রাজনীতি

জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত না হলে কাগুজে বাজেটের মূল্য নেই: চরমোনাই পীর

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন,“প্রস্তাবিত বাজেটের সুফল দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে, অন্যথায় বাজেটের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হবে না। জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত না হলে কাগুজে বাজেটের কোনো মূল্য নেই।”

সোমবার (৮ জুন) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আয়োজনে ‘বাংলাদেশের আগামী অর্থবছরের বাজেট: আমাদের ভাবনা ও জনগণের প্রত্যাশা' শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

গোলটেবিল বৈঠকে তিনি বলেন,“স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও উন্নয়নসহ প্রায় সব খাতে দুর্নীতি বিস্তার লাভ করেছে। জনগণের অর্থ সরকারের কাছে আমানত হিসেবে থাকে, কিন্তু বারবার সেই আমানতের খেয়ানত হয়েছে। ফলে বাংলাদেশ দুর্নীতির কারণে আন্তর্জাতিকভাবে নেতিবাচক পরিচিতি পেয়েছে।”

চরমোনাই পীর বলেন, “দেশের ঋণের বোঝা ক্রমাগত বাড়ছে। প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের প্রতিটি নাগরিকের মাথায় বড় অঙ্কের ঋণের বোঝা চাপছে।”

ইসলামী শরিয়াভিত্তিক ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “জবাবদিহিতা, নৈতিকতা ও আল্লাহভীতির মাধ্যমে দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব। প্রকৃত পরিবর্তন আনতে হলে ন্যায় ও আদর্শভিত্তিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”

ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রসঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বলেন, “বাংলাদেশে সকল ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। তবে ধর্মীয় প্রতীককে কেন্দ্র করে জনপরিসরে কোনো ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড যাতে সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট না করে, সে বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে।”

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন,“দেশকে সুন্দর, সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রে পরিণত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”

গোলটেবিল বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ডক্টর আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, “বাজেটে কওমী ও আলিয়া মাদ্রাসার জন্য উপবৃত্তি চালু করা, ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন ও গবেষণা খাতে বরাদ্দের দাবি জানাচ্ছি।”

আমলাতন্ত্রের জটিলতা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি  বলেন, “আমলাতন্ত্রের জন্য কোনো কাজই করা যায় না। এই জটিলতা রোধে শরীয়াহ বেজড সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা ছাড়া বিকল্প নাই।”

গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিতি ছিলেন বরগুনা-১ এর সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহ, চর্চার সম্পাদক সোহবার হোসেন, সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ, ক্যাবের কো-অর্ডিনেটর ইঞ্জিনিয়ার এম এ এম গোলাম কিবরিয়া, ইসলামিক চেম্বার অব কমার্সের সদস্য সচিব মাওলানা মোফাজ্জল ইবনে মাহফুজ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুল্লাহ নাসের, নিজাম গ্রুপের এমডি মোহাম্মাদ নিজাম উদ্দিন, জয় গ্রুপের চেয়ারম্যান মুজিবর রহমান শামীম।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আব্দুল কাইয়ুম, কেএম আতিকুর রহমান, মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরী, ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ, সহ প্রচার সম্পাদক কে এম শরীয়াতুল্লাহ, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ইমরান হোসেন নুর।