তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, “বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি ছিল সর্বত্র মিত্রতা গড়ে তোলা এবং কোনো শত্রু তৈরি না করা।”
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাজধানীর পিআইবি অডিটরিয়ামে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “১৯৭৪ সালে ভারতের রাষ্ট্রপতি সঞ্জীব রেড্ডি এক অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে শহীদ জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি দাবি করেন, ১৯৭৫ সালের আগে ও পরের রাজনৈতিক বাস্তবতায় শহীদ জিয়া এমন কোনো অবস্থান নেননি, যার কারণে ভারতের রাষ্ট্রপ্রধান তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন থেকে বিরত থাকতেন।”
তিনি বলেন, “শহীদ জিয়ার স্বাধীন ও নির্জোট পররাষ্ট্রনীতির মূল্যায়ন করতে হলে সামগ্রিক রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়, ভাষা, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের বিষয়গুলোও আলোচনায় স্থান পাওয়া প্রয়োজন।”
মন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে দেশের ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটেছে।”
ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে বাংলা ভাষায় ফার্সি ও উর্দু শব্দের প্রভাব এবং উপমহাদেশের ভাষা-রাজনীতির নানা দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, “ভাষা ও সংস্কৃতির প্রশ্নে ইতিহাসকে সমগ্রতা নিয়ে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।”
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “শহীদ জিয়া দ্বিপাক্ষিক সমস্যাগুলোকে আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।”
তিনি সার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বলেন, “বহুমাত্রিক জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে এগিয়ে চলার যে রাজনৈতিক দর্শন শহীদ জিয়া প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেটিই এখনো অনুসরণযোগ্য নীতি।”
তিনি আরো বলেন, “শহীদ জিয়ার সার্ক-কেন্দ্রিক বহুপাক্ষিক কূটনীতি এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির যে দর্শন, বর্তমান সরকারের কাছেও তা অনুসরণীয়। এ নীতি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সক্রিয়তা, স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় শক্তি অর্জনের দিকেও সরকার এগিয়ে যাচ্ছে।”