বর্তমান সরকারের প্রথম ১০০ দিনে দেশে খুনসহ বিভিন্ন অপরাধ উদ্বেগজনক হারে ঘটেছে উল্লেখ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছে, এ সময়ে দেশে ৬০৫টি খুন এবং ১৯৬টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে।
একইসময়ে দেশের ১৯ বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে দলীয় বিবেচনায় উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি।
রবিবার (৭ জুন) বেলা ১১টায় রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সরকারের ১০০ দিন: সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষন’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআইবি।
সরকারের একশ দিনের পর্যবেক্ষণে শিক্ষাখাত এবং অপরাধ ও মানবাধিকারের চিত্র তুলে ধরে এসব কথা বলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। এসময় উপস্থিত ছিলেন সংস্থাটির পরিচালক অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খানম, রাজিয়া সুলতানা, মো. জুলকরনাইন প্রমুখ।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে ‘অপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্র’ তুলে ধরে বলা হয়, মার্চ ও এপ্রিল মাসে মোট ৬০৫টি খুন, ২৯৪টি ছিনতাই, ৯০টি ডাকাতি এবং ১৯৬টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে।
একই সময়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে ১২৯টি এবং চুরির ঘটনা ঘটেছে ২ হাজার ২১৪টি। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ছিল ৩ হাজার ৪৯৬টি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আলোচিত সময়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৭৮ থেকে ১০২ জন, গণধর্ষণের শিকার ৩০ থেকে ৩৬ জন এবং ধর্ষণের শিকার শিশু ৪৯ থেকে ৭১ জন।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বর্তমান সরকারের ১০০ দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটা নাজুক ছিল। খুন, ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই, ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, লুটপাট ও অরাজকতার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।
শিক্ষাখাত নিয়ে টিআইবির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, দেশের ১৯ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো প্রকার নিয়ম কানুন না মেনে মেয়াদ শেষের আগেই এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাদের অব্যাহতি দেওয়ার কোনো কারণও উল্লেখ করা হয়নি।
পর্যবেক্ষণে তারা আরো জানায়, শিক্ষা খাতে সরকারের উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে- বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্য নিয়োগে সার্চ কমিটির পুনর্গঠন, প্রতি বছর বিদ্যালয়ে পুনরায় ভর্তি ফি বাতিল, লটারির পরিবর্তে বিদ্যালয়ে পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি, শিক্ষকদের প্রতিবন্ধী শিশুবিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলী নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।
সরকারের সমালোচনা করে তারা বলেছে, ক্ষমতাসীন দলের গুরত্বপূর্ণ পদে থাকা একজনকে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার, ডিন ও প্রভোস্ট পদে রাজনৈতিক বিবেচনায় পরিবর্তন, সরকার গঠনের পর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন, সংঘর্ষ ও সহিংসতা। উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা ইত্যাদি ইস্যুতে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র দুইটি ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।