হয় তখন সোমার স্কুলেও শুরু হয় টেস্ট পরীক্ষা। প্রধান শিক্ষক সাফ জানিয়ে দেন পরীক্ষায় অংশ না দিলে ছাড়পত্র দিয়ে স্কুল থেকে বের করে দিবেন। কিন্তু কিছু ভালো শিক্ষকের সহায়তায় একবেলা পরীক্ষা দিয়ে ও অন্য বেলা ক্যাম্প করেন সোমা। এভাবে আধাবেলা অনুশীলন করে মাত্র সাতদিনেই তিনি নিজের জাত চেনান।

সোমা বলেন, ‘তখনও একটা ঝামেলা হয়েছিল। ক্যাম্প চলাকালিন তখন আবার ক্লাস টেস্ট চলছিল। হেড স্যার বলছিলেন যে পরীক্ষা না দিলে তোমাকে টিসি দিয়ে বের করে দিব। পরে আমার ভাই তাকে বুঝিয়ে বলেন যে ও পরীক্ষাও দিবে, ক্যাম্পও করবে। তখন খুব চাপ যাচ্ছিল আমার উপর দিয়ে। আমি সাইন্সে ছিলাম। সাইন্সের ফিজিক্স, ক্যামেস্ট্রি স্যাররা আমাকে খুব আদর করতেন। তারা হেড স্যারকে না জানিয়ে শুক্রবারও আমার পরীক্ষা নিয়েছেন। তারা আমার ভাইকে ফোন করে বলেছেন যে আনোয়ার আজ তো শুক্রবার, সোমার ক্যাম্প নেই। ওকে আজ নিয়ে আসো আমরা ওর ফিজিক্স ও ক্যামেস্ট্রি পরীক্ষা দুটো একসঙ্গে নিয়ে নিই। তখন পরীক্ষা দিয়ে ও একবেলা ক্যাম্প করেও আমি পঞ্চম হই। তখন থেকেই আমার আর্চারির যাত্রা শুরু হয়।’

সেই থেকে আর্চারির প্রেমে পড়েন তিনি। খেলাটা তার দিলে বসে যায়, ‘তখন থেকে আমি আর্চারির প্রেমে পড়ে যাই। খেলাটা আমার দিলে বসে যায়। আর্চারি আমাদের ঐতিহ্যবাহী খেলা। শান্ত-শিষ্ট একটি খেলা। যেখানে নীরবতা ও মনোযোগের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে খায়েল করা যায়।’

সোমার পৈত্রিক নিবাস মাগুরায়। কিন্তু তারা থাকেন ঢাকায়। তিন বোন, এক ভাই। বাবা সরকারি চাকরি করেন। মা গৃহিণী। সোমা ২০০৯ সালে আর্চারি শুরু করার পর ২০১৪ সালে বাংলাদেশ আনসার থেকে ভাতা পেতে শুরু করেন। এরপর সেখানে চাকরিও পেয়ে যান। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে দলগত ইভেন্টে সোনা জিতেন তিনি। আর ব্যক্তিগত ইভেন্টে রূপা।

এসএ গেমসে আসার আগে যে বাছাই হয়েছিল সেখানে তিনি চতুর্থ হয়েছিলেন। আর চতুর্থ হয়ে নেপালে এসে জিতে নিয়েছেন সোনা। খেখো-ক্রিকেট ছেড়ে তীর-ধনুকের সোনার রাজ্যে হয়ে গেছেন স্বর্ণ কন্যা। তাদের হাত ধরে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ আর্চারিতে পেয়েছে দশে দশ সোনা। সোমার দৃষ্টি বহুদূর। তার আগে ট্রায়ালের বাঁধা পেরুতে চান প্রতিবার। যে বাধা পেরিয়ে তিনি এসএ গেমসে সোনা জিতেছেন, সেটার সামনে হয়তো ট্রায়ালের বাধা নস্যি।

 

কাঠমান্ডু/আমিনুল

রাইজিংবিডি.কম

আরো পড়ুন  

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়

শিরোনাম

Bulletলকডাউন: ১৪-২১ এপ্রিল। যা যা চলবে: ১. বিমান, সমুদ্র, নৌ ও স্থল বন্দর এবং তৎসংশ্লিষ্ট অফিস। ২. পণ্য পরিবহন, উৎপাদন ব্যবস্থা ও জরুরি সেবাদানের ক্ষেত্রে এ আদেশ প্রযোজ্য হবে না ৩. শিল্প-কারখানা ৪. আইনশৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিসেবা, যেমন, কৃষি উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস/জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরগুলোর (স্থল, নদী ও সমুদ্রবন্দর) কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাক সেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহ, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতা বর্হিভূত থাকবে। ৫. ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ৬. খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কেবল খাদ্য বিক্রয়/সরবরাহ করা যাবে। ৭. কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে || যা যা বন্ধ থাকবে: ১. সব সরকারি, আধাসরকারি, সায়ত্ত্বশাসিত ও বেসরকারি অফিস, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে ২. সব ধরনের পরিবহন (সড়ক, নৌ, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট) বন্ধ থাকবে ৩. শপিংমলসহ অন্যান্য দোকান বন্ধ থাকবে