বাবা মারা যাওয়ার পর পারিবারিকভাবে বসে খোলা বণ্টননামা দলিলের মাধ্যমে জমি ভাগ করে নিয়েছিলেন তিন ভাই। সবার সম্মতিতেই নির্ধারণ হয়েছিল সীমানা। এরপর নিজেদের অংশে ঘর তুলেছেন, গাছ লাগিয়েছেন, সন্তানদের বড় করেছেন। বছরের পর বছর কেটে গেছে কোনো বড় ধরনের বিরোধ ছাড়াই। তবে, সময়ের সঙ্গে সেই জমির এক টুকরো অংশই যেন বদলে দিয়েছে সব হিসাব।
গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার বহেরারচালা এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম মাস্টারের দাবি, সম্প্রতি তার দুই বড় ভাই আবুল হাসেম ও জোলাল উদ্দিন বৃদ্ধা মায়ের অংশের জমি নিজেদের নামে বুঝে নেন। সেই প্রক্রিয়ায় তার ভোগদখলীয় জমির সামনের অংশও চলে যায় তাদের নিয়ন্ত্রণে। বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তুললে শুরু হয় পারিবারিক বিরোধ। স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা সালিশ বৈঠক হয়েছে। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সমাধানের চেষ্টা করেছেন। কোনো পক্ষই নিজেদের অবস্থান থেকে সরে না আসায় বিরোধ আরো গভীর হতে থাকে।
রফিকুল ইসলামের অভিযোগ, বিরোধের জেরে গত মঙ্গলবার (২ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার দুই ভাই, ভাগ্নে রাসেল এবং তাদের কয়েকজন সহযোগী তার জমিতে প্রবেশ করেন। রাতের নিস্তব্ধতায় টিনের ঘর খুলে নেওয়া হয়, উপড়ে ফেলা হয় বিভিন্ন গাছপালা। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গেলে তাকে বাধা দেওয়া হয় এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলেও অভিযোগ করেন।
তার ভাষ্য, বহু বছরের শ্রমে গড়ে তোলা সম্পদ মুহূর্তের মধ্যে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এতে তার প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ঘটনার পর বৃহস্পতিবার (৪ জুন) শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন রফিকুল ইসলাম মাস্টার। অভিযোগে দুই ভাই, ভাগ্নে রাসেলসহ অজ্ঞাত আরো কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবুল হাসেম ও জোলাল উদ্দিন। তাদের দাবি, বৃদ্ধা মা স্বেচ্ছায় নিজের অংশের জমি তাদের বুঝিয়ে দিয়েছেন। এতে কোনো ধরনের প্রতারণা বা চাপ প্রয়োগের ঘটনা ঘটেনি।
শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, জমির সামনের অংশ নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ তদন্তে একজন উপ-পরিদর্শককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।